১০/৯৫. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ৭৫৫ - মিথ্যা অভিযোগ ও সালাতের আদর্শ
সব সালাতেই ইমাম ও মুক্তাদীর কিরাআত পড়া জরুরি, মুকীম অবস্থায় হোক বা সফরে, সশব্দে কিরাআতের সালাত হোক বা নিঃশব্দে সব সালাতেই ইমাম ও মুক্তাদীর কিরাআত পড়া জরুরি
মিথ্যা অভিযোগ ও সালাত: সা’দ (রাঃ)-এর ঘটনার শিক্ষা
সহীহ বুখারী : ৭৫৫
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ৭৫৫
حَدَّثَنَا مُوسَى، قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، قَالَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ عُمَيْرٍ، عَنْ جَابِرِ بْنِ سَمُرَةَ، قَالَ شَكَا أَهْلُ الْكُوفَةِ سَعْدًا إِلَى عُمَرَ ـ رضى الله عنه ـ فَعَزَلَهُ وَاسْتَعْمَلَ عَلَيْهِمْ عَمَّارًا، فَشَكَوْا حَتَّى ذَكَرُوا أَنَّهُ لاَ يُحْسِنُ يُصَلِّي، فَأَرْسَلَ إِلَيْهِ فَقَالَ يَا أَبَا إِسْحَاقَ إِنَّ هَؤُلاَءِ يَزْعُمُونَ أَنَّكَ لاَ تُحْسِنُ تُصَلِّي قَالَ أَبُو إِسْحَاقَ أَمَّا أَنَا وَاللَّهِ فَإِنِّي كُنْتُ أُصَلِّي بِهِمْ صَلاَةَ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ مَا أَخْرِمُ عَنْهَا، أُصَلِّي صَلاَةَ الْعِشَاءِ فَأَرْكُدُ فِي الأُولَيَيْنِ وَأُخِفُّ فِي الأُخْرَيَيْنِ. قَالَ ذَاكَ الظَّنُّ بِكَ يَا أَبَا إِسْحَاقَ.فَأَرْسَلَ مَعَهُ رَجُلاً أَوْ رِجَالاً إِلَى الْكُوفَةِ، فَسَأَلَ عَنْهُ أَهْلَ الْكُوفَةِ، وَلَمْ يَدَعْ مَسْجِدًا إِلاَّ سَأَلَ عَنْهُ، وَيُثْنُونَ مَعْرُوفًا، حَتَّى دَخَلَ مَسْجِدًا لِبَنِي عَبْسٍ، فَقَامَ رَجُلٌ مِنْهُمْ يُقَالُ لَهُ أُسَامَةُ بْنُ قَتَادَةَ يُكْنَى أَبَا سَعْدَةَ قَالَ أَمَّا إِذْ نَشَدْتَنَا فَإِنَّ سَعْدًا كَانَ لاَ يَسِيرُ بِالسَّرِيَّةِ، وَلاَ يَقْسِمُ بِالسَّوِيَّةِ، وَلاَ يَعْدِلُ فِي الْقَضِيَّةِ. قَالَ سَعْدٌ أَمَا وَاللَّهِ لأَدْعُوَنَّ بِثَلاَثٍ، اللَّهُمَّ إِنْ كَانَ عَبْدُكَ هَذَا كَاذِبًا، قَامَ رِيَاءً وَسُمْعَةً فَأَطِلْ عُمْرَهُ، وَأَطِلْ فَقْرَهُ، وَعَرِّضْهُ بِالْفِتَنِ، وَكَانَ بَعْدُ إِذَا سُئِلَ يَقُولُ شَيْخٌ كَبِيرٌ مَفْتُونٌ، أَصَابَتْنِي دَعْوَةُ سَعْدٍ. قَالَ عَبْدُ الْمَلِكِ فَأَنَا رَأَيْتُهُ بَعْدُ قَدْ سَقَطَ حَاجِبَاهُ عَلَى عَيْنَيْهِ مِنَ الْكِبَرِ، وَإِنَّهُ لَيَتَعَرَّضُ لِلْجَوَارِي فِي الطُّرُقِ يَغْمِزُهُنَّ.
