১৬/১. অধ্যায়ঃ
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ - رضي الله عنه - قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - ﷺ: «حَقُّ الْمُسْلِمِ عَلَى الْمُسْلِمِ سِتٌّ: إِذَا لَقِيتَهُ فَسَلِّمْ عَلَيْهِ, وَإِذَا دَعَاكَ فَأَجِبْهُ, وَإِذَا اسْتَنْصَحَكَ فَانْصَحْهُ, وَإِذَا عَطَسَ فَحَمِدَ اللَّهَ فَسَمِّتْهُ وَإِذَا مَرِضَ فَعُدْهُ, وَإِذَا مَاتَ فَاتْبَعْهُ». رَوَاهُ مُسْلِمٌ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ এক মুসলিমের উপর অন্য মুসলিমের ৬টি হাক্ব রয়েছে –১. কারো সাথে সাক্ষাৎ হলে সালাম দেবে;২. আমন্ত্রণ করলে তা কবুল করবে;৩. পরামর্শ চাইলে সৎ পরামর্শ দেবে;৪. হাঁচি দিয়ে আল-হামদুলিল্লাহ পড়লে তার জবাব দেবে (ইয়ারহামুকাল্লাহ বলবে)।৫. পীড়িত হলে তার কাছে গিয়ে তার খবরাখবর নেবে;৬. সে ইন্তিকাল করলে তার জানাযা সালাতে অংশগ্রহণ করবে। [১৫৪৮]
[১৫৪৮] মুসলিম ২১৬২, বুখারী ১২৪০, তিরমিযী ২৭৩৭, নাসায়ী ১৯৩৮, আবূ দাউদ ৫০৩০, ইবনু মাজাহ ১৪৩৫, আহমাদ ২৭১৫৫।
وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ - رضي الله عنه - قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - ﷺ: «انْظُرُوا إِلَى مَنْ هُوَ أَسْفَلَ مِنْكُمْ, وَلَا تَنْظُرُوا إِلَى مَنْ هُوَ فَوْقَكُمْ, فَهُوَ أَجْدَرُ أَنْ لَا تَزْدَرُوا نِعْمَةَ اللَّهِ عَلَيْكُمْ». مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন : (পার্থিব ব্যাপারে) তুমি তোমার চেয়ে দুর্বলের উপর দৃষ্টি রাখবে, কিন্তু যে ব্যক্তি তোমার চেয়ে উঁচু তার উপর দৃষ্টি রাখবে না। এরূপ করলে তুমি আল্লাহ প্রদত্ত নি‘আমতের প্রতি অবহেলা ও তাচ্ছিল্য প্রকাশ করার অপরাধ হতে বেঁচে যাবে। [১৫৪৯]
[১৫৪৯] বুখারী এবং মুসলিমের বর্ণনায় রয়েছে, আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ (আরবী) তোমাদের কারো নজর যদি এমন লোকের উপর পড়ে, যাকে মাল-ধন ও দৈহিক গঠনে অধিক মর্যাদা দেয়া হয়েছে তবে সে যেন এমন লোকের দিকে নজর দেয়, যে তার চেয়ে নিম্ন স্তরে রয়েছে। বুখারী ৬৪৯০, মুসলিম ২৯৬৩, আহমাদ ২৭৩৬৪, ৯৮৮৬।
وَعَنِ النَوَّاسِ بْنِ سَمْعَانَ - رضي الله عنه - قَالَ: سَأَلْتُ رَسُولَ اللَّهِ - ﷺ - عَنِ الْبِرِّ وَالْإِثْمِ? فَقَالَ: «الْبِرُّ: حُسْنُ الْخُلُقِ, وَالْإِثْمُ: مَا حَاكَ فِي صَدْرِكَ, وَكَرِهْتَ أَنْ يَطَّلِعَ عَلَيْهِ النَّاسُ». أَخْرَجَهُ مُسْلِمٌ
আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে নেকি ও পাপ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তখন তিনি বললেন, নেকি হচ্ছে সুন্দর ব্যবহার, আর পাপ হচ্ছে যা তোমার অন্তরে খটকা জাগায়, আর মানুষ তা জেনে যাক এটা তুমি পছন্দ কর না। [১৫৫০]
[১৫৫০] মুসলিম ২৫৫৩, ২৩৮৯ আহমাদ ১৭১৭৯ দারেমী ২৭৮৯।
وَعَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ - رضي الله عنه - قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - ﷺ: «إِذَا كُنْتُمْ ثَلَاثَةً, فَلَا يَتَنَاجَى اثْنَانِ دُونَ الْآخَرِ, حَتَّى تَخْتَلِطُوا بِالنَّاسِ; مِنْ أَجْلِ أَنَّ ذَلِكَ يُحْزِنُهُ». مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ, وَاللَّفْظُ لِمُسْلِمٍ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন : কোথাও তোমরা তিনজনে থাকলে একজনকে বাদ দিয়ে দু’জনে কানে-কানে কথা বলবে না যতক্ষণ না জনগণের সাথে মিশে যাও। এতে তার মনে দুঃখ হবে। [১৫৫১]
[১৫৫১] বুখারী ৬২৯০, মুসলিম ২১৮৪, তিরমিযী ২৮২৫, আবূ দাউদ ৪৮৫১, ইবনু মাজাহ ৩৭৭৫, আহমাদ ৩৪৫০, দারেমী ২৬৫৭।
وَعَنِ ابْنِ عُمَرَ -رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا- قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - ﷺ: «لَا يُقِيمُ الرَّجُلُ الرَّجُلَ مِنْ مَجْلِسِهِ, ثُمَّ يَجْلِسُ فِيهِ, وَلَكِنْ تَفَسَّحُوا, وَتَوَسَّعُوا». مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, কোন লোক যেন কোন লোককে তার বসার স্থান হতে উঠিয়ে দিয়ে সেখানে না বসে। বরং তোমরা বসার ক্ষেত্রকে উন্মুক্ত ও সম্প্রসারিত কর। [১৫৫২]
[১৫৫২] বুখারী ৯১১, ৬২৬৯, মুসলিম ২১৭৭, তিরমিযী ২৭৪৯, ২৭৫০, আবূ দাউদ ৪৮২৮, আহমাদ ৪৬৪৫, ৪৬৫০, ৪৭২১, দারেমী ২৬৫৩।
وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ -رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا- قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - ﷺ: «إِذَا أَكَلَ أَحَدُكُمْ طَعَامًا, فَلَا يَمْسَحْ يَدَهُ, حَتَّى يَلْعَقَهَا, أَوْ يُلْعِقَهَا». مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন : তোমাদের কেউ যখন আহার করে সে যেন তার হাত না মোছে, যতক্ষণ না সে চেটে খায় কিংবা অন্যের দ্বারা চাটিয়ে নেয়। [১৫৫৩]
[১৫৫৩] মুসলিম ৫৪৫৬, মুসলিম ২০৩১, আবূ দাউদ ৩৮৪৭, ইবনু মাজাহ ৩২৬৯, আহমাদ ২৭৭৭৩, দারেমী ২০২৬।
وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ - رضي الله عنه - قَالَ: [قَالَ] رَسُولُ اللَّهِ - ﷺ: «لِيُسَلِّمِ الصَّغِيرُ عَلَى الْكَبِيرِ, وَالْمَارُّ عَلَى الْقَاعِدِ, وَالْقَلِيلُ عَلَى الْكَثِيرِ». مُتَّفَقٌ عَلَيْهِوَفِي رِوَايَةٍ لِمُسْلِمٍ: «وَالرَّاكِبُ عَلَى الْمَاشِي
