৫/১৯৪. অধ্যায়ঃ
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ১৪০৩ - ওয়াক্তমত সালাতের হেফাজত
পাঁচ ওয়াক্তের ফরয সালাত ও তার হিফাযাত করা।
ওয়াক্তমত সালাতের হেফাজত ও জান্নাতের আশা
সুনানে ইবনে মাজাহ : ১৪০৩
সুনানে ইবনে মাজাহহাদিস নম্বর ১৪০৩
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ عُثْمَانَ بْنِ سَعِيدِ بْنِ كَثِيرِ بْنِ دِينَارٍ الْحِمْصِيُّ، حَدَّثَنَا بَقِيَّةُ بْنُ الْوَلِيدِ، حَدَّثَنَا ضُبَارَةُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي السَّلِيلِ، أَخْبَرَنِي دُوَيْدُ بْنُ نَافِعٍ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، قَالَ قَالَ سَعِيدُ بْنُ الْمُسَيَّبِ إِنَّ أَبَا قَتَادَةَ بْنَ رِبْعِيٍّ أَخْبَرَهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ قَالَ " قَالَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ افْتَرَضْتُ عَلَى أُمَّتِكَ خَمْسَ صَلَوَاتٍ وَعَهِدْتُ عِنْدِي عَهْدًا أَنَّهُ مَنْ حَافَظَ عَلَيْهِنَّ لِوَقْتِهِنَّ أَدْخَلْتُهُ الْجَنَّةَ وَمَنْ لَمْ يُحَافِظْ عَلَيْهِنَّ فَلاَ عَهْدَ لَهُ عِنْدِي " .
আবূ কাতাদাহ বিন রিবঈ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আবূ কাতাদাহ বিন রিবঈ (রাঃ) তাকে অবহিত করেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, মহামহিম আল্লাহ বলেছেন, আমি আপনার উম্মাতের উপর পাঁচ ওয়াক্ত সালাত ফরজ করেছি এবং আমি আমার নিকট এ অঙ্গীকার করছি যে, যে ব্যক্তি যথাযথভাবে ওয়াক্তমত এসব সালাতের হেফাজত করবে, আমি তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবো। আর যে ব্যক্তি তা যথাযথভাবে হেফাজত করবে না, তার জন্য আমার পক্ষ থেকে কোন অঙ্গীকার নাই।
[১৪০৩] আবূ দাঊদ ৪৩০ তাহক্বীক্ব আলবানী: হাসান। তাখরীজ আলবানী: জামি সগীর ৪০৪৫ যঈফ, সহীহা ৪০৩৩ সহীহ, সহীহ আবী দাউদ ৪৫৫। উক্ত হাদিসের রাবী১. বাকিয়্যাহ সম্পর্কে আবু যুরআহ আর-রাযী বলেন, যখন তিনি সিকাহ রাবী থেকে হাদিস বর্ণনা করেন, তখন তাকে সিকাহ হিসেবে গণ্য করা হবে। ইমাম নাসাঈ বলেন, যখন তিনি হাদ্দাসানা বা আখবারানা শব্দদ্বয় দ্বারা হাদিস বর্ণনা করেন, তখন তিনি সিকাহ হিসেবে গণ্য হবেন।২. দুররাহ বিন আবদুল্লাহ বিন আবুস সুলায়ক সম্পর্কে ইবনু আদী বলেন, তিনি দুর্বল। ইবনুল কাত্তান বলেন, তিনি অপরিচিত।
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ১৪০৩-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আল্লাহর পক্ষ থেকে পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের গুরুত্ব খুব স্পষ্টভাবে এসেছে। আল্লাহ বলেছেন, তিনি উম্মতের উপর পাঁচ ওয়াক্ত সালাত ফরজ করেছেন। যে ব্যক্তি এসব সালাত যথাযথভাবে ও ওয়াক্তমত হেফাজত করবে, তাকে জান্নাতে প্রবেশ করানোর অঙ্গীকার রয়েছে। আর যে ব্যক্তি সালাতের হেফাজত করবে না, তার জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে এমন অঙ্গীকার নেই। এখানে ‘হেফাজত’ শব্দটি খুব গুরুত্বপূর্ণ। এর মধ্যে সময়মত আদায় করা, সালাতকে গুরুত্ব দেওয়া এবং নিয়মিত থাকা—এসব অর্থ বোঝা যায়। হাদিসটি আমাদের শেখায়, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজকে দিনের কাজের ফাঁকে নয়, বরং জীবনের প্রধান দায়িত্ব হিসেবে দেখা উচিত।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আল্লাহর ফরজ বিধান।
- ওয়াক্তমত সালাত আদায় করা সালাতের হেফাজতের অংশ।
- সালাতের প্রতি যত্ন জান্নাত লাভের কারণ হতে পারে।
- সালাত অবহেলা করলে মানুষ বড় ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।