জাবির ইবনু সামুরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
কূফাবাসীরা সা’দ (রাঃ)-এর [১] বিরুদ্ধে ‘উমর (রাঃ)-এর নিকট অভিযোগ করলে তিনি তাঁকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেন এবং আম্মার (রাঃ)-কে তাদের শাসনকর্তা নিযুক্ত করেন। কূফার লোকেরা সা’দ (রাঃ)-এর বিরুদ্ধে অভিযোগ করতে গিয়ে এ-ও বলে যে, তিনি ভালরূপে সালাত আদায় করতে পারেন না। ‘উমর (রাঃ) তাঁকে ডেকে পাঠালেন এবং বললেন, হে আবূ ইসহাক! তারা আপনার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে যে, আপনি নাকি ভালরূপে সালাত আদায় করতে পারেন না।সা’দ (রাঃ) বললেন, আল্লাহ্র শপথ! আমি রাসূল (ﷺ)-এর সালাতের অনুরূপই সালাত আদায় করে থাকি। তাতে কোন ত্রুটি করি না। আমি ‘ইশার সালাত আদায় করতে প্রথমে দু’ রাকাআত একটু দীর্ঘ ও শেষের দু’ রাকাআত সংক্ষেপ করতাম। ‘উমর (রাঃ) বললেন, হে আবূ ইসহাক! আপনার সম্পর্কে আমার এ-ই ধারণা।অতঃপর ‘উমর (রাঃ) কূফার অধিবাসীদের এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এক বা একাধিক ব্যক্তিকে সা’দ (রাঃ) এর সঙ্গে কূফায় পাঠান। সে ব্যক্তি প্রতিটি মসজিদে গিয়ে সা’দ (রাঃ) সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলো এবং তারা সকলেই তাঁর ভূয়সী প্রশংসা করলেন।অবশেষে সে ব্যক্তি বনূ আব্স গোত্রের মসজিদে উপস্থিত হয়। এখানে উসামা উব্নু কাতাদা নামে এক ব্যক্তি যাকে আবূ সা’দাহ্ ডাকা হত– দাঁড়িয়ে বলল, যেহেতু তুমি আল্লাহ্র নামে শপথ দিয়ে জিজ্ঞেস করেছ, সা’দ (রাঃ) কখনো সেনাবাহিনীর সঙ্গে যুদ্ধে যান না, গানীমাতের মাল সমভাবে বন্টন করেন না এবং বিচারে ইনসাফ করেন না। তখন সা’দ (রাঃ) বললেন, মনে রেখো, আল্লাহ্র কসম! আমি তিনটি দোয়া করছিঃ হে আল্লাহ্! যদি তোমার এ বান্দা মিথ্যাবাদী হয়, লোক দেখানো এবং অপপ্রচারের জন্য দাঁড়িয়ে থাকে তাহলে–১. তার হায়াত বাড়িয়ে দিন,২. তার অভাব বাড়িয়ে দিন, এবং৩. তাঁকে ফিত্নার সম্মুখীন করুন।পরবর্তীকালে লোকটিকে (তার অবস্থা সম্পর্কে) জিজ্ঞেস করা হলে সে বলতো, আমি বয়সে বৃদ্ধ, ফিত্নায় লিপ্ত। সা’দ (রাঃ) এর দোয়া আমার উপর লেগে আছে।বর্ণনাকারী আবদুল মালিক (রহঃ) বলেন, পরে আমি সে লোকটিকে দেখেছি, অতি বৃদ্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে তার ভ্রু চোখের উপর ঝুলে গেছে এবং সে পথে মেয়েদের বিরক্ত করত এবং তাদের চিমটি দিত।
[১] তিনি তখন কূফায় আমীর হিসাবে নিযুক্ত ছিলেন।
সহীহ বুখারী হাদিস ৭৫৫-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে সা’দ (রাঃ)-এর বিরুদ্ধে কূফাবাসীদের অভিযোগের ঘটনা এসেছে। তারা উমর (রাঃ)-এর কাছে অভিযোগ করে, এমনকি বলে যে সা’দ (রাঃ) ভালোভাবে সালাত আদায় করতে পারেন না। উমর (রাঃ) তাঁকে ডেকে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, তিনি রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর সালাতের মতোই সালাত পড়ান, কোনো ত্রুটি করেন না। তিনি ইশার প্রথম দুই রাকাত দীর্ঘ এবং শেষ দুই রাকাত সংক্ষিপ্ত করতেন। পরে তদন্তে বেশির ভাগ মানুষ তাঁর প্রশংসা করে। কিন্তু একজন ব্যক্তি অন্যায় অভিযোগ তোলে। সা’দ (রাঃ) দোয়া করেন, যদি সে মিথ্যাবাদী হয়ে লোক দেখানো ও অপপ্রচারের জন্য দাঁড়িয়ে থাকে, তবে আল্লাহ তাকে দীর্ঘ আয়ু, অভাব ও ফিতনার মুখোমুখি করুন। পরে লোকটির অবস্থার বর্ণনা হাদিসে এসেছে। এই হাদিস সালাতের আদর্শ, অভিযোগ যাচাই এবং মিথ্যা অপবাদ থেকে সতর্ক থাকার শিক্ষা দেয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ করলে তা যাচাই করা দরকার।
- সালাতে নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর পদ্ধতি অনুসরণ করা সাহাবীদের লক্ষ্য ছিল।
- মিথ্যা অপবাদ ও লোক দেখানো আচরণ থেকে সতর্ক থাকা উচিত।
