৫/১৫২. অধ্যায়ঃ
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ১২৬৩ - কুসূফ সালাতের রাকাত ও রুকুর বর্ণনা
সলাতুল কুসূফ (সূর্যগ্রহণের সালাত)
কুসূফ সালাতের নিয়ম: দীর্ঘ কিরাআত, রুকু ও আল্লাহর নিদর্শন
সুনানে ইবনে মাজাহ : ১২৬৩
সুনানে ইবনে মাজাহহাদিস নম্বর ১২৬৩
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَمْرِو بْنِ السَّرْحِ الْمِصْرِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي يُونُسُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، أَخْبَرَنِي عُرْوَةُ بْنُ الزُّبَيْرِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ كَسَفَتِ الشَّمْسُ فِي حَيَاةِ رَسُولِ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ فَخَرَجَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ إِلَى الْمَسْجِدِ فَقَامَ فَكَبَّرَ فَصَفَّ النَّاسُ وَرَاءَهُ فَقَرَأَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ قِرَاءَةً طَوِيلَةً ثُمَّ كَبَّرَ فَرَكَعَ رُكُوعًا طَوِيلاً ثُمَّ رَفَعَ رَأْسَهُ فَقَالَ " سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ " . ثُمَّ قَامَ فَقَرَأَ قِرَاءَةً طَوِيلَةً هِيَ أَدْنَى مِنَ الْقِرَاءَةِ الأُولَى ثُمَّ كَبَّرَ فَرَكَعَ رُكُوعًا طَوِيلاً هُوَ أَدْنَى مِنَ الرُّكُوعِ الأَوَّلِ ثُمَّ قَالَ " سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ " . ثُمَّ فَعَلَ فِي الرَّكْعَةِ الأُخْرَى مِثْلَ ذَلِكَ فَاسْتَكْمَلَ أَرْبَعَ رَكَعَاتٍ وَأَرْبَعَ سَجَدَاتٍ وَانْجَلَتِ الشَّمْسُ قَبْلَ أَنْ يَنْصَرِفَ ثُمَّ قَامَ فَخَطَبَ النَّاسَ فَأَثْنَى عَلَى اللَّهِ بِمَا هُوَ أَهْلُهُ ثُمَّ قَالَ " إِنَّ الشَّمْسَ وَالْقَمَرَ آيَتَانِ مِنْ آيَاتِ اللَّهِ لاَ يَنْكَسِفَانِ لِمَوْتِ أَحَدٍ وَلاَ لِحَيَاتِهِ فَإِذَا رَأَيْتُمُوهُمَا فَافْزَعُوا إِلَى الصَّلاَةِ " .
'আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবদ্দশায় সূর্যগ্রহণ হলে তিনি বের হয়ে মসজিদে চলে যান। তিনি দাঁড়িয়ে তাকবিরে তাহরীমা বলেন এবং লোকজন তাঁর পিছনে কাতারবন্দী হয়ে দাঁড়ায়। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) দীর্ঘ কিরাআত পড়েন, অতঃপর তাকবির বলে দীর্ঘ রুকূ‘ করেন, অতঃপর মাথা তুলে “সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ রব্বানা ওয়ালাকাল হাম্দ” বলেন।অতঃপর দাঁড়িয়ে দীর্ঘ কিরাআত পড়েন, তবে তা ছিল পূর্বের কিরাআতের তুলনায় কম দীর্ঘ। অতঃপর তাকবির বলে রুকূ‘তে গিয়ে দীর্ঘ রুকূ‘ করেন, তবে তা পূর্বের রুকূ‘র চেয়ে কম দীর্ঘ ছিল। অতঃপর “সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ রব্বানা ওয়ালাকাল হাম্দ” বলেন। তিনি দ্বিতীয় রাকআতেও তাই করেন। তিনি মোট চার রাকআত সালাত পড়েন এবং তাঁর সালাত শেষ করার পূর্বেই সূর্যগ্রহণ সমাপ্ত হয়।অতঃপর তিনি দাঁড়িয়ে লোকেদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দেন। তিনি আল্লাহ তাআলার যথোপযুক্ত প্রশংসা করার পর বলেন, সূর্য ও চন্দ্র আল্লাহর নির্দেশসমূহের অন্তর্ভুক্ত দু’টি নিদর্শন। কারো জীবন-মৃত্যুতে সূর্যগ্রহণ বা চন্দ্রগ্রহণ হয় না। তোমরা তা দেখলে ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে সালাতে রত হও।
[১২৬৩] বুখারী ১০৪৪, ১০৪৬-৪৭, ১০৫০, ১০৫৬, ১০৫৮, ১০৬৪, ১০৬৬, ১২১২, ৩২০৩; মুসলিম ৯০১-৫, ৯০২-৩; তিরমিযী ৫৬১, ৫৬৩; নাসায়ী ১৪৬৫-৬৬, ১৪৭০, ১৪৭২-৭৭, ১৪৮১, ১৪৯৪, ১৪৯৭, ১৪৯৯, ১৫০০; আহমাদ ১১৭৭, ১১৮০, ১১৮৭-৮৮, ১১৯০; আহমাদ ২৩৭৪৭, ২৩৯৫২, ২৪৭৮৪, ২৪৮২৩; মুওয়াত্ত্বা মালিক ৪৪৪, ৪৪৬; দারিমী ১৫২৭, ১৫২৯। তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ। তাখরীজ আলবানী: ইরওয়াহ ৬৫৮, সহীহ আবী দাউদ ১০৬৮, ১০৭১।
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ১২৬৩-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে সূর্যগ্রহণের সালাত বা কুসূফ সালাতের বিস্তারিত পদ্ধতি এসেছে। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) মসজিদে গিয়ে তাকবির বলেন, মানুষ তাঁর পিছনে কাতারবন্দী হয়। তিনি দীর্ঘ কিরাআত করেন, দীর্ঘ রুকু করেন, তারপর মাথা তুলে হামদ বলেন। এরপর আবার দাঁড়িয়ে কিরাআত করেন, তবে আগের চেয়ে কম দীর্ঘ। আবার রুকু করেন, সেটিও আগের রুকুর চেয়ে কম দীর্ঘ। দ্বিতীয় রাকাতেও একইভাবে করেন। মোট দুই রাকাতে চার রুকু ও চার সিজদা হয়। সালাত শেষ হওয়ার আগে সূর্যগ্রহণ শেষ হয়ে যায়। এরপর তিনি খুতবা দিয়ে বলেন, সূর্য ও চন্দ্র আল্লাহর নিদর্শন; কারো জীবন-মৃত্যুর কারণে গ্রহণ হয় না। তাই গ্রহণ দেখলে সালাতে মন দেওয়া উচিত। এই বর্ণনা আমল, বিশ্বাস এবং ভুল ধারণা সংশোধন—তিনটি বিষয় একসাথে শেখায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- কুসূফ সালাতে দীর্ঘ কিরাআত ও দীর্ঘ রুকুর বর্ণনা এসেছে।
- সূর্য ও চন্দ্র আল্লাহর নিদর্শন—এগুলোকে কুসংস্কারের সাথে জড়ানো ঠিক নয়।
- গ্রহণ দেখলে সালাতে ফিরে যাওয়া নববী নির্দেশ।
