৬/১. অধ্যায়ঃ
عَنْ أَبِىْ هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم قَالَ لاَ تَجْعَلُوا بُيُوتَكُمْ مَقَابِرَ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, “তোমরা তোমাদের গৃহসমূহকে কবর বানিয়ে নিয়ো না।”
(মুসলিম ১৮৬০, তিরমিযী ২৮৭৭নং প্রমুখ)
عَن أَبِى سَعِيدٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم الأَرْضُ كُلُّهَا مَسْجِدٌ إِلاَّ الْحَمَّامَ وَالْمَقْبُرَةَ
আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেছেন, “কবরস্থান, প্রস্রাব-পায়খানা ও গোসল করার স্থান ছাড়া পৃথিবীর সমস্ত জায়গাই মসজিদ।” (তাতে নামাজ পড়া চলে।)
(আবূ দাউদ ৪৯২, তিরমিযী ৩১৭, ইবনে মাজাহ ৭৪৫ প্রমুখ)
عَن جندب عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم قَالَ أَلاَ فَلاَ تَتَّخِذُوا الْقُبُورَ مَسَاجِدَ إِنِّى أَنْهَاكُمْ عَن ذَلِكَ
নবী (ﷺ) বলেছেন, “সাবধান! তোমরা কবরগুলোকে মসজিদ বানিয়ে নিয়ো না। এরূপ করতে আমি তোমাদেরকে নিষেধ করছি।”
(মুসলিম ১২১৬নং)
عَنْ خَالِدِ بْنِ مَعْدَانَ(إِنَّ الِإبِلَ خُلِقَتْ مِنَ الشَّيَاطِينِ وَ إِنَّ وَرَاءَ كُلّ بَعِيْرٍ شَيْطَانًا
নবী (ﷺ) বলেছেন, “নিশ্চয় উট শয়তানী উপাদান থেকে সৃষ্ট এবং নিশ্চয় প্রত্যেক উটের পশ্চাতে শয়তান থাকে।”
(সুনান সাঈদ বিন মানসূর, মুরসাল, সঃ জামে’ ১৫৭৯নং)
عَن الْبَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ قَالَ سُئِلَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم عَن الصَّلاَةِ فِى مَبَارِكِ الإِبِلِ فَقَالَ لاَ تُصَلُّوا فِى مَبَارِكِ الإِبِلِ فَإِنَّهَا مِنَ الشَّيَاطِينِ وَسُئِلَ عَن الصَّلاَةِ فِى مَرَابِضِ الْغَنَمِ فَقَالَ صَلُّوا فِيهَا فَإِنَّهَا بَرَكَةٌ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে উটের আস্তাবলে নামাজ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বললেন, “তোমরা উটের আস্তাবলে নামাজ পড়ো না, কারণ উট শয়তানী উপাদান থেকে সৃষ্ট।” আর ছাগল-ভেড়ার গোয়ালে নামাজ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বললেন, “ছাগল-ভেড়ার গোয়ালে নামাজ পড়, কারণ তা হল বরকত।”
(আহমাদ ১৮৫৩৮, আবূ দাউদ ১৮৪, ৪৯৩নং)
৬/২. অধ্যায়ঃ
عَنْ أَبيْ مَرْثَدٍ كَنَّازِ بْنِ الحُصَيْنِ قَالَ : سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم يَقُولُ لاَ تُصَلُّوا إِلَى القُبُورِ وَلاَ تَجْلِسُوا عَلَيْهَا رواه مسلم
তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছি যে, “তোমরা কবরের দিকে মুখ করে নামাজ পড়ো না এবং তার উপর বসো না।”
(মুসলিম ২২৯৫, নাসাঈ ৭৬০নং)
৬/৩. অধ্যায়ঃ
