৩/৭. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ৬৪ - কিসরার কাছে রাসূলের চিঠি
শায়খ কর্তৃক ছাত্রকে হাদিসের কিতাব প্রদান এবং আলিম কর্তৃক ইলমের কথা লিখে বিভিন্ন দেশে প্রেরণ।
وَقَالَ أَنَسُ بْنُ مَالِكٍ نَسَخَ عُثْمَانُ بْنُ عَفَّانَ الْمَصَاحِفَ فَبَعَثَ بِهَا إِلَى الْآفَاقِ وَرَأَى عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ وَيَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ وَمَالِكُ بْنُ أَنَسٍ ذَلِكَ جَائِزًا وَاحْتَجَّ بَعْضُ أَهْلِ الْحِجَازِ فِي الْمُنَاوَلَةِ بِحَدِيثِ النَّبِيِّ ﷺ حَيْثُ كَتَبَ لِأَمِيرِ السَّرِيَّةِ كِتَابًا وَقَالَ لَا تَقْرَأْهُ حَتَّى تَبْلُغَ مَكَانَ كَذَا وَكَذَا فَلَمَّا بَلَغَ ذَلِكَ الْمَكَانَ قَرَأَهُ عَلَى النَّاسِ وَأَخْبَرَهُمْ بِأَمْرِ النَّبِيِّ ﷺ.আনাস (রাঃ) বলেন, ‘উসমান (রাঃ) কুরআনের বহু কপি তৈরি করিয়ে বিভিন্ন দেশে প্রেরণ করেন। ‘আবদুল্লাহ ইবন ‘উমার (রাঃ), ইয়াহইয়া ইবন সা‘ঈদ ও মালিক (রহঃ) এটাকে জায়েয মনে করেন। কোনো কোনো হিজাযবাসী ছাত্রকে হাদীস বর্ণনার অনুমতি প্রদানের ব্যাপারে নবী (ﷺ)-এর এ হাদীস দিয়ে দলীল পেশ করেন যে, তিনি একটি সেনাদলের প্রধানকে একখানি পত্র দেন এবং তাঁকে বলে দেন, অমুক অমুক স্থানে না পৌঁছা পর্যন্ত এটা পড়ো না। অতঃপর তিনি যখন সে স্থানে পৌঁছলেন, তখন লোকের সামনে তা পড়ে শোনান এবং আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-এর ফরমান তাদেরকে জানান।
কিসরার কাছে রাসূলের চিঠি: দাওয়াত ও সম্মানের শিক্ষা
সহীহ বুখারী : ৬৪
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ৬৪
حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ حَدَّثَنِي إِبْرَاهِيمُ بْنُ سَعْدٍ، عَنْ صَالِحٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُتْبَةَ بْنِ مَسْعُودٍ، أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَبَّاسٍ، أَخْبَرَهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ بَعَثَ بِكِتَابِهِ رَجُلاً، وَأَمَرَهُ أَنْ يَدْفَعَهُ إِلَى عَظِيمِ الْبَحْرَيْنِ، فَدَفَعَهُ عَظِيمُ الْبَحْرَيْنِ إِلَى كِسْرَى، فَلَمَّا قَرَأَهُ مَزَّقَهُ. فَحَسِبْتُ أَنَّ ابْنَ الْمُسَيَّبِ قَالَ فَدَعَا عَلَيْهِمْ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ أَنْ يُمَزَّقُوا كُلَّ مُمَزَّقٍ.
‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আল্লাহর রাসূল (ﷺ) জনৈক ব্যক্তিকে তাঁর চিঠি দিয়ে পাঠালেন এবং তাকে বাহরাইনের গভর্নর-এর নিকট তা পৌঁছে দেয়ার নির্দেশ দিলেন। অতঃপর বাহ্রাইনের গভর্নর তা কিস্রা (পারস্য সম্রাট)-এর নিকট দিলেন। পত্রটি পড়ার পর সে ছিঁড়ে টুকরো টুকরো করে ফেলল। [বর্ণনাকারী ইব্নু শিহাব (রহঃ) বলেন] আমার ধারণা ইব্নু মুসায়্যাব (রহঃ) বলেছেন, (এ ঘটনার খবর পেয়ে) আল্লাহর রাসূল (ﷺ) তাদের জন্য বদদু‘আ করেন যে, তাদেরকেও যেন সম্পূর্ণরূপে টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়।
সহীহ বুখারী হাদিস ৬৪-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূল (صلى الله عليه وسلم)-এর চিঠি পাঠানোর ঘটনা এসেছে। তিনি একজন ব্যক্তিকে চিঠি দিয়ে বাহরাইনের গভর্নরের কাছে পৌঁছাতে বললেন। এরপর বাহরাইনের গভর্নর সেই পত্র কিসরার কাছে দিলেন। কিসরা পত্রটি পড়ার পর তা ছিঁড়ে টুকরো টুকরো করে ফেলল। বর্ণনাকারী বলেন, তাঁর ধারণা অনুযায়ী ইবনু মুসাইয়্যাব (রহঃ) বলেছেন, এ খবর পেয়ে রাসূল (صلى الله عليه وسلم) তাদের জন্য বদদোয়া করেন—তাদেরকেও যেন টুকরো টুকরো করে দেওয়া হয়। এখানে মূল বিষয় হলো, রাসূলের পত্র ও দাওয়াতের প্রতি আচরণ। “কিসরা চিঠি ছিঁড়ে ফেলা” ঘটনা থেকে বোঝা যায়, নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর বার্তাকে অসম্মান করা খুব গুরুতর বিষয় ছিল। তবে হাদিসে যতটুকু এসেছে, ব্যাখ্যাও ততটুকুতেই সীমিত রাখা উচিত। তাই পাঠকের জন্য নিরাপদ পথ হলো, হাদিসের মূল ঘটনা ও স্পষ্ট বাক্যের সীমা ধরে শিক্ষা নেওয়া।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- রাসূল (صلى الله عليه وسلم) দাওয়াতের বার্তা লিখিত পত্রের মাধ্যমে পাঠিয়েছেন।
- নির্দেশ পাওয়া ব্যক্তি দায়িত্ব নিয়ে চিঠি পৌঁছে দিয়েছে।
- নবীর পত্র ছিঁড়ে ফেলা ছিল অসম্মানের কাজ।
- হাদিসের ভাষা অনুযায়ী রাসূল (صلى الله عليه وسلم) তাদের বিরুদ্ধে বদদোয়া করেছিলেন।
