১০/৪. অধ্যায়ঃ
বুলুগুল মারাম হাদিস ১২৪৪ - দণ্ডের সময় মুখে আঘাত না করার আদব
মদ্যপানকারীর শাস্তি এবং নিশাজাতীয় দ্রব্যের বর্ণনা - মুখমণ্ডলে প্রহার করা নিষেধ
হাদ্দ প্রয়োগের আদব: মুখমণ্ডলে আঘাত করা যাবে না
বুলুগুল মারাম : ১২৪৪
বুলুগুল মারামহাদিস নম্বর ১২৪৪
وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ - رضي الله عنه - قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - ﷺ: «إِذَا ضَرَبَ أَحَدُكُمْ فَلْيَتَّقِ الْوَجْهَ». مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, যখন তোমরা হাদ্দ মারবে তখন মুখমণ্ডলে মারবে না। [১৩৫০]
[১৩৫০] বুখারী ২৫৫৯, মুসলিম ২৬১২।
অনুবাদের উৎস
- সংকলক:
- শিহাবুদ্দীন আহমাদ বিন আলী বিন মুহাম্মাদ বিন আলী বিন মাহমুদ বিন আহমাদ বিন হাজার বিন আহমাদ আল আসকালানী আল কিনানী
- প্রকাশক:
- তাওহীদ পাবলিকেশন্স
বুলুগুল মারাম হাদিস ১২৪৪-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিস খুব সংক্ষিপ্ত, কিন্তু এর শিক্ষা গভীর। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যখন তোমরা হাদ্দ মারবে, তখন মুখমণ্ডলে মারবে না। অর্থাৎ শরীয়তের দণ্ড থাকলেও তা সীমাহীন আঘাত নয়। এখানে দণ্ডের সময়ও শৃঙ্খলা, সংযম ও মানুষের সম্মান বজায় রাখার শিক্ষা আছে। মুখ মানুষের পরিচয় ও মর্যাদার বড় অংশ। তাই শাস্তি প্রয়োগের ক্ষেত্রেও মুখে আঘাত থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে। এই হাদিস থেকে বোঝা যায়, ইসলামে শাস্তি মানে অপমান বা নিষ্ঠুরতা নয়; বরং নির্ধারিত নিয়ম মেনে অপরাধের জবাব দেওয়া। হাদ্দের আদব, দণ্ডের সীমা এবং মানবিক আচরণ—সবই এখানে একসঙ্গে বোঝা যায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- দণ্ড প্রয়োগের সময়ও মুখমণ্ডলে আঘাত করা নিষেধ।
- শাস্তির ক্ষেত্রেও শরীয়তের সীমা মানতে হয়।
- মানুষের মর্যাদা রক্ষা করা দণ্ডের সময়ও গুরুত্বপূর্ণ।
- হাদ্দ প্রয়োগ ব্যক্তিগত রাগের জায়গা নয়।
