৩/০. অধ্যায়ঃ
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ - رضي الله عنه - قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - ﷺ: «أَكْثِرُوا ذِكْرَ هَاذِمِ اللَّذَّاتِ: الْمَوْتِ». رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ, وَالنَّسَائِيُّ, وَصَحَّحَهُ ابْنُ حِبَّانَ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন – সর্বপ্রকার ভোগ – বিলাসের কর্তনকারী মৃত্যুকে অধিক হারে স্মরণ কর। - তিরমিযী ও নাসায়ী এটি বর্ণনা করেছেন, ইবনু হিব্বান একে সহীহ্ বলেছেন। [৫৭১]
[৫৭১] তিরমিযী ২৩০৭, নাসায়ী ১৮২৪, ইবনু মাজাহ ৪২৫৮, আহমাদ ৭৮৬৫।
৩/০. অধ্যায়ঃ
وَعَنْ أَنَسٍ - رضي الله عنه - قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - ﷺ: «لَا يَتَمَنَّيَنَّ أَحَدُكُمُ الْمَوْتَ لِضُرٍّ يَنْزِلُ بِهِ, فَإِنْ كَانَ لَا بُدَّ مُتَمَنِّيًا فَلْيَقُلْ: اللَّهُمَّ أَحْيِنِي مَا كَانَتِ الْحَيَاةُ خَيْرًا لِي, وَتَوَفَّنِي إِذَا كَانَتِ الْوَفَاةُ خَيْرًا لِي». مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ
নবী (ﷺ) বলেছেন : তোমাদের কেউ দুঃখ কষ্টে পতিত হবার কারণে যেন মৃত্যু কামনা না করে। যদি কিছু করতেই চায়, তা হলে সে যেন বলে : হে আল্লাহ! আমাকে জীবিত রাখ, যতদিন আমার জন্য বেঁচে থাকা কল্যাণকর হয় এবং আমাকে মৃত্যু দাও, যখন আমার জন্য মরে যাওয়া কল্যাণকর হয়। [৫৭২]
[৫৭২] বুখারী ৫৬৭১, ৬৩৫১, ৭২৩৩, মুসলিম ২৬৮০, তিরমিযী ৯৭১, নাসায়ী ১৮২০, ১৮২১, আবূ দাঊদ ৩১০৮, মাজাহ ৪২৬৫, আহমাদ ১১৫৬৮।
৩/০. অধ্যায়ঃ
وَعَنْ بُرَيْدَةَ - رضي الله عنه - عَنِ النَّبِيِّ - ﷺ - قَالَ: «الْمُؤْمِنُ يَمُوتُ بِعَرَقِ الْجَبِينِ». رَوَاهُ الثَّلَاثَةُ وَصَحَّحَهُ ابْنُ حِبَّانَ
নবী (ﷺ) বলেছেন- মুমিনের মৃত্যু ঘটে কপালের ঘামের সাথে। - তিনজন (আবূ দাঊদ, তিরমিযী ও নাসায়ী) এটি বর্ণনা করেছেন, ইবনু হিব্বান একে সহীহ্ বলেছেন। [৫৭৩]
[৫৭৩] তিরমিযী ৯৮২, নাসায়ী ১৮২৮, ইবনু মাজাহ ১৪৫২, আহমাদ ২২৫১৩।
৩/০. অধ্যায়ঃ
وَعَنْ أَبِي سَعِيدٍ وَأَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا قَالَا: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - ﷺ: «لَقِّنُوا مَوْتَاكُمْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ». رَوَاهُ مُسْلِمٌ, وَالْأَرْبَعَةُ
তাঁরা বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন- তোমরা তোমাদের মুমূর্ষু ব্যক্তিকে লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ (আল্লাহ্ ব্যতীত প্রকৃত কোন উপাস্য নেই) কালিমাহর তাল্কীন (স্মরণ করিয়ে) দাও। [৫৭৪]
