১০/১০৬. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ৭৭৫ - কুরআন দ্রুত না পড়ে বুঝে তিলাওয়াত
এক রাকাতে দুই সূরা মিলিয়ে পড়া, সূরার শেষাংশ পড়া, এক সূরার পূর্বে আরেক সূরা পড়া এবং সূরার প্রথমাংশ পড়া।
وَيُذْكَرُ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ السَّائِبِ قَرَأَ النَّبِيُّ ﷺ الْمُؤْمِنُونَ فِي الصُّبْحِ حَتَّى إِذَا جَاءَ ذِكْرُ مُوسَى وَهَارُونَ أَوْ ذِكْرُ عِيسَى أَخَذَتْهُ سَعْلَةٌ فَرَكَعَ وَقَرَأَ عُمَرُ فِي الرَّكْعَةِ الْأُولَى بِمِائَةٍ وَعِشْرِينَ آيَةً مِنَ الْبَقَرَةِ وَفِي الثَّانِيَةِ بِسُورَةٍ مِنَ الْمَثَانِي وَقَرَأَ الْأَحْنَفُ بِالْكَهْفِ فِي الْأُولَى وَفِي الثَّانِيَةِ بِيُوسُفَ أَوْ يُونُسَ وَذَكَرَ أَنَّهُ صَلَّى مَعَ عُمَرَ ؓ الصُّبْحَ بِهِمَا وَقَرَأَ ابْنُ مَسْعُودٍ بِأَرْبَعِينَ آيَةً مِنَ الْأَنْفَالِ وَفِي الثَّانِيَةِ بِسُورَةٍ مِنَ الْمُفَصَّلِ وَقَالَ قَتَادَةُ فِيمَنْ يَقْرَأُ سُورَةً وَاحِدَةً فِي رَكْعَتَيْنِ أَوْ يُرَدِّدُ سُورَةً وَاحِدَةً فِي رَكْعَتَيْنِ كُلُّ كِتَابُ اللَّهِ‘আবদুল্লাহ ইবন সায়িব (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) ফজরের সালাতে সূরা মুমিনূন পড়তে শুরু করেন। যখন মূসা (আঃ) ও হারূন (আঃ) বা ‘ঈসা (আঃ)-এর আলোচনা এল, তাঁর কাশি উঠল আর তখন তিনি রুকুতে চলে গেলেন। ‘উমার (রাঃ) প্রথম রাক‘আতে সূরা বাকারার একশ’ বিশ আয়াত তিলাওয়াত করেন এবং দ্বিতীয় রাক‘আতে মাসানী সূরাসমূহের কোনো একটি তিলাওয়াত করেন।আহনাফ (রহঃ) প্রথম রাক‘আতে সূরা কাহফ তিলাওয়াত করেন এবং দ্বিতীয় রাক‘আতে সূরা ইউসুফ বা সূরা ইউনুস তিলাওয়াত করেন এবং তিনি বর্ণনা করেছেন যে, তিনি ‘উমার (রাঃ)-এর পিছনে এ দু’টি সূরা দিয়ে ফজরের সালাত আদায় করেন। ইবন মাস‘ঊদ (রাঃ) (প্রথম রাক‘আতে) সূরা আল-আনফালের চল্লিশ আয়াত পড়েন এবং দ্বিতীয় রাক‘আতে মুফাসসাল সূরাসমূহের একটি পড়েন। যে ব্যক্তি দু’ রাক‘আতে একই সূরা ভাগ করে পড়ে বা দু’ রাক‘আতে একই সূরা দুহুরিয়ে পড়ে তার সম্পর্কে কাতাদা (রহঃ) বলেন, সবই আল্লাহর কিতাব। (অর্থাৎ জায়েয)।"
কুরআন তিলাওয়াতে তাড়াহুড়া নয়: ইবনু মাসউদ (রাঃ)-এর শিক্ষা
সহীহ বুখারী : ৭৭৫
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ৭৭৫
حَدَّثَنَا آدَمُ، قَالَ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ عَمْرِو بْنِ مُرَّةَ، قَالَ سَمِعْتُ أَبَا وَائِلٍ، قَالَ جَاءَ رَجُلٌ إِلَى ابْنِ مَسْعُودٍ فَقَالَ قَرَأْتُ الْمُفَصَّلَ اللَّيْلَةَ فِي رَكْعَةٍ. فَقَالَ هَذًّا كَهَذِّ الشِّعْرِ لَقَدْ عَرَفْتُ النَّظَائِرَ الَّتِي كَانَ النَّبِيُّ ﷺ يَقْرِنُ بَيْنَهُنَّ فَذَكَرَ عِشْرِينَ سُورَةً مِنَ الْمُفَصَّلِ سُورَتَيْنِ فِي كُلِّ رَكْعَةٍ.
আবূ ওয়ায়িল (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
এক ব্যক্তি ইব্নু মাস’উদ (রাঃ)-এর নিকট এসে বলল, গতরাতে আমি মুফাস্সাল সূরাগুলো এক রাক‘আতেই তেলাওয়াত করেছি। তিনি বললেন, তাহলে নিশ্চয়ই কবিতার ন্যায় দ্রুত পড়েছ। নবী (ﷺ) পরস্পর সমতুল্য যে সব সূরা মিলিয়ে পড়তেন, সেগুলো সম্পর্কে আমি জানি। এ বলে তিনি মুফাস্সাল সূরাসমূহের বিশটি সূরা উল্লেখ পূর্বক বলেন, নবী (ﷺ) প্রতি রাক‘আতে এর দু’টি করে সূরা পড়তেন।
সহীহ বুখারী হাদিস ৭৭৫-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল বিষয় কুরআন তিলাওয়াতের আদব। এক ব্যক্তি ইবনু মাসউদ (রাঃ)-কে জানায় যে সে এক রাতে এক রাকাতে মুফাসসাল সূরাগুলো পড়েছে। ইবনু মাসউদ (রাঃ) বলেন, তাহলে নিশ্চয়ই সে কবিতার মতো দ্রুত পড়েছে। এরপর তিনি জানান, নবী صلى الله عليه وسلم যেসব সমতুল্য সূরা মিলিয়ে পড়তেন, সেগুলো তিনি জানেন। তিনি মুফাসসাল সূরার বিশটি সূরার কথা উল্লেখ করেন এবং বলেন, নবী صلى الله عليه وسلم প্রতি রাকাতে দুটি করে সূরা পড়তেন। এই হাদিস তিলাওয়াতে তাড়াহুড়া না করা, নবী صلى الله عليه وسلم-এর পদ্ধতি শেখা এবং কুরআনকে সম্মানের সঙ্গে পড়ার শিক্ষা দেয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- কুরআন কবিতার মতো তাড়াহুড়া করে পড়া উচিত নয়।
- নবী صلى الله عليه وسلم কখনো প্রতি রাকাতে দুটি করে সূরা মিলিয়ে পড়েছেন।
- সাহাবীরা কিরাআতের ধরনও নবী صلى الله عليه وسلم থেকে শিখেছেন।
- তিলাওয়াতে সংখ্যা বাড়ানোর চেয়ে পদ্ধতি ঠিক রাখা গুরুত্বপূর্ণ।
