৫/১৪৫. অধ্যায়ঃ
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ১২৪২ - ফজরের কুনূত থেকে বিরত থাকার নির্দেশ
ফজরের সলাতে দুআ’ কুনুত পড়া প্রসঙ্গে।
ফজরের কুনূত নিষেধ: সংক্ষিপ্ত হাদিসের স্পষ্ট শিক্ষা
সুনানে ইবনে মাজাহ : ১২৪২
সুনানে ইবনে মাজাহহাদিস নম্বর ১২৪২
حَدَّثَنَا حَاتِمُ بْنُ بَكْرٍ الضَّبِّيُّ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَعْلَى، زُنْبُورٌ حَدَّثَنَا عَنْبَسَةُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ نَافِعٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ، قَالَتْ نَهَى رَسُولُ اللَّهِ ـ ﷺ ـ عَنِ الْقُنُوتِ فِي الْفَجْرِ .
উম্মু সালামাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ফজরের সালাতে দোয়া কুনূত পড়তে নিষেধ করেছেন।
[১২৪২] নাই তাহক্বীক্ব আলবানী: মাওযু। তাখরীজ আলবানী: ইরওয়া ৪৩৬ যঈফ, তিরমিযী ৪০১, ৪০২ সহীহ, ইবনু খুযাইমাহ ১০৯৪ যঈফ। উক্ত হাদিসের রাবী১. মুহাম্মাদ বিন ইয়ালা যুনবুর সম্পর্কে ইবনু হিব্বান সিকাহ বললেও তিনি বলেন, তার মাধ্যমে দলীল গ্রহণযোগ্য হবে না। ইমাম বুখারী বলেন, তার ব্যাপারে সমালোচনা রয়েছে। আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তার হাদিস প্রত্যাখ্যানযোগ্য। আহমাদ বিন হাম্বল বলেন, তিনি জাহমিয়া দলের অন্তর্ভুক্ত। ইমাম নাসাঈ বলেন, তিনি সিকাহ নন। আস-সাজী বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় মুনকার।২. আম্বাসা বিন আব্দুর রহমান সম্পর্কে ইমাম বুখারী বলেন, হাদিস বিশারদগণ তাকে প্রত্যাখ্যান করেছেন। আবু দাউদ আস-সাজিসতানী তাকে দুর্বল বলে আখ্যায়িত করেছেন। ইমাম তিরমিযি তাকে দুর্বল বলেছেন। আবু যুরআহ আর-রাযী বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় মুনকার। আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তিনি বানিয়ে হাদিস বর্ণনা করেন, তার হাদিস প্রত্যাখ্যানযোগ্য।৩. আবদুল্লাহ বিন নাফি' সম্পর্কে ইয়াহইয়া বিন মাঈন বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় দুর্বল। আলী ইবনুল মাদীনী বলেন, তিনি একাধিক মুনকার হাদিস বর্ণনা করেছেন। ইমাম বুখারী বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় মুনকার। মুহাম্মাদ বিন সা'দ তাকে দুর্বল হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় মুনকার ও অধিক দুর্বল। ইমাম নাসাঈ বলেন, তার হাদিস প্রত্যাখ্যানযোগ্য।
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ১২৪২-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসটি খুব ছোট, কিন্তু এর বক্তব্য পরিষ্কার। উম্মু সালামা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) ফজরের সালাতে দোয়া কুনূত পড়তে নিষেধ করেছেন। এখানে হাদিসের মূল শিক্ষা হলো, ফজরের সালাতে কুনূত বিষয়ে নবীজি (صلى الله عليه وسلم)-এর নিষেধের বর্ণনা আছে। ব্যাখ্যার সময় মনে রাখতে হবে, এই হাদিসে কোনো দীর্ঘ আলোচনা, সময়সীমা বা বিশেষ ঘটনা বলা হয়নি। তাই অতিরিক্ত কথা না বাড়িয়ে বলা উচিত—ফজরের কুনূত বিষয়ে এই বর্ণনা মুসল্লিকে সতর্ক করে যে সালাতের প্রতিটি আমল প্রমাণভিত্তিক হওয়া দরকার। ইসলামী স্কলারদের মতে, এ বিষয়ে অন্যান্য বর্ণনাও আলোচনায় আনা হয়; তবে এই নির্দিষ্ট হাদিসের সরাসরি বক্তব্য হলো নিষেধ।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সালাতের আমল প্রমাণ দেখে করা উচিত।
- এই বর্ণনায় ফজরের কুনূত থেকে নিষেধ এসেছে।
- ছোট হাদিস থেকেও গুরুত্বপূর্ণ আমলগত শিক্ষা পাওয়া যায়।
- ব্যাখ্যায় হাদিসের ভাষার বাইরে অতিরিক্ত দাবি করা ঠিক নয়।
