১০/৪৬. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ৬৮২ - আবু বকর রাঃ-এর ইমামত
বিজ্ঞ ও মর্যাদাশীল ব্যক্তিই ইমামতির অধিক যোগ্য।
আবু বকর রাঃ-এর ইমামত ও নবী صلى الله عليه وسلم-এর স্পষ্ট নির্দেশ
সহীহ বুখারী : ৬৮২
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ৬৮২
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سُلَيْمَانَ، قَالَ حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، قَالَ حَدَّثَنِي يُونُسُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ حَمْزَةَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، أَنَّهُ أَخْبَرَهُ عَنْ أَبِيهِ، قَالَ لَمَّا اشْتَدَّ بِرَسُولِ اللَّهِ ﷺ وَجَعُهُ قِيلَ لَهُ فِي الصَّلاَةِ فَقَالَ " مُرُوا أَبَا بَكْرٍ فَلْيُصَلِّ بِالنَّاسِ ". قَالَتْ عَائِشَةُ إِنَّ أَبَا بَكْرٍ رَجُلٌ رَقِيقٌ، إِذَا قَرَأَ غَلَبَهُ الْبُكَاءُ. قَالَ " مُرُوهُ فَيُصَلِّي " فَعَاوَدَتْهُ. قَالَ " مُرُوهُ فَيُصَلِّي، إِنَّكُنَّ صَوَاحِبُ يُوسُفَ ". تَابَعَهُ الزُّبَيْدِيُّ وَابْنُ أَخِي الزُّهْرِيِّ وَإِسْحَاقُ بْنُ يَحْيَى الْكَلْبِيُّ عَنِ الزُّهْرِيِّ. وَقَالَ عُقَيْلٌ وَمَعْمَرٌ عَنِ الزُّهْرِيِّ عَنْ حَمْزَةَ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ.
হামযাহ ইব্নু ‘আবদুল্লাহ (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-এর রোগ যখন খুব বেড়ে গেল, তখন তাঁকে সালাতের জামা’আত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হল। তিনি বললেন, আবূ বক্রকে বল, সে যেন লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করে নেয়। ‘আয়িশা (রাঃ) বলেন, আমি বললাম, আবূ বকর (রাঃ) অত্যন্ত কোমল মনের লোক। কির’আতের সময় কান্নায় ভেঙ্গে পড়বেন। তিনি বললেন, তাঁকেই সালাত আদায় করতে বল। ‘আয়িশা (রাঃ) সে কথার পুনরাবৃত্তি করলেন। তিনি আবার বললেন, তাঁকেই সালাত আদায় করতে বল। তোমরা ইউসুফ (আঃ)-এর সাথী মহিলাদের মতো।এ হাদীসটি যুহরী (রহঃ) হতে বর্ণনা করার ক্ষেত্রে যুবাইদী, যুহরীর ভাতিজা ও ইসহাক ইব্নু ইয়াহিয়া কালবী (রহঃ) ইউনুস (রহঃ)-এর অনুসরণ করেছেন। এবং মা’মার ও উকাইল (রহঃ) যুহরী (রহঃ)-এর মাধ্যমে হামযা (রহঃ)-এর সূত্রে নবী (ﷺ) হতে হাদীসটি (মুরসাল হিসেবে) বর্ণনা করেন।
সহীহ বুখারী হাদিস ৬৮২-এর সারসংক্ষেপ
মূল বিষয়: ইমামত। এই হাদিসে দেখা যায়, আল্লাহর রসূল صلى الله عليه وسلم-এর অসুস্থতা বেড়ে গেলে তাঁকে সালাতের জামাআত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হয়। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, আবু বকরকে বল, সে যেন লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করে। আয়েশা রাঃ আবু বকর রাঃ-এর কোমল মনের কথা জানান। তিনি বলেন, কিরাআতের সময় আবু বকর রাঃ কান্নায় ভেঙে পড়তে পারেন। কিন্তু নবী صلى الله عليه وسلم একই নির্দেশ আবার দেন। এতে বোঝা যায়, সালাতের ইমামত কোনো সাধারণ বিষয় নয়; যার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তাকে দায়িত্ব পালন করতে হবে। হাদিসে আবু বকর রাঃ-এর হৃদয়ের কোমলতাও এসেছে। তবে মূল শিক্ষা হলো, নবী صلى الله عليه وسلم-এর নির্দেশের সামনে ব্যক্তিগত ভাবনা বা অস্বস্তি বড় করে দেখা উচিত নয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- নবী صلى الله عليه وسلم আবু বকর রাঃ-কে লোকদের ইমামত করতে নির্দেশ দেন।
- কোমল হৃদয় থাকা সত্ত্বেও দায়িত্ব পালনের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।
- সালাতের জামাআত বন্ধ না রেখে যোগ্য ব্যক্তিকে সামনে আনা হয়েছে।
- নবী صلى الله عليه وسلم-এর নির্দেশ মানা সাহাবীদের জন্য বড় শিক্ষা ছিল।