عَنْ عُثْمَانَ بْنِ عَفَّانَ قاَلَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم مَنْ بَنَى مَسْجِدًا لِلهِ تَعَالَى (يَبْتَغِى بِهِ وَجْهَ اللهِ) بَنَى اللهُ لَهُ بَيْتًا فِى الْجَنَّةِ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, “যে ব্যক্তি আল্লাহর (সন্তুষ্টি লাভের) উদ্দেশ্যে একটি মসজিদ নির্মাণ করে দেয়, আল্লাহ তার জন্য বেহেশতে একটি ঘর বানিয়ে দেন।”
(বুখারী ৪৫০, মুসলিম ১২১৭, মিশকাত ৬৯৭নং)
عَن جَابِرٍ بْنِ عَبْدِ اللهِ عَن رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ حَفَرَ مَاءً لَمْ يَشْرَبْ مِنْهُ كَبِدٌ حَرَّى مِنْ جِنٍّ وَلاَ إِنْسٍ وَلاَ طَائِرٍ إِلاَّ آجَرَهُ اللهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَمَنْ بَنَى مَسْجِدًا كَمَفْحَصِ قَطَاةٍ أَوْ أَصْغَرَ بَنَى اللهُ لَهُ بَيْتًا فِي الْجَنَّةِ
নবী (ﷺ) বলেন, “যে ব্যক্তি পানির কোন কূপ খনন করে এবং তা হতে মানব, দানব, পশু-পক্ষী (প্রভৃতি) পিপাসার্ত জীব পানি পান করে তবে সেই ব্যক্তিকে আল্লাহ কেয়ামতের দিন তার প্রতিদান প্রদান করবেন। আর যে ব্যক্তি তিতির পাখির (পোকামাকড় খোঁজার উদ্দেশ্যে) আঁচড়ানো স্থান (বা তার বাসা) পরিমাণ আয়তনের অথবা তদপেক্ষা ছোট আকারের মসজিদ নির্মাণ করবে আল্লাহ তার জন্য জান্নাতে একটি গৃহ নির্মাণ করবেন।”
(ইবনে খুযাইমাহ ১২৯২, ইবনে মাজাহ ৭৩৮, সহীহ তারগীব ২৭১নং)
عَن أَنَسٍ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم قَالَ البُزَاقُ فِي المَسْجِدِ خَطِيئَةٌ وَكَفَّارَتُهَا دَفْنُهَا متفق عليه
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, “মসজিদের ভিতর থুথু ফেলা পাপ। আর তার কাফ্ফারা (প্রায়শ্চিত্ত) হল তা মাটিতে পুঁতে দেওয়া।”
(বুখারী ৪১৫, মুসলিম ১২৫৯নং প্রমুখ) অর্থাৎ মসজিদের মেঝে কাঁচা মাটি বা বালির হলে তা মাটি বা বালি ঢাকা দিতে হবে। আমাদের (শাফেয়ী) মাযহাবের আলেম আবুল মাহাসিন রুয়ানী তাঁর ‘আল-বাহ্র’ গ্রন্থে বলেন, বলা হয়েছে যে, দাফন করার অর্থ হল, তা মসজিদ থেকে দূর ক’রে দেওয়া। কিন্তু মসজিদের মেঝে যদি মোজাইক করা বা পাকা হয়, তাহলে তা জুতা বা অন্য কিছু দিয়ে রগড়ে দেওয়া---যেমন বহু জহেল ক’রে থাকে---দাফন করা নয়। বরং তাতে পাপ বৃদ্ধি করা এবং মসজিদকে বেশি নোংরা করা হয়। যে কেউ এমন ক’রে থাকে, তার উচিত হল, তা কাপড়, হাত অথবা অন্য কিছু দিয়ে মুছে দেওয়া অথবা পান দিয়ে ধুয়ে দেওয়া।
وَعَن عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنهَا : أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم رَأَى فِي جِدَارِ القِبْلَةِ مُخَاطاً أَوْ بُزَاقاً أَوْ نُخَامَةً فَحَكَّهُ متفق عَلَيْهِ
একদা আল্লাহর রাসূল (ﷺ) কেবলার দিকের দেওয়ালে পোঁটা, থুথু কিংবা শ্লেষ্মা দেখতে পেলেন। সুতরাং তিনি রগড়ে পরিষ্কার করে দিলেন।
(বুখারী ৪০৭, মুসলিম ১২৫৫নং)