৫/৭৯. অধ্যায়ঃ
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ১০৮৪ - জুমার দিনের পাঁচ বৈশিষ্ট্য
জুমুআহর সলাতের ফাদীলাত।
জুমার দিনের পাঁচ বৈশিষ্ট্য ও দোয়ার বিশেষ মুহূর্ত
সুনানে ইবনে মাজাহ : ১০৮৪
সুনানে ইবনে মাজাহহাদিস নম্বর ১০৮৪
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ أَبِي بُكَيْرٍ، حَدَّثَنَا زُهَيْرُ بْنُ مُحَمَّدٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَقِيلٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ يَزِيدَ الأَنْصَارِيِّ، عَنْ أَبِي لُبَابَةَ بْنِ عَبْدِ الْمُنْذِرِ، قَالَ قَالَ النَّبِيُّ ـ ﷺ ـ " إِنَّ يَوْمَ الْجُمُعَةِ سَيِّدُ الأَيَّامِ وَأَعْظَمُهَا عِنْدَ اللَّهِ وَهُوَ أَعْظَمُ عِنْدَ اللَّهِ مِنْ يَوْمِ الأَضْحَى وَيَوْمِ الْفِطْرِ فِيهِ خَمْسُ خِلاَلٍ خَلَقَ اللَّهُ فِيهِ آدَمَ وَأَهْبَطَ اللَّهُ فِيهِ آدَمَ إِلَى الأَرْضِ وَفِيهِ تَوَفَّى اللَّهُ آدَمَ وَفِيهِ سَاعَةٌ لاَ يَسْأَلُ اللَّهَ فِيهَا الْعَبْدُ شَيْئًا إِلاَّ أَعْطَاهُ مَا لَمْ يَسْأَلْ حَرَامًا وَفِيهِ تَقُومُ السَّاعَةُ مَا مِنْ مَلَكٍ مُقَرَّبٍ وَلاَ سَمَاءٍ وَلاَ أَرْضٍ وَلاَ رِيَاحٍ وَلاَ جِبَالٍ وَلاَ بَحْرٍ إِلاَّ وَهُنَّ يُشْفِقْنَ مِنْ يَوْمِ الْجُمُعَةِ» .
আবূ লুবাবাহ বিন আবদুল মুনযির (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, নবী (ﷺ) বলেছেন, জুমুআহ্র দিন হলো সপ্তাহের দিনসমূহের নেতা এবং তা আল্লাহ্র নিকট অধিক সম্মানিত। এ দিনটি আল্লাহর নিকট কুরবানীর দিন ও ঈদুল ফিতরের দিনের চেয়ে অধিক সম্মানিত। এ দিনে রয়েছে পাঁচটি বৈশিষ্ট্যঃ এ দিন আল্লাহ আদম (আঃ) -কে সৃষ্টি করেন, এ দিনই আল্লাহ তাঁকে পৃথিবীতে পাঠান এবং এ দিনই আল্লাহ তাঁর মৃত্যু দান করেন। এ দিনে এমন একটি মুহূর্ত আছে, কোন বান্দা তখন আল্লাহ্র নিকট কিছু প্রার্থনা করলে তিনি তাকে তা দান করেন, যদি না সে হারাম জিনিসের প্রার্থনা করে এবং এ দিনই কিয়ামত সংঘটিত হবে। নৈকট্যপ্রাপ্ত ফেরেশতাগণ, আসমান-যমীন, বায়ু, পাহাড়-পর্বত ও সমুদ্র সবই জুমুআহ্র দিন শংকিত হয়।
[১০৮৪] আহমাদ ১৫১২০ তাহক্বীক্ব আলবানী: হাসান। তাখরীজ আলবানী: মিশকাত ১৩৬৩।
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ১০৮৪-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে জুমার দিনের ফজিলত খুব স্পষ্টভাবে এসেছে। নবী (صلى الله عليه وسلم) বলেছেন, জুমুআর দিন সপ্তাহের দিনসমূহের নেতা এবং আল্লাহর কাছে অধিক সম্মানিত। হাদিসে এ দিনের পাঁচটি বৈশিষ্ট্য বলা হয়েছে। এ দিন আদম (আঃ)-কে সৃষ্টি করা হয়, তাঁকে পৃথিবীতে পাঠানো হয়, তাঁর মৃত্যু হয়, এ দিনে এমন একটি মুহূর্ত আছে যখন বান্দা আল্লাহর কাছে কিছু চাইলে তিনি দেন—যদি তা হারাম কিছু না হয়, এবং এ দিনেই কেয়ামত হবে। শেষে বলা হয়েছে, নৈকট্যপ্রাপ্ত ফিরিশতা, আসমান-জমিন, বায়ু, পাহাড় ও সমুদ্র—সবই জুমার দিন নিয়ে শঙ্কিত হয়। তাই জুমার দিনের দোয়া ও আমলকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- জুমার দিনকে সপ্তাহের দিনসমূহের নেতা বলা হয়েছে।
- জুমার দিনে দোয়ার একটি বিশেষ মুহূর্ত থাকার কথা এসেছে।
- হারাম বিষয়ে দোয়া না করার শিক্ষা পাওয়া যায়।
- কিয়ামতের সাথে জুমার দিনের সম্পর্ক বর্ণিত হয়েছে।
