১৪/০. অধ্যায়ঃ
বুলুগুল মারাম হাদিস ১৩৯১ - দুর্বলের হক আদায়ের গুরুত্ব
ন্যায্য অধিকার আদায়ে দুর্বলকে সহায়তা করা
দুর্বলের হক: ন্যায়ভিত্তিক সমাজের বড় পরিচয়
বুলুগুল মারাম : ১৩৯১
বুলুগুল মারামহাদিস নম্বর ১৩৯১
وَعَنْ جَابِرٍ - رضي الله عنه -[قَالَ]: سَمِعْتُ النَّبِيَّ - ﷺ يَقُولُ: «كَيْفَ تُقَدَّسُ أُمَّةٌ, لَا يُؤْخَذُ مِنْ شَدِيدِهِمْ لِضَعِيفِهِمْ». رَوَاهُ ابْنُ حِبَّانَ
জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি নবী (ﷺ) কে বলতে শুনেছি, কি করে পবিত্র করা যাবে ঐ জাতিকে, যাদের দুর্বলদের হাক্ব সবলদের কাছ থেকে (বিচার মূলে) আদায় করা না যাবে। [১৪৯৯]
[১৪৯৯] ইবনু হিব্বান ১৫৫৪, কাশফুল আসতার ১৫৯৬।
বুলুগুল মারাম হাদিস ১৩৯১-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল বিষয় হলো দুর্বলের হক আদায়। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, যে জাতির দুর্বলদের হক সবলদের কাছ থেকে আদায় করা যায় না, সে জাতিকে কীভাবে পবিত্র করা যাবে? এখানে সমাজের ন্যায়ের একটি সহজ মানদণ্ড দেওয়া হয়েছে। শুধু শক্তিশালী, ধনী বা প্রভাবশালী মানুষের কথা শুনলে সমাজ ন্যায়বান হয় না। দুর্বল মানুষের অধিকার বিচার মূলে ফিরিয়ে দেওয়া দরকার। হাদিসটি বিচারক, নেতা, সমাজপতি এবং সাধারণ মানুষের জন্যও শিক্ষা। কোনো দুর্বল ব্যক্তি যদি নিজের অধিকার চাইতে না পারে, তবে ন্যায়প্রিয় মানুষের দায়িত্ব হলো তার হককে গুরুত্ব দেওয়া। ইসলামে ন্যায় বিচার শুধু কোর্টের বিষয় নয়; সমাজের চরিত্রের অংশ।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- দুর্বলের হক আদায় ন্যায় সমাজের বড় লক্ষণ।
- সবল ব্যক্তি অন্যায় করলে তার কাছ থেকেও হক আদায় করতে হবে।
- প্রভাব দেখে বিচার করলে সমাজ দুর্বল হয়ে যায়।
- দুর্বল মানুষের অধিকার রক্ষায় দায়িত্বশীল হওয়া দরকার।
