১৪/০. অধ্যায়ঃ
বুলুগুল মারাম হাদিস ১৩৯৪ - ন্যায় বিচারকের কঠিন হিসাব
বিচারকার্যের গুরুত্ব
ন্যায় বিচারকের হিসাব: দায়িত্বের ভার কত বড়
বুলুগুল মারাম : ১৩৯৪
বুলুগুল মারামহাদিস নম্বর ১৩৯৪
وَعَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا قَالَتْ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ - ﷺ - يَقُولُ: «يُدْعَى بِالْقَاضِي الْعَادِلِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ, فَيَلْقَى مِنْ شِدَّةِ الْحِسَابِ مَا يَتَمَنَّى أَنَّهُ لَمْ يَقْضِ بَيْنَ اثْنَيْنِ فِي عُمْرِهِ». رَوَاهُ ابْنُ حِبَّانَ وَأَخْرَجَهُ الْبَيْهَقِيُّ, وَلَفْظُهُ: «فِي تَمْرَةٍ
'আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছি, ন্যায় বিচারক ক্বাযীকে কিয়ামতের দিবসে ডাকা হবে এবং সে ঐ দিন হিসাবের কঠোরতার সম্মুখীন হয়ে আকাঙ্ক্ষা করবে, হায় সে যদি জীবনে দু’জন লোকের মধ্যে ফায়সালা না করতো (তাই মঙ্গল ছিল)। হাদিসটি ইমাম বায়হাক্বী বর্ণনা করেছেন তাতে আছে-যদি এ ক’টি খেজুরের ব্যাপারেও ফায়সালা না করতো। [১৫০২]
[১৫০২] ইবনু হিব্বান ১৫৬৩। ইমাম যাহাবী তাঁর সিয়ার আ‘লামুন নুবালা (১৮/১৭০) গ্রন্থে হাদীসটিকে অত্যন্ত গরীব বলেছেন। আল মুনযিরী তাঁর তারগীব ওয়াত তারহীব (৩/১৭৯) গ্রন্থে বলেন, হাদীসটি সহীহ অথবা হাসান কিংবা এতদুয়ের কাছাকাছি। শাইখ আলবানী হাদীসটিকে যঈফ তারগীব (১৩১০) গ্রন্থে দুর্বল বলেছেন। ইবনু উসাইমীন তাঁর শরহে বুলুগুল মারাম (৬/১৬৭) গ্রন্থে বলেন, হাদীসটি বাতিল অথবা বিরল।
বুলুগুল মারাম হাদিস ১৩৯৪-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল বিষয় হলো বিচারকের কঠিন হিসাব। আয়িশাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, ন্যায় বিচারক কিয়ামতের দিন ডাকা হবে এবং হিসাবের কঠোরতা দেখে সে চাইবে, জীবনে যদি দুজনের মধ্যেও ফায়সালা না করত! বায়হাকীর বর্ণনায় খেজুরের মতো ছোট বিষয়ের কথাও এসেছে। এখানে বার্তা হলো, বিচারক ন্যায়পরায়ণ হলেও দায়িত্বের হিসাব হালকা নয়। মানুষের অধিকার, সম্পদ, মর্যাদা ও অভিযোগের বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেওয়া খুব বড় আমানত। হাদিসটি বিচারক ও সালিশকারীদের জন্য ভয় ও সতর্কতার শিক্ষা দেয়। তবে এটি ন্যায় বিচারকে নিরুৎসাহিত নয়; বরং দায়িত্বের ভার বুঝে আল্লাহভীরু হয়ে বিচার করতে শেখায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ন্যায় বিচারকেরও আল্লাহর সামনে হিসাব আছে।
- ছোট বিষয়েও ফায়সালা করা হালকা দায়িত্ব নয়।
- বিচারকের পদে ভয়, সতর্কতা ও তাকওয়া দরকার।
- মানুষের হক নিয়ে সিদ্ধান্তে অবহেলা করা উচিত নয়।
