৬/৪৮. অধ্যায়ঃ
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ১৫৭৩ - ঈমানহীন অবস্থার পরিণতি নিয়ে সতর্কতা
মুশরিকদের কবর যিয়ারত।
মুশরিকের কবর নিয়ে সতর্কতা: ঈমানের গুরুত্বের হাদিস
সুনানে ইবনে মাজাহ : ১৫৭৩
সুনানে ইবনে মাজাহহাদিস নম্বর ১৫৭৩
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَعِيلَ بْنِ الْبَخْتَرِيِّ الْوَاسِطِيُّ حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ سَعْدٍ عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ سَالِمٍ عَنْ أَبِيهِ قَالَ جَاءَ أَعْرَابِيٌّ إِلَى النَّبِيِّ ﷺ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللهِ ﷺ إِنَّ أَبِي كَانَ يَصِلُ الرَّحِمَ وَكَانَ وَكَانَ فَأَيْنَ هُوَ قَالَ فِي النَّارِ قَالَ فَكَأَنَّهُ وَجَدَ مِنْ ذَلِكَ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللهِ ﷺ فَأَيْنَ أَبُوكَ قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ ﷺ حَيْثُمَا مَرَرْتَ بِقَبْرِ مُشْرِكٍ فَبَشِّرْهُ بِالنَّارِ قَالَ فَأَسْلَمَ الْأَعْرَابِيُّ بَعْدُ وَقَالَ لَقَدْ كَلَّفَنِي رَسُولُ اللهِ ﷺ ﷺ تَعَبًا مَا مَرَرْتُ بِقَبْرِ كَافِرٍ إِلَّا بَشَّرْتُهُ بِالنَّارِ.
ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
এক বেদুইন নবী (ﷺ) এর নিকট উপস্থিত হয়ে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমার পিতা আত্মীয়তার সম্পর্ক বহাল রাখতেন এবং তিনি এই এই কাজ করতেন। তিনি কোথায় আছেন? তিনি বলেন, জাহান্নামে। রাবী বলেন, এতে সে ব্যথিত হলো। সে বলল, হে আল্লাহ্র রাসূল! আপনার পিতা কোথায় আছে? রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, তুমি যখন কোন মুশরিকের কবর অতিক্রম করো, তখন তাকে জাহান্নামের দুঃসংবাদ দিও। রাবী বলেন, সেই বেদুইন পরে ইসলাম গ্রহণ করে এবং বলে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নিশ্চয়ই আমাকে একটি কাজের দায়িত্ব দিয়েছেনঃ আমি কোন কাফেরের কবর অতিক্রম করলেই তাকে দোযখের দুঃসংবাদ দিয়েছি।
[১৫৭২] হাদিসটি ইমাম ইবনু মাজাহ এককভাবে বর্ণনা করেছেন। সহীহাহ ১৮। তাহকীক আলবানীঃ সহীহ
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ১৫৭৩-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে এক বেদুইন নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর কাছে এসে তার পিতার ভালো কাজের কথা বলে জিজ্ঞেস করে, তিনি কোথায় আছেন। নবী (صلى الله عليه وسلم) বলেন, জাহান্নামে। এতে সে কষ্ট পায় এবং নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর পিতা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে। তখন রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বলেন, তুমি যখন কোনো মুশরিকের কবর অতিক্রম করবে, তাকে জাহান্নামের দুঃসংবাদ দাও। পরে বর্ণনায় এসেছে, সেই বেদুইন ইসলাম গ্রহণ করে এবং কথাটি পালন করত। এই হাদিসের ব্যাখ্যায় খুব সতর্ক থাকা দরকার। এখানে আত্মীয়তার সম্পর্ক বা ভালো কাজের কথা থাকলেও বর্ণনার কেন্দ্র হলো মুশরিক অবস্থার পরিণতি। তাই এটিকে সাধারণভাবে জীবিত মানুষের বিচার করার ভাষা বানানো ঠিক নয়। মূল শিক্ষা হলো, ঈমানের বিষয়টি গুরুতর এবং কবরের প্রসঙ্গে নবীজি (صلى الله عليه وسلم)-এর কথাকে যথাযথভাবে বুঝতে হবে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ভালো সামাজিক কাজের কথা থাকলেও হাদিসে ঈমানের গুরুত্ব সামনে এসেছে।
- মুশরিকের কবর প্রসঙ্গে নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর কঠোর সতর্কতা এসেছে।
- কষ্টকর প্রশ্নের জবাবেও সত্য কথাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
- বর্ণনাকে সাধারণ মানুষের ওপর অসতর্কভাবে প্রয়োগ করা উচিত নয়।
