৯/২০. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ৫৬৪ - ইশার সালাত ও জীবনের সীমা
ইশা ও আতামাহর বর্ণনা এবং যিনি এতে কোনো আপত্তি করেন না।
قَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ أَثْقَلُ الصَّلَاةِ عَلَى الْمُنَافِقِينَ الْعِشَاءُ وَالْفَجْرُ وَقَالَ لَوْ يَعْلَمُونَ مَا فِي الْعَتَمَةِ وَالْفَجْرِ قَالَ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ وَالِاخْتِيَارُ أَنْ يَقُولَ الْعِشَاءُ لِقَوْلِهِ تَعَالَى ﴾وَمِنْ بَعْدِ صَلَاةِ الْعِشَاءِ﴿وَيُذْكَرُ عَنْ أَبِي مُوسَى قَالَ كُنَّا نَتَنَاوَبُ النَّبِيَّ ﷺ عِنْدَ صَلَاةِ الْعِشَاءِ فَأَعْتَمَ بِهَا وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ وَعَائِشَةُ أَعْتَمَ النَّبِيُّ ﷺ بِالْعِشَاءِ وَقَالَ بَعْضُهُمْ عَنْ عَائِشَةَ أَعْتَمَ النَّبِيُّ ﷺ بِالْعَتَمَةِ وَقَالَ جَابِرٌ كَانَ النَّبِيُّ ﷺ يُصَلِّي الْعِشَاءَ وَقَالَ أَبُو بَرْزَةَ كَانَ النَّبِيُّ ﷺ يُؤَخِّرُ الْعِشَاءَ وَقَالَ أَنَسٌ أَخَّرَ النَّبِيُّ ﷺ الْعِشَاءَ الْآخِرَةَ وَقَالَ ابْنُ عُمَرَ وَأَبُو أَيُّوبَ وَابْنُ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمْ صَلَّى النَّبِيُّ ﷺ الْمَغْرِبَ وَالْعِشَاءَ.আবূ হুরাইরা (রাঃ) নবী (ﷺ) হতে বর্ণনা করেছেন যে, মুনাফিকদের জন্য সবচেয়ে কষ্টকর সালাত হল ‘ইশা ও ফজর। তিনি আরও বলেছেন যে, তারা যদি জানতো, আতামা (‘ইশা) ও ফজরে কি কল্যাণ নিহিত আছে। ইমাম বুখারী (রহঃ) বলেন, ‘ইশা শব্দ ব্যবহার করাই উত্তম। কেননা, আল্লাহ তা‘আলা ইরশাদ করেন: “ইশা সালাতের পর” (সূরা আন-নূর ২৪/৫৮)।আবূ মূসা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেন, আমরা পালাক্রমে নবী (ﷺ)-এর এখানে ‘ইশার সালাতের সময় যেতাম। একবার তিনি তা দেরী করে আদায় করেন। ইবন ‘আব্বাস ও ‘আয়িশা (রাঃ) হতে (এরূপ) বর্ণনা করেন যে, নবী (ﷺ) ‘ইশা দেরী করে আদায় করেন। বর্ণনাকারীদের কেউ কেউ বলেন, নবী (ﷺ) ‘আতামাহকে দেরী করে আদায় করেন। জাবির (রাঃ) বলেন, নবী (ﷺ) ‘ইশার সালাত আদায় করলেন। আবূ বারযা (রাঃ) বলেন, নবী (ﷺ) ‘ইশার সালাত বিলম্বে আদায় করতেন। আনাস (রাঃ) বলেন, নবী (ﷺ) শেষ ‘ইশা বিলম্বে আদায় করলেন। ইবন ‘উমার, আবূ আইয়ূব ও ইবন ‘আব্বাস (রাঃ) বলেন, নবী (ﷺ) মাগরিব ও ‘ইশার সালাত আদায় করেন।"
ইশার সালাতের পর জীবনের সীমা নিয়ে নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর স্মরণ
সহীহ বুখারী : ৫৬৪
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ৫৬৪
حَدَّثَنَا عَبْدَانُ، قَالَ أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ، قَالَ أَخْبَرَنَا يُونُسُ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، قَالَ سَالِمٌ أَخْبَرَنِي عَبْدُ اللَّهِ، قَالَ صَلَّى لَنَا رَسُولُ اللَّهِ ﷺ لَيْلَةً صَلاَةَ الْعِشَاءِ ـ وَهْىَ الَّتِي يَدْعُو النَّاسُ الْعَتَمَةَ ـ ثُمَّ انْصَرَفَ فَأَقْبَلَ عَلَيْنَا فَقَالَ «أَرَأَيْتُمْ لَيْلَتَكُمْ هَذِهِ فَإِنَّ رَأْسَ مِائَةِ سَنَةٍ مِنْهَا لاَ يَبْقَى مِمَّنْ هُوَ عَلَى ظَهْرِ الأَرْضِ أَحَدٌ».
‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
এক রাতে আল্লাহর রাসূল (ﷺ) আমাদের নিয়ে ইশার সালাত আদায় করেন, যে সালাতকে লোকেরা ‘আতামা’ বলে থাকে। অতঃপর তিনি ফিরে আমাদের দিকে মুখ করে বললেন, আজকের এ রাত সম্পর্কে তোমরা জান কি? এ রাত হতে নিয়ে একশ বছরের শেষ মাথায় আজ যারা ভূপৃষ্ঠে আছে তাদের কেউ অবশিষ্ট থাকবে না।
সহীহ বুখারী হাদিস ৫৬৪-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল বিষয় হলো ইশার সালাত ও জীবনের সীমা স্মরণ। এক রাতে আল্লাহর রসূল (صلى الله عليه وسلم) সাহাবীদের নিয়ে ইশার সালাত আদায় করেন, যে সালাতকে লোকেরা আতামা বলত। সালাত শেষে তিনি সাহাবীদের দিকে মুখ করে বলেন, এই রাত থেকে একশ বছরের শেষে আজ যারা পৃথিবীতে আছে তাদের কেউ অবশিষ্ট থাকবে না। এই বর্ণনায় মানুষের জীবন যে সীমিত—সে বিষয়টি খুব শক্তভাবে মনে করিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে এখানে ভয় দেখানোর ভাষা নয়; বরং সময়ের বাস্তবতা বোঝার শিক্ষা আছে। যারা ইশার সালাতের হাদিস, আতামা নামাজ, বা জীবনের সীমা নিয়ে নবীজির কথা খুঁজছেন, তাদের জন্য এই হাদিস গুরুত্বপূর্ণ। হাদিসে যা আছে, ব্যাখ্যাও তার মধ্যেই সীমাবদ্ধ।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- মানুষের জীবন সীমিত—এই সত্য মনে রাখা দরকার।
- ইশার সালাতের পর নবী (صلى الله عليه وسلم) সাহাবীদের গুরুত্বপূর্ণ কথা বলেছেন।
- সালাতের পর শিক্ষা গ্রহণের পরিবেশ তৈরি হতে পারে।
- সময়ের মূল্য বুঝে জীবনকে দায়িত্বশীলভাবে দেখা উচিত।
