৫/১৭৬. অধ্যায়ঃ
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ১৩৩৭ - কাঁদতে কাঁদতে সুমধুর কণ্ঠে কুরআন তিলাওয়াত
সুমধুর কণ্ঠে কুরআন তিলাওয়াত করা।
সুমধুর কণ্ঠে কুরআন তিলাওয়াত ও অন্তরের নরমতা
সুনানে ইবনে মাজাহ : ১৩৩৭
সুনানে ইবনে মাজাহহাদিস নম্বর ১৩৩৭
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ بَشِيرِ بْنِ ذَكْوَانَ الدِّمَشْقِيُّ، حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ، حَدَّثَنَا أَبُو رَافِعٍ، عَنِ ابْنِ أَبِي مُلَيْكَةَ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ السَّائِبِ، قَالَ قَدِمَ عَلَيْنَا سَعْدُ بْنُ أَبِي وَقَّاصٍ وَقَدْ كُفَّ بَصَرُهُ فَسَلَّمْتُ عَلَيْهِ فَقَالَ مَنْ أَنْتَ فَأَخْبَرْتُهُ . فَقَالَ مَرْحَبًا بِابْنِ أَخِي بَلَغَنِي أَنَّكَ حَسَنُ الصَّوْتِ بِالْقُرْآنِ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ يَقُولُ " إِنَّ هَذَا الْقُرْآنَ نَزَلَ بِحُزْنٍ فَإِذَا قَرَأْتُمُوهُ فَابْكُوا فَإِنْ لَمْ تَبْكُوا فَتَبَاكَوْا وَتَغَنَّوْا بِهِ فَمَنْ لَمْ يَتَغَنَّ بِهِ فَلَيْسَ مِنَّا " .
‘আবদুর রহমান ইবনুস সায়িব (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
সা‘দ বিন আবূ ওয়াক্কাস (রাঃ) আমাদের নিকট এলেন। তখন তাঁর দৃষ্টিশক্তি লোপ পেয়েছিল। আমি তাঁকে সালাম দিলে তিনি বলেন, তুমি কে? আমি তাঁকে আমার পরিচয় দিলে তিনি বলেন, মারহাবা, হে ভাতিজা! আমি জানতে পেরেছি যে, তুমি সুকণ্ঠে কোরআন তিলাওয়াত করো। আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি : নিশ্চয় এই কোরআন দুশ্চিন্তার সাথে নাযিল হয়েছে। অতএব তোমরা যখন কোরআন তিলাওয়াত করো, তখন কাঁদো। যদি তোমরা কাঁদতে না পারো, তাহলে কান্নার ভাব জাগ্রত করো এবং সুমধুর স্বরে কোরআন তিলাওয়াত করো। যে ব্যক্তি সুমধুর কণ্ঠে কোরআন তিলাওয়াত করে না, সে আমাদের নয়।
[১৩৩৭] আবূ দাঊদ ১৪৬৯, আহমাদ ১৪৭৯, ১৫১৫, ১৫৫২। তাহক্বীক্ব আলবানী: যঈফ। তাখরীজ আলবানী: তালীকুর রগীব ২১৫, কিন্তু সুমধুর কণ্ঠে পাঠ করা থেকে সহীহ, সিফাতুস, সলাহ। উক্ত হাদিসের রাবী আবু রাফি' (ইসমাইল বিন রাফি') সম্পর্কে আহমাদ বিন হাম্বল ও ইয়াহইয়া বিন মাঈন তাকে দুর্বল বলেছেন। আমর বিন ফাল্লাস বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় দুর্বল ও মুনকার।
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ১৩৩৭-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে কুরআন তিলাওয়াতের আদব নিয়ে গভীর শিক্ষা আছে। সা’দ বিন আবু ওয়াক্কাস (রাঃ) একজনকে বলেন, তিনি শুনেছেন যে তার কুরআন তিলাওয়াত সুকণ্ঠে হয়। এরপর তিনি রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর কথা বর্ণনা করেন: এই কুরআন দুশ্চিন্তার সাথে নাযিল হয়েছে। তাই কুরআন পড়ার সময় কাঁদো; কাঁদতে না পারলে কান্নার ভাব জাগাও; এবং সুমধুর স্বরে কুরআন তিলাওয়াত করো। এখানে কুরআন পড়ার মূল উদ্দেশ্য শুধু আওয়াজ সুন্দর করা নয়; বরং অন্তর নরম হওয়া, আল্লাহর কথা বুঝে প্রভাবিত হওয়া। সুমধুর কণ্ঠের সাথে ভয়, বিনয় ও মনোযোগ থাকা দরকার। হাদিসটি কুরআন তিলাওয়াত, সুন্দর কণ্ঠ এবং কান্নার ভাব নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দেয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- কুরআন তিলাওয়াতের সময় অন্তর নরম রাখার শিক্ষা এসেছে।
- কাঁদতে না পারলে কান্নার ভাব আনার কথা বলা হয়েছে।
- সুমধুর কণ্ঠে কুরআন পড়তে উৎসাহ দেওয়া হয়েছে।
- তিলাওয়াতে শুধু সুর নয়, বিনয় ও প্রভাবও দরকার।
