১৩/০. অধ্যায়ঃ
বুলুগুল মারাম হাদিস ১৩৬২ - কসমে প্রতিপক্ষের উদ্দেশ্য
কসম প্রার্থনাকারীর নিয়ত অনুযায়ী কসম প্রযোজ্য হবে
কসমের নিয়ত: প্রতিপক্ষের উদ্দেশ্যকে গুরুত্ব দেওয়া
বুলুগুল মারাম : ১৩৬২
বুলুগুল মারামহাদিস নম্বর ১৩৬২
وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ - رضي الله عنه - قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - ﷺ: «يَمِينُكَ عَلَى مَا يُصَدِّقُكَ بِهِ صَاحِبُكَ». وَفِي رِوَايَةٍ: «الْيَمِينُ عَلَى نِيَّةِ الْمُسْتَحْلِفِ». أَخْرَجَهُمَا مُسْلِمٌ
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: কসম করার জন্য তোমাকে যে ব্যক্তি চাপ দেয় বা দাবি জানায় তার উদ্দেশ্যের অনুকূলে তোমাকে কসম করতে হবে। অন্য রিওয়ায়েতে আছে প্রতিপক্ষের নিয়তের বা উদ্দেশ্যের অনুকূলে (কসম সাব্যস্ত)হবে। [১৪৭০]
[১৪৭০] মুসলিম ১৬৫৩, তিরমিযী ১৩৫৪, আবূ দাউদ ৩২৫৫, ইবনু মাজাহ ২১২০, আহমাদ ৭০৭৯, দারেমী ২৩৪৯।
বুলুগুল মারাম হাদিস ১৩৬২-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিস কসমের একটি সূক্ষ্ম কিন্তু জরুরি দিক বুঝিয়ে দেয়। কোনো ব্যক্তি যদি তোমার কাছে কসম দাবি করে, তখন কসম এমনভাবে হবে যাতে সে তোমার কথাকে যে অর্থে সত্য মনে করছে, সেই অর্থই বিবেচনায় আসে। শুধু নিজের মনে অন্য অর্থ রেখে কথাকে ঘুরিয়ে নেওয়া এই হাদিসের শিক্ষার সঙ্গে মেলে না। এখানে কসমের নিয়ত ও সত্যতার সম্পর্ক স্পষ্ট। বিশেষ করে বিবাদ, দাবি বা লেনদেনের মতো জায়গায় কসমকে ধোঁকা দেওয়ার উপায় বানানো যাবে না। হাদিসটি শেখায়, আল্লাহর নামে কসম মানে দায়িত্বপূর্ণ কথা। তাই কথা বলার সময় নিজের উদ্দেশ্য, অন্যের বোঝা এবং সত্য—তিনটি দিকেই সতর্ক থাকা দরকার।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- কসমে প্রতিপক্ষের বোঝা ও উদ্দেশ্যকে অবহেলা করা ঠিক নয়।
- কসম দিয়ে কথার ফাঁকফোকর বের করা থেকে বাঁচতে হবে।
- বিবাদে কসম সত্য ও পরিষ্কার হওয়া দরকার।
