১৩/২৩. অধ্যায়ঃ

সহীহ বুখারী হাদিস ৯৮৩ - সালাতের পর কুরবানির সঠিক সময়

ঈদের খুতবার সময় ইমাম ও লোকদের কথা বলা এবং খুতবার সময় ইমামের নিকট কোন কিছু জিজ্ঞেস করা হলে।

সালাতের পর কুরবানি: কুরবানির সঠিক সময় নিয়ে স্পষ্ট হাদিস

সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ৯৮৩

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو الأَحْوَصِ، قَالَ حَدَّثَنَا مَنْصُورُ بْنُ الْمُعْتَمِرِ، عَنِ الشَّعْبِيِّ، عَنِ الْبَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ، قَالَ خَطَبَنَا رَسُولُ اللَّهِ ﷺ يَوْمَ النَّحْرِ بَعْدَ الصَّلاَةِ فَقَالَ «مَنْ صَلَّى صَلاَتَنَا وَنَسَكَ نُسْكَنَا فَقَدْ أَصَابَ النُّسُكَ، وَمَنْ نَسَكَ قَبْلَ الصَّلاَةِ فَتِلْكَ شَاةُ لَحْمٍ».فَقَامَ أَبُو بُرْدَةَ بْنُ نِيَارٍ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ وَاللَّهِ لَقَدْ نَسَكْتُ قَبْلَ أَنْ أَخْرُجَ إِلَى الصَّلاَةِ، وَعَرَفْتُ أَنَّ الْيَوْمَ يَوْمُ أَكْلٍ وَشُرْبٍ فَتَعَجَّلْتُ وَأَكَلْتُ وَأَطْعَمْتُ أَهْلِي وَجِيرَانِي. فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ «تِلْكَ شَاةُ لَحْمٍ». قَالَ فَإِنَّ عِنْدِي عَنَاقَ جَذَعَةٍ، هِيَ خَيْرٌ مِنْ شَاتَىْ لَحْمٍ، فَهَلْ تَجْزِي عَنِّي قَالَ «نَعَمْ، وَلَنْ تَجْزِيَ عَنْ أَحَدٍ بَعْدَكَ».

বারা ইবনু ‘আযিব (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

কুরবানীর দিন সালাতের পর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের সামনে খুতবা দিলেন। খুতবায় তিনি বললেন, যে আমাদের মতো সালাত আদায় করবে এবং আমাদের কুরবানীর মত কুরবানী করবে, তার কুরবানী যথার্থ বলে গণ্য হবে। আর যে ব্যক্তি সালাতের পূর্বে কুরবানী করবে তার সে কুরবানী গোশ্‌ত খাওয়া ছাড়া আর কিছু হবে না।তখন আবূ বুরদাহ্ ইব্‌নু নিয়ার (রাঃ) দাঁড়িয়ে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহর কসম! আমি তো সালাতে বের হবার পূর্বেই কুরবানী করে ফেলেছি। আমি ভেবেছি যে, আজকের দিনটি তো পানাহারের দিন। তাই আমি তাড়াতাড়ি করে ফেলেছি। আমি নিজে খেয়েছি এবং আমার পরিবারবর্গ ও প্রতিবেশীদেরকেও আহার করিয়েছি। তখন আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বললেনঃ ওটা গোশ্‌ত খাবার বকরী ছাড়া আর কিছু হয়নি। আবূ বুরদাহ (রাঃ) বলেন, তবে আমার নিকট এমন একটি মেষ শাবক আছে যা দুটো (গোশ্‌ত খাওয়ার) বকরীর চেয়ে ভাল। এটা কি আমার পক্ষে কুরবানীর জন্য যথেষ্ট হবে? তিনি বললেন, হ্যাঁ, তবে তোমার পরে অন্য কারো জন্য যথেষ্ট হবে না।

সহীহ বুখারী হাদিস ৯৮৩-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসের মূল বিষয় হলো কুরবানির সঠিক সময়। কুরবানির দিন রসুলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) সালাতের পর খুতবা দিলেন এবং বললেন, যে ব্যক্তি তাঁর সালাতের মতো সালাত আদায় করবে এবং তাঁর কুরবানির মতো কুরবানি করবে, তার কুরবানি যথার্থ হবে। আর যে সালাতের আগে কুরবানি করবে, তা শুধু গোশত খাওয়ার বকরী হবে। আবু বুরদা (রাঃ) আগে যবেহ করেছিলেন এবং পরিবার ও প্রতিবেশীদের খাইয়েছিলেন। তবু নবী (صلى الله عليه وسلم) জানালেন, সেটি কুরবানি হয়নি। পরে তাঁর বিশেষ অবস্থায় একটি মেষশাবক কুরবানি করার অনুমতি দেওয়া হয়, কিন্তু বলা হয় এটি তাঁর পর আর কারও জন্য যথেষ্ট হবে না।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • কুরবানির জন্য ঈদের সালাতের পর যবেহ করা গুরুত্বপূর্ণ।
  • সালাতের আগে যবেহ করলে তা কুরবানি হিসেবে গণ্য হয়নি বলে হাদিসে এসেছে।
  • আবু বুরদা (রাঃ)-এর জন্য দেওয়া অনুমতি ছিল বিশেষ, সবার জন্য সাধারণ নিয়ম নয়।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন