৯/৩. অধ্যায়ঃ
বুলুগুল মারাম হাদিস ১১৯৫ - বিদ্রোহীদের সঙ্গে আচরণ
ন্যায়ের সীমালঙ্ঘনকারী বিদ্রোহীদের সাথে যুদ্ধ - বিদ্রোহীদের সাথে লড়াই করার সময় যা করা নিষেধ
বিদ্রোহীদের সঙ্গে লড়াইয়ে সীমা: বন্দী, পলাতক ও সম্পদের বিধান
বুলুগুল মারাম : ১১৯৫
বুলুগুল মারামহাদিস নম্বর ১১৯৫
وَعَنِ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - ﷺ: «هَلْ تَدْرِي يَا ابْنَ أُمِّ عَبْدٍ, كَيْفَ حُكْمُ اللَّهِ فِيمَنْ بَغَى مِنْ هَذِهِ الْأُمَّةِ?», قَالَ: اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ. قَالَ: «لَا يُجْهَزُ عَلَى جَرِيحِهَا, وَلَا يُقْتَلُ أَسِيرُهَا, وَلَا يُطْلَبُ هَارِبُهَا, وَلَا يُقْسَمُ فَيْؤُهَا». رَوَاهُ الْبَزَّارُ وَالْحَاكِمُ وَصَحَّحَهُ فَوَهِمَ; فَإِنَّ فِي إِسْنَادِهِ كَوْثَرَ بْنَ حَكِيمٍ, وَهُوَ مَتْرُوكٌ
ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইবনু মাসউদ (রাঃ) কে বলেছিলেন – হে উম্মু আব্দের পুত্র! তুমি কি জান এ উম্মতের বিদ্রোহীদের জন্য মহান আল্লাহ্ কি ফয়সালা দিয়েছেন? তিনি ইবনু মাসউদ বলেনঃ আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলই ভালো জানেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ বিদ্রোহী জখমীদের ব্যান্ডেজ (সেবা) করা যাবে না, কয়েদীদের হত্যা করা যাবে না, পলায়নকারীদের অনুসন্ধান করা যাবে না, তাদের গানিমাতের মাল বন্টিত হবে না। [১০৩২]
[১৩০২] বাযাযার ১৮৪৯, হাকিম ২৫৫। ইমাম হাইসামী তাঁর মাজমাউয যাওয়ায়িদ ৬/২৪৬ গ্রন্থে বলেন, এর সনদে কাউসার বিন হাকীম বিদ্যমান, আর সে হচ্ছে দুর্বল পরিত্যাজ্য। ইবনু হযম তাঁর আল মাহাল্লা ১১/১০২ গ্রন্থে উক্ত বর্ণনাকারী সম্পর্কে বলেন, নিঃসন্দেহে তাঁর হাদীস পরিত্যাজ্য। ইবনু উসাইমীনও শরহে বুলুগুল মারাম ৫/২৯৯ গ্রন্থে হাদীসটিকে মাতরূক বলেছেন। ইবনু হিব্বান তাঁর আল মাজরুহীন ২/২৩৩ গ্রন্থে বলেন, প্রসিদ্ধ হাদীস বিশারদগণ তাকে মুনকার বর্ণনাকারীদের অন্তর্ভুক্ত করেছেন। প্রসিদ্ধ হাদীস বিশারদগণ থেকে তিনি মুনকার হাদীস বর্ণনা করেছেন। তিনি বিশুদ্ধ বর্ণনাকারী থেকে হাদীস বর্ণনা করলেও সেগুলো শক্তিশালী নয়।
অনুবাদের উৎস
- সংকলক:
- শিহাবুদ্দীন আহমাদ বিন আলী বিন মুহাম্মাদ বিন আলী বিন মাহমুদ বিন আহমাদ বিন হাজার বিন আহমাদ আল আসকালানী আল কিনানী
- প্রকাশক:
- তাওহীদ পাবলিকেশন্স
বুলুগুল মারাম হাদিস ১১৯৫-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে বিদ্রোহীদের সঙ্গে লড়াইয়ের সময় কিছু সীমার কথা এসেছে। বর্ণনায় রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইবনু মাসউদ (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করেন, এই উম্মতের বিদ্রোহীদের বিষয়ে আল্লাহ কী ফয়সালা দিয়েছেন কি না। এরপর বলা হয়: বিদ্রোহী জখমীদের ব্যাপারে নির্দিষ্ট কাজ করা যাবে না, কয়েদীদের হত্যা করা যাবে না, পলায়নকারীদের অনুসন্ধান করা যাবে না, এবং তাদের গনিমতের মাল বণ্টন করা যাবে না। টেক্সটে সনদের দুর্বলতার কথাও আছে। তাই ব্যাখ্যায় দাবি বাড়ানো যাবে না। মূল কীওয়ার্ড হলো “বিদ্রোহীদের সঙ্গে আচরণ”, “কয়েদী হত্যা নিষেধ”, “পলাতক অনুসন্ধান নিষেধ”। হাদিসের মূল শিক্ষা হলো—সংঘাতের মধ্যেও কিছু সীমা ও সংযমের কথা আলোচনা হয়েছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সংঘাতেও সীমা মানার কথা এসেছে।
- কয়েদীদের হত্যা না করার উল্লেখ আছে।
- পলাতক ও সম্পদের ব্যাপারে আলাদা নির্দেশ এসেছে।
