৯/২৪. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ৫৭১ - ইশা বিলম্বে উম্মতের কষ্ট
ঘুম প্রবল হলে ইশার পূর্বে ঘুমানো।
ইশা বিলম্ব ও উম্মতের কষ্ট: নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর সহজতার শিক্ষা
সহীহ বুখারী : ৫৭১
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ৫৭১
وَقَالَ سَمِعْتُ ابْنَ عَبَّاسٍ، يَقُولُ أَعْتَمَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لَيْلَةً بِالْعِشَاءِ حَتَّى رَقَدَ النَّاسُ وَاسْتَيْقَظُوا، وَرَقَدُوا وَاسْتَيْقَظُوا، فَقَامَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ فَقَالَ الصَّلاَةَ. قَالَ عَطَاءٌ قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ فَخَرَجَ نَبِيُّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَأَنِّي أَنْظُرُ إِلَيْهِ الآنَ، يَقْطُرُ رَأْسُهُ مَاءً، وَاضِعًا يَدَهُ عَلَى رَأْسِهِ فَقَالَ " لَوْلاَ أَنْ أَشُقَّ عَلَى أُمَّتِي لأَمَرْتُهُمْ أَنْ يُصَلُّوهَا هَكَذَا ". فَاسْتَثْبَتُّ عَطَاءً كَيْفَ وَضَعَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم عَلَى رَأْسِهِ يَدَهُ كَمَا أَنْبَأَهُ ابْنُ عَبَّاسٍ، فَبَدَّدَ لِي عَطَاءٌ بَيْنَ أَصَابِعِهِ شَيْئًا مِنْ تَبْدِيدٍ، ثُمَّ وَضَعَ أَطْرَافَ أَصَابِعِهِ عَلَى قَرْنِ الرَّأْسِ ثُمَّ ضَمَّهَا، يُمِرُّهَا كَذَلِكَ عَلَى الرَّأْسِ حَتَّى مَسَّتْ إِبْهَامُهُ طَرَفَ الأُذُنِ مِمَّا يَلِي الْوَجْهَ عَلَى الصُّدْغِ، وَنَاحِيَةِ اللِّحْيَةِ، لاَ يُقَصِّرُ وَلاَ يَبْطُشُ إِلاَّ كَذَلِكَ وَقَالَ " لَوْلاَ أَنْ أَشُقَّ عَلَى أُمَّتِي لأَمَرْتُهُمْ أَنْ يُصَلُّوا هَكَذَا ".
‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
ইবনু জুরায়জ (রহঃ) বলেন, এ বিষয়ে আমি আতা (রহঃ)-কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন, আমি ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি যে, এক রাতে আল্লাহর রাসূল (ﷺ) ইশার সালাত আদায় করতে দেরি করেছিলেন, এমন কি লোকজন একবার ঘুমিয়ে জেগে উঠল, আবার ঘুমিয়ে পড়ে জাগ্রত হলো। তখন ‘উমর ইবনু খাত্তাব (রাঃ) উঠে গিয়ে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-কে বললেন, ‘আস-সালাত’।‘আত্বা (রহঃ) বলেন যে, ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বর্ণনা করেছেন, অতঃপর আল্লাহর নবী (ﷺ) বেরিয়ে এলেন- যেন এখনো আমি তাঁকে দেখছি- তাঁর মাথা হতে পানি টপকে পড়ছিলো এবং তাঁর হাত মাথার উপর ছিলো। তিনি এসে বললেনঃ যদি আমার উম্মতের জন্য কষ্টকর হবে বলে মনে না করতাম, তাহলে তাদেরকে এভাবে (বিলম্ব করে) ইশার সালাত আদায় করার নির্দেশ দিতাম।ইবনু জুরায়জ (রহঃ) বলেন, ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)-এর বর্ণনা অনুযায়ী আল্লাহর রাসূল (ﷺ) যে মাথায় হাত রেখেছিলেন তা কীভাবে রেখেছিলেন, বিষয়টি সুস্পষ্ট করে ব্যাখ্যা করার জন্য আতা (রহঃ)-কে বললাম। আতা (রহঃ) তাঁর আঙ্গুলগুলো সামান্য ফাঁক করলেন, অতঃপর সেগুলোর অগ্রভাগ সম্মুখ দিক হতে (চুলের অভ্যন্তরে) প্রবেশ করালেন।অতঃপর অঙ্গুলিগুলো একত্রিত করে মাথার উপর দিয়ে এভাবে টেনে নিলেন যে, তাঁর বৃদ্ধাঙ্গুলি কানের সে পার্শ্বকে স্পর্শ করে গেলো যা মুখমণ্ডল সংলগ্ন চোয়ালের হাড্ডির উপর শ্মশ্রুর পাশে অবস্থিত। তিনি (নবী (ﷺ)) চুলের পানি ঝরাতে কিংবা চুল চাপড়াতে এমনই করতেন। এবং তিনি বলেছিলেনঃ যদি আমার উম্মতের জন্য কষ্টকর হবে বলে মনে না করতাম, তাহলে তাদেরকে এভাবেই (বিলম্ব করে) সালাত আদায় করার নির্দেশ দিতাম।
সহীহ বুখারী হাদিস ৫৭১-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল বিষয় হলো ইশার সালাত বিলম্ব এবং উম্মতের কষ্ট বিবেচনা। ইবনু আব্বাস (রাঃ) বর্ণনা করেছেন, এক রাতে নবী (صلى الله عليه وسلم) ইশার সালাত দেরি করেন। মানুষ ঘুমিয়ে জাগে, আবার ঘুমায়, আবার জাগে। উমর (রাঃ) সালাতের কথা স্মরণ করিয়ে দেন। এরপর নবী (صلى الله عليه وسلم) বেরিয়ে আসেন, তাঁর মাথা থেকে পানি পড়ছিল এবং হাত মাথার উপর ছিল। তিনি বলেন, যদি আমার উম্মতের জন্য কষ্টকর হবে বলে মনে না করতাম, তাহলে তাদেরকে এভাবে ইশার সালাত আদায় করতে নির্দেশ দিতাম। এই হাদিসে ইশা দেরিতে পড়ার ফজিলত বা পছন্দের দিক বোঝা যায়, কিন্তু একই সঙ্গে উম্মতের কষ্টের বিষয়ও স্পষ্ট। তাই ব্যাখ্যার মূল কথা হলো—নবী (صلى الله عليه وسلم) ইবাদতের ভালো দিক জানতেন, আবার মানুষের কষ্টও বিবেচনা করতেন।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- নবী (صلى الله عليه وسلم) উম্মতের কষ্টের বিষয় গভীরভাবে বিবেচনা করতেন।
- ইশা দেরিতে আদায়ের একটি বিশেষ বর্ণনা এখানে এসেছে।
- মানুষের ঘুম ও ক্লান্তির বাস্তবতাও হাদিসে দেখা যায়।
- ইবাদতের ক্ষেত্রে সহজতা ও দয়ার দিক স্পষ্ট হয়।