[৫৭৪] মুসলিম ৯১৫, তিরমিযী ৯৭৬, নাসায়ী ১৮২৬, অর্থাৎ : তোমরা মুমূর্ষু ব্যক্তির সামনে লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলতে থাক যাতে করে এটাই তার জীবনের শেষ কথা হয়। আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, (আরবী) মৃত্যুর সময় যার শেষ কথা হবে লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ সে কোন একদিন জান্নাতে প্রবেশ করবে যদিও তার এর পূর্বে যাই হোক না কেন।
৩/০. অধ্যায়ঃ
وَعَنْ مَعْقِلِ بْنِ يَسَارٍ - رضي الله عنه: أَنَّ النَّبِيَّ - ﷺ - قَالَ: «اقْرَؤُوا عَلَى مَوْتَاكُمْ يس». رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ, وَالنَّسَائِيُّ, وَصَحَّحَهُ ابْنُ حِبَّانَ
নবী (ﷺ) বলেছেন, তোমরা তোমাদের মৃত্যু পথযাত্রী ব্যক্তিদের নিকট সূরা ‘ইয়াসীন’ পড়। -আবূ দাঊদ ও নাসায়ী এটি বর্ণনা করেছেন, ইবনু হিব্বান একে সহীহ্ বলেছেন। [৫৭৫]
[৫৭৫] আবূ দাঊদ ৩১২১, ইবনু মাজাহ ১৪৪৮, আহমাদ ১৯৭৮৯ ইবনু হিব্বান হাদিসটিকে সহীহ বললেও ইমাম সুয়ূত্বী জামেউস সগীর (১৩৪৪) গ্রন্থে একে হাসান বলেছেন। তবে বিন বাযের ফাতাওয়া নূর আলাদ দারব (১৪/২৬১) গ্রন্থে একে দুর্বল বলেছেন। আলবানী যঈফুল জামে (১০৭২) গ্রন্থেও একে দুর্বল বলেছেন। ইবনু উসাইমীন আশ শারহুল মুমতি (৫/২৪৯) গ্রন্থে বলেন, এর সনদে মতানৈক্য ও সমালোচনা রয়েছে। ইবনুল কাত্তান আল অহ্ম ওয়াল ইহাম (৫/৪৯) গ্রন্থে বলেন, এটি বিশুদ্ধ নয়। ইমাম নববী আল আযকার (১৯২) গ্রন্থে বলেন, এর সনদ দুর্বল এতে দুজন মাজহূল রাবী রয়েছে। আলবানী আবূ দাঊদ (৩১২১), ইরওয়াউল গালীল (৬৮৮), তারগীব (৮৮৪), যঈফা (৫৮৬১) গ্রন্থসমূহে হাদীসটিকে দুর্বল বলেছেন। ইবনু উসাইমীন মাজমূ ফাতাওয়া (৭৪/১৭) গ্রন্থেও হাদীসটিকে দুর্বল বলেছেন। ইমাম নাবুবী মাজমু’ (৫/১১০) গ্রন্থে বলেন, তার ইসনাদ দুর্বল, তাতে দু‘জন মাজহুল ব্যক্তি রয়েছে। আলবানী তাখরীজু মিশকাতিল মাসাবীহ (৫৮৯২) গ্রন্থে তার শেষের অতিরিক্ত অংশকে হাসান বলেছেন।
৩/০. অধ্যায়ঃ
وَعَنْ أُمِّ سَلَمَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا قَالَتْ: دَخَلَ رَسُولُ اللَّهِ - ﷺ - عَلَى أَبِي سَلَمَةَ - رضي الله عنه - وَقَدْ شُقَّ بَصَرُهُ (1) فَأَغْمَضَهُ, ثُمَّ قَالَ: «إِنَّ الرُّوحَ إِذَا قُبِضَ, اتَّبَعَهُ الْبَصَرُ» فَضَجَّ نَاسٌ مِنْ أَهْلِهِ, فَقَالَ: «لَا تَدْعُوا عَلَى أَنْفُسِكُمْ إِلَّا بِخَيْرٍ. فَإِنَّ الْمَلَائِكَةَ تُؤَمِّنُ عَلَى مَا تَقُولُونَ». ثُمَّ قَالَ: «اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِأَبِي سَلَمَةَ, وَارْفَعْ دَرَجَتَهُ فِي الْمَهْدِيِّينَ, وَافْسِحْ لَهُ فِي قَبْرِهِ, وَنَوِّرْ لَهُ فِيهِ, وَاخْلُفْهُ فِي عَقِبِهِ». رَوَاهُ مُسْلِمٌ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আবূ সালামাহর নিকটে এসে দেখলেন যে, তাঁর (মৃত্যুর পর) চক্ষুদ্বয় উন্মুক্ত রয়েছে, তিনি তা বন্ধ করে দিলেন। তারপর বললেন-যখন রূহ ‘কবয’ করে নেয়া হয় তখন চোখ রূহ এর অনুগামী হয়। তার পরিবারের কতক লোক তখন চিৎকার করে কেঁদে উঠল; নবী (ﷺ) বললেন, তোমরা নিজের জন্য যা কল্যাণকর, শুধু সেটাই চাও। কেননা তোমরা যা বল তার জন্য ফেরেশতাকুল (এ সময়) আমীন আমীন বলতে থাকেন। তারপর নবী (ﷺ) এই দু‘আ করলেন- হে আল্লাহ্! আবূ সালামাকে ক্ষমা কর, হিদায়াত প্রাপ্তদের মধ্যে তাঁর মর্যাদা বাড়িয়ে দাও, তাঁর কবরকে সম্প্রসারিত কর, তাঁর কবরকে আলোকোজ্জ্বল কর এবং তার পরবর্তীতে তুমি তার পরিবারে দায়িত্বশীল দান কর। [৫৭৬]
[৫৭৬] মুসলিম ৯২০, আবূ দাঊদ ২১১৮, ইবনু মাজাহ ১৪৫৪, আহমাদ ২৬০০৩
৩/০. অধ্যায়ঃ
وَعَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا: أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ - ﷺ - حِينَ تُوُفِّيَ سُجِّيَ بِبُرْدٍ حِبَرَةٍ. مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ
নবী (ﷺ) ইন্তেকাল করলে তাঁকে হিবারাহ নামক চাদর দিয়ে ঢেকে দেয়া হয়। [৫৭৭]
[৫৭৭] বুখারী ৫৮১৪, নাসায়ী ১৮৯৯, আবূ দাঊদ ৩১২০, আহমাদ ২৪২৪২।
৩/০. অধ্যায়ঃ
وَعَنْهَا: أَنَّ أَبَا بَكْرٍ الصِّدِّيقَ - رضي الله عنه - قَبَّلَ النَّبِيَّ - ﷺ - بَعْدَ مَوْتِهِ. رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ
আবূ বাক্র সিদ্দীক (রাঃ) নবী (ﷺ) –কে তাঁর মৃত্যুর পর (কপাল) চুম্বন করেন। [৫৭৮]
[৫৭৮] বুখারী ১২৪২, ৩৬৭০, ৪৪৫৪, মুসলিম ২২১৩, নাসায়ী ১৮২৯, ১৮৪০, ১৮৪২, ইবনু মাজাহ ১৬২৭, আহমাদ ২৪২৪২, ২৭৮০৭।
৩/০. অধ্যায়ঃ
وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ - رضي الله عنه - عَنِ النَّبِيِّ - ﷺ - قَالَ: «نَفْسُ الْمُؤْمِنِ مُعَلَّقَةٌ بِدَيْنِهِ, حَتَّى يُقْضَى عَنْهُ». رَوَاهُ أَحْمَدُ, وَالتِّرْمِذِيُّ وَحَسَّنَهُ
তিনি নবী (ﷺ) হতে বর্ণনা করেছেন, নবী (ﷺ) বলেছেন- মুমিনের নফস তার ঋণের কারণে ঝুলন্ত অবস্থায় থাকে, যে পর্যন্ত না তার কৃত ঋণ পরিশোধ করা হয়। - আহমাদ ও তিরমিযী; তিরমিযী একে হাসান বলেছেন। [৫৭৯]
[৫৭৯] তিরমিযী ১০৭৯, ১০৭৮, ইবনু মাজাহ ২৪১৩, আহমাদ ৯৩৮৭, ৯৮০০, দারেমী ২৫৯১।
৩/০. অধ্যায়ঃ
وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا: أَنَّ النَّبِيَّ - ﷺ - قَالَ فِي الَّذِي سَقَطَ عَنْ رَاحِلَتِهِ فَمَاتَ: «اغْسِلُوهُ بِمَاءٍ وَسِدْرٍ, وَكَفِّنُوهُ فِي ثَوْبَيْنِ». مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ
যে ব্যক্তি উট হতে পড়ে গিয়ে মারা গিয়েছে তার সম্পর্কে নবী (ﷺ) বলেছেন, তোমরা তাকে পানি ও বরই পাতা দিয়ে গোসল দাও আর দু’খানা কাপড়ে তাকে দাফন কর। [৫৮০]
[৫৮০] বুখারী ১২৬৫, ১২৬৬, ১২৬৭, মুসলিম ১২০৬, তিরমিযী ৯৫১, নাসায়ী ১৯০৪, ২৮৫৪, ২৮৫৫, আবূ দাঊদ ৩২২৮, ২২৪০, ইবনু মাজাহ ২০৮৪, আহমাদ ১৮৫৩, ১৯১৭, ২৫৮৬, দারেমী ১৮৫২। বুখারী এবং মুসলিমের বর্ণনায় পূর্ণাঙ্গ হাদীসটি হচ্ছে, তাঁকে সুগন্ধি লাগাবে না এবং তাঁর মস্তক আবৃত করবে না। কেননা, কিয়ামতের দিবসে সে তালবিয়া পাঠরত অবস্থায় উত্থিত হবে।