১/৪. অধ্যায়ঃ
বুলুগুল মারাম হাদিস ৫৭ - ওজুর পর শাহাদাত ও দোয়ার ফজিলত
উযূর বিবরণ - উযূর পর যা বলতে হয়
ওজুর পর দোয়া: শাহাদাত, তওবা ও পবিত্রতার সুন্দর শিক্ষা
বুলুগুল মারাম : ৫৭
বুলুগুল মারামহাদিস নম্বর ৫৭
وَعَنْ عُمَرَ - رضي الله عنه - قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - ﷺ: «مَا مِنْكُمْ مِنْ أَحَدٍ يَتَوَضَّأُ, فَيُسْبِغُ الْوُضُوءَ, ثُمَّ يَقُولُ: أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ, وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ, إِلَّا فُتِحَتْ لَهُ أَبْوَابُ الْجَنَّةِ». أَخْرَجَهُ مُسْلِمٌوَالتِّرْمِذِيُّ, وَزَادَ: اللَّهُمَّ اجْعَلْنِي مِنَ التَّوَّابِينَ, وَاجْعَلْنِي مِنَ الْمُتَطَهِّرِينَ
উমার (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি উত্তমরূপে ওজু করবে অতঃপর বলবে- উচ্চারণঃ আশহাদু আল্লা- ইলাহা ইল্লাল্লাহু আহ্দাহু লা-শারীকালাহু অ আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান্ আবদুহু অ রাসূলুহু; আল্লাহুম্মাজ্ আলনী মিনাত্ তওয়াবীন অজ্ আলনী মিনাল মুতাত্বহহেরীন। অর্থঃ “আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আল্লাহ ছাড়া সত্য কোন উপাস্য নাই, এবং সাক্ষ্য দিচ্ছি যে মুহাম্মদ (ﷺ) তাঁর বান্দা ও রাসূল।” যে এই দুয়া পাঠ করবে সে যে কোন দরজা দিয়ে ইচ্ছে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে- মুসলিম [৭২] ও তিরমিযী। তিরমিযীতে অতিরিক্ত আছে, “হে আল্লাহ্ আমাকে তওবাহকারী ও পবিত্রতা হাসিলকারীদের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত কর।” [৭৩]
[৭২] মুসলিম (২৩৪) উকবাহ বিন আমির হতে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, আমাদের উপর উট চরানোর দায়িত্ব ছিল। অতঃপর আমার বিশ্রামের পালা এসে গেল। আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে মানুষের মাঝে দাঁড়িয়ে কথাবার্তা বলতে লক্ষ্য করলাম। আমি এ কথাটুকু শুনতে পেলাম, “কোন মুসলিম যখন উত্তমরূপে ওযূ করে গভীর মনোযোগের সাথে দু’রাকাত সালাত আদায় করে। তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব হয়ে যায়। রাবী বলেন, আমি বললাম এটা কতনা উত্তম। আমাকে হঠাৎ করে একজন বলল, এটা পূর্ব থেকেই উত্তম। অতঃপর আমি দেখি যে তিনি উমার (রাঃ)। তিনি বললেন, আমি তো দেখছি যে, তুমি এইমাত্র বুঝতে পেরেছ। তারপর তিনি এ হাদীস শুনালেন। এবং এর সাথে আরো বৃদ্ধি করে বললেন, আটটি দরজার যেকোনটি দিয়ে ইচ্ছে প্রবেশ করতে পারবে।[৭৩] সানান তিরমিযী (৫৫), তিরমিযী হতে এই অতিরিক্ত বর্ণনাটি সহীহ নয়।
বুলুগুল মারাম হাদিস ৫৭-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে ওজুর পর পড়ার দোয়া এবং তার ফজিলত এসেছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি উত্তমরূপে ওজু করবে, তারপর আল্লাহর একত্ব ও মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর বান্দা ও রাসূল হওয়ার সাক্ষ্য দেবে, তার জন্য জান্নাতের দরজাসমূহ খোলা হবে। অনুবাদে তিরমিযীর অতিরিক্ত অংশও এসেছে: “হে আল্লাহ, আমাকে তওবাকারী ও পবিত্রতা অর্জনকারীদের অন্তর্ভুক্ত করুন।” এই হাদিসে দুটি বিষয় একসাথে আছে—ওজু ভালোভাবে করা এবং ওজুর পর ঈমানের সাক্ষ্য ও দোয়া করা। “ওজুর পর দোয়া” খুঁজলে এই হাদিসটি সবচেয়ে বেশি প্রাসঙ্গিক। তবে ফজিলতকে হাদিসের ভাষার মধ্যেই রাখা উচিত।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- উত্তমরূপে ওজু করা দোয়ার আগে গুরুত্বপূর্ণ।
- ওজুর পর শাহাদাত পাঠের ফজিলত এসেছে।
- তওবা ও পবিত্রতার জন্য দোয়া করা সুন্দর আমল।
- ফজিলত বর্ণনায় হাদিসের ভাষা অতিক্রম করা উচিত নয়।
