৫/৭২. অধ্যায়ঃ
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ১০৬২ - আয়িশা রাঃ-এর বর্ণনায় নবী صلى الله عليه وسلم-এর সালাত
সালাতকে পুর্নাঙ্গ করা।
আয়িশা রাঃ-এর বর্ণনায় নবী صلى الله عليه وسلم-এর সালাতের সহজ নিয়ম
সুনানে ইবনে মাজাহ : ১০৬২
সুনানে ইবনে মাজাহহাদিস নম্বর ১০৬২
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا عَبْدَةُ بْنُ سُلَيْمَانَ، عَنْ حَارِثَةَ بْنِ أَبِي الرِّجَالِ، عَنْ عَمْرَةَ، قَالَتْ سَأَلْتُ عَائِشَةَ كَيْفَ كَانَتْ صَلاَةُ رَسُولِ اللَّهِ ـ ﷺ ـ قَالَتْ كَانَ النَّبِيُّ ـ ﷺ ـ إِذَا تَوَضَّأَ فَوَضَعَ يَدَيْهِ فِي الإِنَاءِ سَمَّى اللَّهَ وَيُسْبِغُ الْوُضُوءَ ثُمَّ يَقُومُ فَيَسْتَقْبِلُ الْقِبْلَةَ فَيُكَبِّرُ وَيَرْفَعُ يَدَيْهِ حِذَاءَ مَنْكِبَيْهِ ثُمَّ يَرْكَعُ فَيَضَعُ يَدَيْهِ عَلَى رُكْبَتَيْهِ وَيُجَافِي بِعَضُدَيْهِ ثُمَّ يَرْفَعُ رَأْسَهُ فَيُقِيمُ صُلْبَهُ وَيَقُومُ قِيَامًا هُوَ أَطْوَلُ مِنْ قِيَامِكُمْ قَلِيلاً ثُمَّ يَسْجُدُ فَيَضَعُ يَدَيْهِ تِجَاهَ الْقِبْلَةِ وَيُجَافِي بِعَضُدَيْهِ مَا اسْتَطَاعَ فِيمَا رَأَيْتُ ثُمَّ يَرْفَعُ رَأْسَهُ فَيَجْلِسُ عَلَى قَدَمِهِ الْيُسْرَى وَيَنْصِبُ الْيُمْنَى وَيَكْرَهُ أَنْ يَسْقُطَ عَلَى شِقِّهِ الأَيْسَرِ .
আমরাহ (বিনতু আবদুর রাহমান) (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি আয়িশা (রাঃ) কে জিজ্ঞেস করলাম, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সালাত কিরূপ ছিল? তিনি বলেন, তিনি ওযু করার সময় বিসমিল্লাহ বলে পাত্রে তাঁর দু’হাত রেখে পূর্ণরূপে ওযু করতেন, অতঃপর কিবলামুখী হয়ে দাঁড়িয়ে তাকবির বলতেন এবং তাঁর উভয় হাত তাঁর উভয় কাঁধ পর্যন্ত উত্তোলন করতেন অতঃপর (কিরাআত শেষে) রুকূ’ করতেন এবং তাঁর উভয় হাত উভয় হাঁটুতে রাখতেন এবং হাত দুটোকে পৃথক করে রাখতেন।তারপর মাথা উত্তোলন করে মেরুদণ্ড সোজা করে দাঁড়িয়ে যেতেন এবং তোমাদের চাইতে সামান্য বেশিক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতেন। অতঃপর তিনি সিজদা করতেন এবং তাঁর হাত দু’টি কিবলামুখী করে রাখতেন। আমি যতটা দেখেছি, তিনি যথাসাধ্য তাঁর হাত দুটি (পাঁজর থেকে) পৃথক রাখতেন। অতঃপর তিনি তাঁর মাথা তুলে তাঁর বা পায়ের উপর বসতেন এবং ডান পায়ের পাতা খাড়া রাখতেন। তিনি বাঁদিকে ঝুঁকে বসতে অপছন্দ করতেন।
[১০৬২] আবূ দাঊদ ৭৭৬। তাহক্বীক্ব আলবানী: যঈফ জিদ্দান। উক্ত হাদিসের রাবী হারিসাহ বিন আবু রিজাল সম্পর্কে আহমাদ বিন হাম্বল বলেন, তিনি দুর্বল। ইয়াহইয়া বিন মাঈন বলেন, তিনি সিকাহ নন। ইমাম বুখারী বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় মুনকার। আবু যুরআহ আর-রাযী ও আবু হাতিম আর-রাযী তাকে দুর্বল বলেছেন।
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ১০৬২-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আয়িশা (রাঃ) রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم-এর সালাতের পদ্ধতি বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, নবী صلى الله عليه وسلم ওযুর সময় বিসমিল্লাহ বলতেন এবং পূর্ণরূপে ওযু করতেন। এরপর কিবলামুখী হয়ে দাঁড়াতেন, তাকবির বলতেন এবং দুই হাত কাঁধ পর্যন্ত উঠাতেন। রুকুতে তিনি দুই হাত হাঁটুতে রাখতেন এবং বাহু আলাদা রাখতেন। রুকু থেকে উঠে মেরুদণ্ড সোজা করে দাঁড়াতেন। সিজদায় হাত কিবলামুখী রাখতেন এবং যতটা দেখেছেন, হাত পাঁজর থেকে পৃথক রাখতেন। এরপর বাম পায়ের উপর বসতেন এবং ডান পা খাড়া রাখতেন। এই বর্ণনা থেকে নামাজের নিয়ম ও শরীরের ভঙ্গি সম্পর্কে স্পষ্ট শিক্ষা পাওয়া যায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ওযুর শুরুতে আল্লাহর নাম নেওয়া এই বর্ণনায় এসেছে।
- সালাতে কিবলামুখী হয়ে তাকবির দিয়ে শুরু করা নববী পদ্ধতি।
- রুকু ও সিজদায় শরীরের ভঙ্গি ঠিক রাখা দরকার।
- সিজদার পর বাম পায়ের উপর বসা এবং ডান পা খাড়া রাখার বর্ণনা এসেছে।
