৯/০. অধ্যায়ঃ
বুলুগুল মারাম হাদিস ১১৬৮ - গর্ভস্থ সন্তানের দিয়াত
‘শিবহে আমাদ’ (ইচ্ছাকৃত হত্যার অনুরুপ হত্যা) হত্যা প্রসঙ্গ এবং ভ্রুণ হত্যার পণ
গর্ভস্থ সন্তানের দিয়াত: হুযাইলের দুই নারীর ঘটনা
বুলুগুল মারাম : ১১৬৮
বুলুগুল মারামহাদিস নম্বর ১১৬৮
وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ - رضي الله عنه - قَالَ: اقْتَتَلَتِ امْرَأَتَانِ مِنْ هُذَيْلٍ, فَرَمَتْ إِحْدَاهُمَا الْأُخْرَى بِحَجَرٍ, فَقَتَلَتْهَا وَمَا فِي بَطْنِهَا, فَاخْتَصَمُوا إِلَى رَسُولِ اللَّهِ - ﷺ - فَقَضَى رَسُولُ اللَّهِ - ﷺ - أَنَّ دِيَةَ جَنِينِهَا: غُرَّةٌ; عَبْدٌ أَوْ وَلِيدَةٌ, وَقَضَى بِدِيَةِ الْمَرْأَةِ عَلَى عَاقِلَتِهَا. وَوَرَّثَهَا وَلَدَهَا وَمَنْ مَعَهُمْ.فَقَالَ حَمَلُ بْنُ النَّابِغَةِ الْهُذَلِيُّ: يَا رَسُولَ اللَّهِ! كَيْفَ يَغْرَمُ مَنْ لَا شَرِبَ, وَلَا أَكَلَ, وَلَا نَطَقَ, وَلَا اسْتَهَلَّ, فَمِثْلُ ذَلِكَ يُطَلُّ, فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ - ﷺ: «إِنَّمَا هَذَا مِنْ إِخْوَانِ الْكُهَّانِ» ; مِنْ أَجْلِ سَجْعِهِ الَّذِي سَجَعَ. مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
হুযাইল গোত্রের দু'জন মহিলা উভয়ে মারামারি করেছিল। তাদের একজন অন্যজনের উপর পাথর নিক্ষেপ করে। পাথর গিয়ে তার পেটে লাগে। সে ছিল গর্ভবতী। ফলে তার পেটের বাচ্চাকে সে হত্যা করে। তারপর তারা নবী (ﷺ) এর নিকট অভিযোগ দায়ের করে। তিনি ফয়সালা দেন যে, এর পেটের সন্তানের বদলে একটি পূর্ণ দাস অথবা দাসী দিতে হবে। আর নিহত মেয়েটির জন্য হত্যাকারিণীর আসাবাগণের (অভিভাবকদের) উপর দিয়াত (একশত উট) দেয়ার নির্দেশ দেন এবং এ দিয়াতের ওয়ারিসদের মধ্যে নিহত মহিলার সন্তান ও তাদের সঙ্গে অন্য যারা অংশীদার রয়েছে তাদের শামিল করেন।এরূপ ফয়সালার জন্য হামাল বিন নাবিগাহ আল-হুযালী বললঃ হে আল্লাহর রাসূল! এমন সন্তানের জন্য আমার উপর জরিমানা কেন হবে, যে পান করেনি, খাদ্য খায়নি, কথা বলেনি এবং কান্নাকাটিও করেনি। তখন নবী (ﷺ) ছন্দযুক্ত কথার জন্য তাকে উদ্দেশ্য করে বললেনঃ এ তো (দেখছি) গণকদের ভাই। [১২৭১]
[১২৭১] বুখারী ৫৭৫৮, ৫৭৬০, ৬৭৪০, ৬৯০৪, মুসলিম ১৬৮১, তিরমিযী ১৪১০, ২১:১১, নাসায়ী ৪৮১৭, ৪৮১৯, আর দাউদ ৪৫৭৬, ইবনু মাজাহ ২৬৩৯, আহমাদ ৭১৭৬, ৭৬৪৬, ২৭২১২, মালেক ১৬০৮, ১৬০৯, দারেমী ২৩৮২
বুলুগুল মারাম হাদিস ১১৬৮-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে হুযাইল গোত্রের দুই নারী মারামারি করে। একজন অন্যজনকে পাথর মারে, এতে নারীটি এবং তার গর্ভের সন্তান মারা যায়। বিষয়টি নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে আসে। তিনি গর্ভস্থ সন্তানের দিয়াত হিসেবে একটি পূর্ণ দাস অথবা দাসী দেওয়ার ফয়সালা করেন। নিহত নারীর দিয়াত হত্যাকারিণীর আসাবা বা অভিভাবকদের ওপর ধার্য করেন এবং নিহত নারীর সন্তান ও অন্য ওয়ারিসদের মধ্যে তা উত্তরাধিকার হিসেবে দেন। হাদিসে হামাল ইবনু নাবিগাহ ছন্দময় ভাষায় আপত্তি করলে নবী صلى الله عليه وسلم তার কথাকে গণকদের ভাইদের কথার মতো বলেছেন। এখানে ‘গর্ভস্থ সন্তানের দিয়াত’, ‘নারী হত্যার দিয়াত’, ‘আকিলা’ ও ‘ওয়ারিস’—এই বিষয়গুলো স্পষ্টভাবে আসে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- গর্ভস্থ সন্তানের জীবনহানির জন্য পৃথক দিয়াতের বিধান এসেছে।
- নিহত নারীর দিয়াত তার ওয়ারিসদের মধ্যে বণ্টনের কথা বলা হয়েছে।
- বিচারের সময় আবেগী ছন্দময় আপত্তি গ্রহণযোগ্য যুক্তি নয়।
- মা ও গর্ভস্থ সন্তানের ক্ষতি আলাদাভাবে বিবেচিত হয়েছে।
