১৩/৩. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ৯৫২ - প্রত্যেক জাতির ঈদ ও মুসলিমদের আনন্দের দিন
মুসলিমদের জন্য উভয় ঈদের রীতিনীতি।
প্রত্যেক জাতির ঈদ আছে: মুসলিমদের ঈদের আনন্দের হাদিস
সহীহ বুখারী : ৯৫২
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ৯৫২
حَدَّثَنَا عُبَيْدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ، قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، عَنْ هِشَامٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ ـ رضى الله عنها ـ قَالَتْ دَخَلَ أَبُو بَكْرٍ وَعِنْدِي جَارِيَتَانِ مِنْ جَوَارِي الأَنْصَارِ تُغَنِّيَانِ بِمَا تَقَاوَلَتِ الأَنْصَارُ يَوْمَ بُعَاثَ ـ قَالَتْ وَلَيْسَتَا بِمُغَنِّيَتَيْنِ ـ فَقَالَ أَبُو بَكْرٍ أَمَزَامِيرُ الشَّيْطَانِ فِي بَيْتِ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ وَذَلِكَ فِي يَوْمِ عِيدٍ. فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ «يَا أَبَا بَكْرٍ إِنَّ لِكُلِّ قَوْمٍ عِيدًا، وَهَذَا عِيدُنَا».
'আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
(একদিন আমার ঘরে) আবূ বকর (রাঃ) এলেন তখন আমার কাছে আনসারী দু’টি মেয়ে বু’আস যুদ্ধের দিন আনসারীগণ পরস্পর যা বলেছিলেন সে সম্পর্কে গান গাইছিল। তিনি বলেন, তারা কোন পেশাদার গায়িকা ছিল না। আবূ বকর (রাঃ) বললেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -এর ঘরে শয়তানী বাদ্যযন্ত্র। আর এটি ছিল ঈদের দিন। তখন আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বললেনঃ হে আবূ বক্র! প্রত্যেক জাতির জন্যই আনন্দ উৎসব রয়েছে আর এ হলো আমাদের আনন্দের দিন।
সহীহ বুখারী হাদিস ৯৫২-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আয়েশা (রাঃ) বলেন, তাঁর কাছে আনসারী দুইটি মেয়ে বু‘আস দিনের কথা নিয়ে গান গাইছিল। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, তারা পেশাদার গায়িকা ছিল না। তখন আবু বকর (রাঃ) এসে বলেন, আল্লাহর রসূল صلى الله عليه وسلم-এর ঘরে শয়তানের বাদ্যযন্ত্র! ঘটনাটি ছিল ঈদের দিন। তখন নবী صلى الله عليه وسلم বলেন, হে আবু বকর! প্রত্যেক জাতির জন্য আনন্দ উৎসব আছে, আর এটি আমাদের আনন্দের দিন। এই বর্ণনায় ঈদের আনন্দ, ঘরের পরিবেশ এবং নবী صلى الله عليه وسلم-এর ভারসাম্যপূর্ণ আচরণ দেখা যায়। হাদিসটি ঈদের দিনে আনন্দের অনুমতি নিয়ে আলোচিত হলেও, ব্যাখ্যায় সীমা রাখা জরুরি। কারণ বর্ণনায় নির্দিষ্টভাবে দুই আনসারী মেয়ে, বু‘আস যুদ্ধের কথা এবং ঈদের দিনের প্রসঙ্গ এসেছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ঈদের দিন মুসলিমদের আনন্দের দিন হিসেবে বর্ণিত হয়েছে।
- দুই মেয়ে পেশাদার গায়িকা ছিল না—এ কথা বর্ণনায় স্পষ্ট।
- আবু বকর (রাঃ)-এর আপত্তির জবাবে নবী صلى الله عليه وسلم ঈদের আনন্দের কথা বলেন।
- ঈদের আনন্দে শালীনতা ও বর্ণনার সীমা বোঝা দরকার।