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন : বয়োকনিষ্ঠ বয়োজ্যেষ্ঠকে, পদচারী উপবিষ্টকে এবং অল্প সংখ্যক অধিক সংখ্যককে সালাম দিবে। মুসলিমের অন্য বর্ণনায় আছে, আরোহী পদব্রজে যাওয়া ব্যক্তিকে সালাম দিবে। [১৫৫৪]
[১৫৫৪] বুখারী এবং মুসলিমের বর্ণনায় সম্পূর্ণ হাদীসটি হচ্ছে, পদব্রজে চলাচলকারী ব্যক্তি উপবিষ্ট ব্যক্তিকে এবং কমসংখ্যক লোক অধিকসংখ্যক লোকদের সালাম দেবে। বুখারী ৬২৩১, ৬২৩২, ৬২৩৪, তিরমিযী ২৭০৩, ২৭০৪, আবূ দাউদ ৫১৯৮, আহমাদ ২৭৩৭৯, ৮১১৩।
وَعَنْ عَلِيٍّ - رضي الله عنه - قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - ﷺ: «يُجْزِئُ عَنِ الْجَمَاعَةِ إِذَا مَرُّوا أَنْ يُسَلِّمَ أَحَدُهُمْ, وَيُجْزِئُ عَنِ الْجَمَاعَةِ أَنْ يَرُدَّ أَحَدُهُمْ». رَوَاهُ أَحْمَدُ, وَالْبَيْهَقِيُّ
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, যাত্রীদের মধ্যে থেকে একজনের সালাম দেয়া সকলের পক্ষ হতে যথেষ্ট হবে, আর (অপর) দলের একজনের সালামের উত্তর দেয়া সকলের পক্ষ হতে যথেষ্ট হবে। [১৫৫৫]
[১৫৫৫] আবূ দাউদ ৫২১০। বহুসংখ্যক সূত্রের ভিত্তিতে হাদিসটি হাসান; তাওযিহুল আহকাম ৭/৩০১
وَعَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - ﷺ: «لَا تَبْدَؤُوا الْيَهُودَ وَالنَّصَارَى بِالسَّلَامِ, وَإِذَا لَقَيْتُمُوهُمْ فِي طَرِيقٍ, فَاضْطَرُّوهُمْ إِلَى أَضْيَقِهِ». أَخْرَجَهُ مُسْلِمٌ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, তোমরা ইয়াহূদী ও নাসারাদেরকে আগে সালাম দিবে না। আর যখন তোমরা তাদের সাথে রাস্তায় মিলবে তখন তাদেরকে রাস্তায় সংকীর্ণতম দিকে যেতে বাধ্য করবে। [১৫৫৬]
[১৫৫৬] সহীহ তিরমিযী ১৬০২, সহীহুল জামে ৭২০৪। মুসলিম ২১৬৭।
عَنِ النَّبِيِّ - ﷺ - قَالَ: «إِذَا عَطَسَ أَحَدُكُمْ فَلْيَقُلْ: الْحَمْدُ لِلَّهِ, وَلْيَقُلْ لَهُ أَخُوهُ يَرْحَمُكَ اللَّهُ, فَإِذَا قَالَ لَهُ: يَرْحَمُكَ اللَّهُ, فَلْيَقُلْ: يَهْدِيكُمُ اللَّهُ, وَيُصْلِحُ بَالَكُمْ». أَخْرَجَهُ الْبُخَارِيُّ
নবী (ﷺ) বলেছেন : যখন তোমাদের কোন ব্যক্তি হাঁচি দেয়, তখন সে যেন الْحَمْدُ لِلَّهِ বলে। আর তার মুসলিম ভাই যেন এর জবাবে يَرْحَمُكَ اللَّهُ বলে। আর যখন সে يَرْحَمُكَ اللَّهُ বলবে, তখন হাঁচিদাতা তাকে বলবেঃ يَهْدِيكُمُ اللَّهُ, وَيُصْلِحُ بَالَكُمْ। [১৫৫৭]
[১৫৫৭] বুখারী ৬২২৪, আবূ দাউদ ৫০৩৩, আহমাদ ৪৮১৭।