৫/১৫০. অধ্যায়ঃ
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ১২৫৫ - ওয়াক্তে সালাত ও পরে জামাআত
নির্দিষ্ট ওয়াক্ত থেকে বিলম্ব করে সালাত পড়া সর্ম্পকে।
সালাত ওয়াক্তে পড়া: পরে জামাআতে নফল হিসেবে অংশ নেওয়া
সুনানে ইবনে মাজাহ : ১২৫৫
সুনানে ইবনে মাজাহহাদিস নম্বর ১২৫৫
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الصَّبَّاحِ، أَنْبَأَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ عَيَّاشٍ، عَنْ عَاصِمٍ، عَنْ زِرٍّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ " لَعَلَّكُمْ سَتُدْرِكُونَ أَقْوَامًا يُصَلُّونَ الصَّلاَةَ لِغَيْرِ وَقْتِهَا فَإِنْ أَدْرَكْتُمُوهُمْ فَصَلُّوا فِي بُيُوتِكُمْ لِلْوَقْتِ الَّذِي تَعْرِفُونَ ثُمَّ صَلُّوا مَعَهُمْ وَاجْعَلُوهَا سُبْحَةً " .
‘আবদুল্লাহ ইবনু মাস‘ঊদ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, অচিরেই হয়ত তোমরা এমন সব লোকের সাক্ষাৎ পাবে যারা নির্দিষ্ট ওয়াক্তে সালাত না পড়ে ভিন্ন ওয়াক্তে তা পড়বে। তোমরা তাদের সাক্ষাৎ পেলে নিজেদের ঘরে তোমাদের প্রসিদ্ধ ওয়াক্তে সালাত পড়ে নিও, অতঃপর তাদের সাথে (জামাআতে) তা পড়ে নিও এবং একে নফলরূপে গণ্য করো।
[১২৫৫] আবূ দাঊদ ৪৩২, আহমাদ ৩৮৭৯, ৪০২০, ৪৩৩৪। তাহক্বীক্ব আলবানী: হাসান সহীহ। তাখরীজ আলবানী: সহীহ আবী দাউদ ৪৫৮। আবু বকর বিন আবু আয়্যাশ সম্পর্কে আহমাদ বিন হাম্বল বলেন, তিনি সিকাহ তবে হাদিস বর্ণনায় সংমিশ্রণ করেন। আল-আজালী বলেন, তিনি সিকাহ তবে হাদিস বর্ণনায় ভুল করেন। আস-সাজী বলেন, তিনি সত্যবাদী কিন্তু হাদিস বর্ণনায় সন্দেহ করেন। ইবনু হিব্বান বলেন হাদিস বিশারদগণ তার থেকে বেঁচে থেকেছেন।
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ১২৫৫-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) ভবিষ্যতে এমন লোকদের দেখা পাওয়ার কথা বলেন, যারা নির্দিষ্ট সময়ে সালাত না পড়ে অন্য সময়ে পড়বে। তখন তিনি নির্দেশ দেন, তাদের দেখা পেলে নিজেদের ঘরে পরিচিত সময় অনুযায়ী সালাত পড়ে নিতে। এরপর তাদের সাথে জামাআতে সালাত পড়তে বলা হয়েছে এবং সেটিকে নফল হিসেবে গণ্য করতে বলা হয়েছে। এই হাদিসের মূল শিক্ষা হলো, ফরজ সালাতের নির্দিষ্ট ওয়াক্তকে আগে গুরুত্ব দেওয়া। পরে যদি এমন জামাআত পাওয়া যায়, যেখানে তারা বিলম্বিত সময়ে সালাত পড়ছে, তখন সেখানে অংশ নেওয়া যায়—কিন্তু নিজের মূল সালাত আগে ওয়াক্তে পড়ে নেওয়া উচিত। হাদিসটি ওয়াক্ত, জামাআত ও নফল সালাতের সম্পর্ক সুন্দরভাবে বোঝায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সালাত তার নির্দিষ্ট ওয়াক্তে আদায় করা উচিত।
- অন্যরা দেরিতে পড়লে নিজের সালাত আগে ওয়াক্তে পড়ে নিতে বলা হয়েছে।
- পরে তাদের সাথে পড়লে সেটি নফল হিসেবে গণ্য করার কথা এসেছে।
- জামাআতে অংশ নেওয়া ও ওয়াক্ত রক্ষা—দুই দিকই হাদিসে এসেছে।
