১০/৬৩. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ৭০৫ - মু‘আয (রাঃ)-এর ঘটনায় সহজ ইমামতির শিক্ষা
ইমাম সালাত দীর্ঘায়িত করলে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করা।
وَقَالَ أَبُو أُسَيْدٍ طَوَّلْتَ بِنَا يَا بُنَيُّ.আবূ উসাইদ (রহঃ) তাঁর ছেলেকে বলেছিলেন, বেটা! তুমি আমাদের সালাত দীর্ঘায়িত করে ফেলেছ।"
মু‘আয (রাঃ)-এর ঘটনা: ইমামের জন্য সহজ কিরাতের শিক্ষা
সহীহ বুখারী : ৭০৫
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ৭০৫
حَدَّثَنَا آدَمُ بْنُ أَبِي إِيَاسٍ، قَالَ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، قَالَ حَدَّثَنَا مُحَارِبُ بْنُ دِثَارٍ، قَالَ سَمِعْتُ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ الأَنْصَارِيَّ، قَالَ أَقْبَلَ رَجُلٌ بِنَاضِحَيْنِ وَقَدْ جَنَحَ اللَّيْلُ، فَوَافَقَ مُعَاذًا يُصَلِّي، فَتَرَكَ نَاضِحَهُ وَأَقْبَلَ إِلَى مُعَاذٍ، فَقَرَأَ بِسُورَةِ الْبَقَرَةِ أَوِ النِّسَاءِ، فَانْطَلَقَ الرَّجُلُ، وَبَلَغَهُ أَنَّ مُعَاذًا نَالَ مِنْهُ، فَأَتَى النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَشَكَا إِلَيْهِ مُعَاذًا، فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " يَا مُعَاذُ أَفَتَّانٌ أَنْتَ ـ أَوْ فَاتِنٌ ثَلاَثَ مِرَارٍ ـ فَلَوْلاَ صَلَّيْتَ بِسَبِّحِ اسْمَ رَبِّكَ، وَالشَّمْسِ وَضُحَاهَا، وَاللَّيْلِ إِذَا يَغْشَى، فَإِنَّهُ يُصَلِّي وَرَاءَكَ الْكَبِيرُ وَالضَّعِيفُ وَذُو الْحَاجَةِ ". أَحْسِبُ هَذَا فِي الْحَدِيثِ. قَالَ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ وَتَابَعَهُ سَعِيدُ بْنُ مَسْرُوقٍ وَمِسْعَرٌ وَالشَّيْبَانِيُّ. قَالَ عَمْرٌو وَعُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مِقْسَمٍ وَأَبُو الزُّبَيْرِ عَنْ جَابِرٍ قَرَأَ مُعَاذٌ فِي الْعِشَاءِ بِالْبَقَرَةِ. وَتَابَعَهُ الأَعْمَشُ عَنْ مُحَارِبٍ.
জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
জনৈক সাহাবী দু’টি উটের পিঠে পানি নিয়ে আসছিলেন। রাতের অন্ধকার তখন ঘনীভূত হয়ে এসেছিল। এ সময় তিনি মু’আয (রাঃ) কে সালাত আদায়রত পান, তিনি তার উট দু’টি বসিয়ে মু’আয (রাঃ)-এর দিকে (সালাত আদায় করতে) এগিয়ে গেলেন। মু’আয (রাঃ) সূরা বাক্বারা বা সূরা আন-নিসা পড়তে শুরু করেন। এতে তিনি সাহাবী (জামা’আত ছেড়ে) চলে যান। পরে তিনি জানতে পারেন যে, মু’আয (রাঃ) এ জন্য তার সমালোচনা করেছেন।তিনি নবী (ﷺ) এর নিকট এসে মু’আয (রাঃ)- এর বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন। এতে নবী (ﷺ) বললেন, হে মু’আয! তুমি কি লোকদের ফিত্নায় ফেলতে চাও? বা তিনি বলেছিলেন, তুমি কি ফিত্না সৃষ্টিকারী? তিনি একথা তিনবার বলেন। অতঃপর তিনি বলেন, তুমি سَبِّحِ اسْمَ رَبِّكَ, وَالشَّمْسِ وَضُحَاهَا এবং وَاللَّيْلِ إِذَا يَغْشَىٰ (সূরা) দ্বারা সালাত আদায় করলে না কেন? কারণ, তোমার পিছনে দুর্বল, বৃদ্ধ ও হাজতওয়ালা লোক সালাত আদায় করে থাকে।[শু’বাহ (রহঃ) বলেন] আমার ধারণা শেষোক্ত বাক্যটিও হাদীসের অংশ। সায়ীদ ইব্নু মাসরূক, মিসওআর এবং শাইবানী (রহঃ) ও অনুরূপ রিওয়ায়াত করেছেন। ‘আমর, ‘উবাইদুল্লাহ্ ইব্নু মিকসাম এবং আবূ যুবাইর (রহঃ) জাবির (রাঃ) হতে বর্ণনা করেন যে, মু’আয (রাঃ) ‘ইশার সালাতে সূরা বাকারাহ পাঠ করেছিলেন। আ’মাশ (রহঃ) ও মুহারিব (রহঃ) সূত্রে এরূপই রিওয়ায়াত করেন।
সহীহ বুখারী হাদিস ৭০৫-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে মু‘আয (রাঃ)-এর একটি ঘটনার মাধ্যমে ইমামের দায়িত্ব শেখানো হয়েছে। একজন সাহাবী রাতের অন্ধকারে পানি বহন করে আসছিলেন। তিনি মু‘আয (রাঃ)-কে সালাতে পেয়ে জামা‘আতে দাঁড়ান। মু‘আয (রাঃ) সূরা বাকারা বা সূরা নিসা পড়া শুরু করলে তিনি চলে যান। পরে তিনি জানতে পারেন, এ জন্য তাঁর সমালোচনা করা হয়েছে। তিনি নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর কাছে অভিযোগ করেন। নবী (صلى الله عليه وسلم) মু‘আয (রাঃ)-কে তিনবার সতর্ক করেন এবং সَبِّحِ اسْمَ رَبِّكَ, وَالشَّمْسِ وَضُحَاهَا, وَاللَّيْلِ إِذَا يَغْشَى জাতীয় সূরা পড়ার কথা বলেন। কারণ পিছনে দুর্বল, বৃদ্ধ ও প্রয়োজনগ্রস্ত মানুষ থাকে। তাই ইমামতির মূল শিক্ষা হলো—সালাত পূর্ণ হবে, কিন্তু মানুষের ওপর বোঝা হবে না।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ইমামের উচিত কিরাত বাছাইয়ে মুসল্লিদের অবস্থা বোঝা।
- কষ্টের কারণে কেউ জামা‘আত ছাড়লে তার কারণ শুনে দেখা দরকার।
- নবী (صلى الله عليه وسلم) সহজ, পূর্ণ ও মানুষের উপযোগী সালাতের দিকনির্দেশনা দিয়েছেন।
- ইমামতির সময় দুর্বল, বৃদ্ধ ও প্রয়োজনগ্রস্তদের কথা ভুলে যাওয়া ঠিক নয়।
