১০/১. অধ্যায়ঃ
বুলুগুল মারাম হাদিস ১২১৫ - দুর্বল অপরাধীর হদ প্রয়োগ
ব্যভিচারীর দণ্ড - অসুস্থ ব্যক্তির উপর হাদ্দ জারী করা প্রসঙ্গে
দুর্বল ব্যক্তির হদ: শাস্তি জারি, তবে অবস্থাও বিবেচিত
বুলুগুল মারাম : ১২১৫
বুলুগুল মারামহাদিস নম্বর ১২১৫
وَعَنْ سَعِيدِ بْنِ سَعْدِ بْنِ عُبَادَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا قَالَ: كَانَ بَيْنَ أَبْيَاتِنَا رُوَيْجِلٌ ضَعِيفٌ, فَخَبَثَ بِأَمَةٍ مِنْ إِمَائِهِمْ, فَذَكَرَ ذَلِكَ سَعْدٌ لِرَسُولِ اللَّهِ - ﷺ - فَقَالَ: «اضْرِبُوهُ حَدَّهُ». فَقَالُوا: يَا رَسُولَ اللَّهِ! إِنَّهُ أَضْعَفُ مِنْ ذَلِكَ, فَقَالَ: «خُذُوا عِثْكَالًا فِيهِ مِائَةُ شِمْرَاخٍ, ثُمَّ اضْرِبُوهُ بِهِ ضَرْبَةً وَاحِدَةً». فَفَعَلُوا. رَوَاهُ أَحْمَدُ, وَالنَّسَائِيُّ, وَابْنُ مَاجَهْ, وَإِسْنَادُهُ حَسَنٌ. لَكِنْ اخْتُلِفَ فِي وَصْلِهِ وَإِرْسَالِهِ
সাঈদ ইবনু সা’দ ইবনু উবাদাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমাদের মহল্লায় একটা জীর্ণ শীর্ণ ক্ষুদ্র লোক বাস করত। সে তাদের কোন এক দাসীর সাথে নোংরা কাজ (যিনা) করে ফেলে। ফলে সা’দ এ ঘটনা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকটে ব্যক্ত করেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ ওর উপর হদ্দ জারি কর। লোকেরা বললঃ সে এর থেকে অনেক দুর্বল (একশ দুররা তো বরদাস্ত করার কোন শক্তি ওর নেই)। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ একটা ডাল নাও, যাতে একশো শাখা থাকে, তারপর তাকে ঐটি দিয়ে একবার প্রহার কর ফলে লোকেরা তাই করলো। [১৩২২]
[১৩২২] ইবনু মাজাহ ২৫৭৪, আবূ দাঊদ ৪৪৭২, আহমাদ ২১৪২৮, নাসায়ী কুবরা ৪র্থ খণ্ড ৩১৩ পৃষ্ঠা। হাদীসটির মুত্তাসিল বা মুরসাল হওয়ার ব্যাপারে মতানৈক্য রয়েছে।
বুলুগুল মারাম হাদিস ১২১৫-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে এক দুর্বল ও জীর্ণ ব্যক্তির ঘটনা এসেছে, যে এক দাসীর সঙ্গে যিনায় লিপ্ত হয়েছিল। ঘটনা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কাছে জানানো হলে তিনি তার উপর হদ জারি করতে বলেন। লোকেরা জানায়, সে এত দুর্বল যে একশ বেত্রাঘাত সহ্য করার শক্তি তার নেই। তখন নবী صلى الله عليه وسلم বলেন, এমন একটি ডাল নাও যাতে একশ শাখা আছে, তারপর সেটি দিয়ে তাকে একবার প্রহার কর। লোকেরা তাই করে। এই হাদিসে যিনার হদ এবং অপরাধীর শারীরিক দুর্বলতা—দুই দিকই এসেছে। এতে দেখা যায়, বিধান বাতিল করা হয়নি, আবার ব্যক্তির অবস্থা উপেক্ষাও করা হয়নি। বিচারিক বাস্তবতায় মানুষের সক্ষমতা বিবেচনার একটি দিক এখানে পাওয়া যায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- অপরাধের হদ জারি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
- অপরাধীর শারীরিক দুর্বলতা বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।
- বিধান ও বাস্তব অবস্থার মধ্যে সমন্বয়ের দিক দেখা যায়।
- বিচারে পরিস্থিতি জানা গুরুত্বপূর্ণ।
