১১/৭. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ৮৮৬ - রেশমী পোশাক ও জুমার সাজ
যা আছে তার মধ্যে থেকে উত্তম পোশাক পরিধান করবে।
রেশমী পোশাক, জুমার সাজ ও নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর নির্দেশ
সহীহ বুখারী : ৮৮৬
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ৮৮৬
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يُوسُفَ، قَالَ أَخْبَرَنَا مَالِكٌ، عَنْ نَافِعٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ، رَأَى حُلَّةَ سِيَرَاءَ عِنْدَ باب الْمَسْجِدِ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ، لَوِ اشْتَرَيْتَ هَذِهِ فَلَبِسْتَهَا يَوْمَ الْجُمُعَةِ وَلِلْوَفْدِ إِذَا قَدِمُوا عَلَيْكَ. فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ " إِنَّمَا يَلْبَسُ هَذِهِ مَنْ لاَ خَلاَقَ لَهُ فِي الآخِرَةِ». ثُمَّ جَاءَتْ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ مِنْهَا حُلَلٌ، فَأَعْطَى عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ ـ رضى الله عنه ـ مِنْهَا حُلَّةً فَقَالَ عُمَرُ يَا رَسُولَ اللَّهِ، كَسَوْتَنِيهَا وَقَدْ قُلْتَ فِي حُلَّةِ عُطَارِدٍ مَا قُلْتَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ " إِنِّي لَمْ أَكْسُكَهَا لِتَلْبَسَهَا». فَكَسَاهَا عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ ـ رضى الله عنه ـ أَخًا لَهُ بِمَكَّةَ مُشْرِكًا.
‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
‘উমর ইব্নু খাত্তাব (রাঃ) মসজিদে নববীর দরজার নিকটে এক জোড়া রেশমী পোশাক (বিক্রি হতে) দেখে নবী (ﷺ)-কে বললেন, হে আল্লাহ্র রাসূল! যদি এটি আপনি খরিদ করতেন আর জুমু‘আর দিন এবং যখন আপনার নিকট প্রতিনিধি দল আসে তখন আপনি তা পরিধান করতেন। তখন আল্লাহ্র রাসূল (ﷺ) বললেনঃ এটা তো সে ব্যক্তিই পরিধান করে, আখিরাতে যার (মঙ্গলের) কোন অংশ নেই।অতঃপর আল্লাহ্র রাসূল (ﷺ)-এর নিকট এ ধরনের কয়েক জোড়া পোশাক আসে, তখন তার এক জোড়া তিনি ‘উমর (রাঃ)-কে প্রদান করেন। ‘উমর (রাঃ) আরয করলেন, হে আল্লাহ্র রাসূল! আপনি আমাকে এটি পরতে দিলেন অথচ আপনি উতারিদের (রেশম) পোশাক সম্পর্কে যা বলার তা তো বলেছিলেন। তখন আল্লাহ্র রাসূল (ﷺ) বললেনঃ আমি তোমাকে এটি নিজের পরার জন্য দেইনি। ‘উমর ইব্নূ খাত্তাব (রাঃ) তখন এটি মক্কায় তাঁর এক ভাইকে দিয়ে দেন, যে তখন মুশরিক ছিল।
সহীহ বুখারী হাদিস ৮৮৬-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে জুমার দিন সুন্দর পোশাক পরার ভাবনা এসেছে, তবে এর সঙ্গে রেশমী পোশাক সম্পর্কে নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর সতর্ক কথাও আছে। উমর (রাঃ) মসজিদে নববীর দরজার কাছে এক জোড়া রেশমী পোশাক দেখে নবী (صلى الله عليه وسلم)-কে বললেন, আপনি এটি কিনে জুমার দিন এবং প্রতিনিধি দল এলে পরতে পারেন। তখন নবী (صلى الله عليه وسلم) বললেন, এ ধরনের পোশাক সে-ই পরে যার আখিরাতে অংশ নেই। পরে একই ধরনের পোশাক নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর কাছে এলে তিনি উমর (রাঃ)-কে এক জোড়া দিলেন। উমর (রাঃ) প্রশ্ন করলেন, আগে তো আপনি এ পোশাক সম্পর্কে সতর্ক করেছিলেন। নবী (صلى الله عليه وسلم) বললেন, আমি তোমাকে এটি পরার জন্য দিইনি। ফলে উমর (রাঃ) সেটি মক্কার এক মুশরিক ভাইকে দিয়ে দেন। এই হাদিসে মূল শিক্ষা হলো, বাহ্যিক সাজের চেয়ে নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর নির্দেশ মানা বড়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- জুমার দিন সাজগোজের ভাবনা থাকলেও নিষিদ্ধ পোশাক এড়িয়ে চলতে হবে।
- নবী (صلى الله عليه وسلم) উমর (রাঃ)-কে পোশাক দিয়েছিলেন, কিন্তু পরার জন্য নয়।
- কোনো বস্তু পাওয়া মানেই তা নিজের ব্যবহারের জন্য বৈধ—এমন নয়।
- সাহাবীগণ নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর কথা বুঝতে প্রশ্ন করতেন।
