১/১. অধ্যায়ঃ
বুলুগুল মারাম হাদিস ৬ - স্থির পানিতে প্রস্রাব ও গোসলের নিষেধ
পানি - আবদ্ধ বা স্থির পানিতে পেশাব করা এবং তাতে ফরয গোসল করার বিধান
স্থির পানিতে প্রস্রাব ও জুনুবী গোসল নিষেধ: পরিচ্ছন্নতার শিক্ষা
বুলুগুল মারাম : ৬
বুলুগুল মারামহাদিস নম্বর ৬
وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ - رضي الله عنه - قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - ﷺ: لَا يَغْتَسِلُ أَحَدُكُمْ فِي الْمَاءِ الدَّائِمِ وَهُوَ جُنُبٌ». أَخْرَجَهُ مُسْلِمٌ وَلِلْبُخَارِيِّ: لَا يَبُولَنَّ أَحَدُكُمْ فِي الْمَاءِ الدَّائِمِ الَّذِي لَا يَجْرِي, ثُمَّ يَغْتَسِلُ فِيهوَلِمُسْلِمٍ: مِنْهُ وَلِأَبِي دَاوُدَ: وَلَا يَغْتَسِلُ فِيهِ مِنَ الْجَنَابَةِ
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ ‘অপবিত্র (জুনুবী) অবস্থায় কেউ যেন আবদ্ধ পানিতে (নেমে) গোসল না করে। [৮] বুখারীর বর্ণনায় আছে, “কোন ব্যক্তি যেন স্রোত নেই এমন আবদ্ধ পানিতে প্রস্রাব করার পর তাতে নেমে আবার গোসল না করে।” [৯] মুসলিমে فِيه "ফীহি" শব্দের পরিবর্তে مِنْهُ "মিনহু" (উক্ত বর্ণনাকারী থেকে) শব্দ রয়েছে। [১০] আর আবূ দাঊদে রয়েছেঃ “অপবিত্র অবস্থায় তাতে যেন (নেমে) গোসল না করে।” [১১]
[৮] মুসলিম (২৮৩)[৯] বুখারী (২৩৯)[১০] মুসলিম (২৮২)[১১] সুনান আবূ দাঊদ (৭০)
বুলুগুল মারাম হাদিস ৬-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আবদ্ধ বা স্রোতহীন পানির বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা এসেছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিষেধ করেছেন, কেউ যেন জুনুবী অবস্থায় আবদ্ধ পানিতে নেমে গোসল না করে। অন্য বর্ণনায় এসেছে, কেউ যেন স্থির পানিতে প্রস্রাব করে তারপর তাতে গোসল না করে। হাদিসের মূল শিক্ষা হলো, যে পানি অনেকের কাজে লাগে বা জমে থাকে, তাকে নোংরা করা উচিত নয়। পানি পবিত্রতার মাধ্যম, তাই পানিকে অপবিত্র হওয়ার কারণ থেকে রক্ষা করা দরকার। এখানে ব্যক্তিগত পবিত্রতার সঙ্গে সামাজিক পরিচ্ছন্নতার দিকও আছে। স্থির পানি, আবদ্ধ পানি, প্রস্রাব ও গোসল—এসব বিষয়ে এই বর্ণনা খুব সরাসরি ও ব্যবহারিক নির্দেশনা দেয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- স্থির বা আবদ্ধ পানিকে নোংরা করা নিষেধ।
- জুনুবী অবস্থায় আবদ্ধ পানিতে নেমে গোসল করা থেকে নিষেধ এসেছে।
- পানি শুধু ব্যক্তিগত নয়, অন্যদের প্রয়োজনের সঙ্গেও যুক্ত হতে পারে।
