০/২৯. অধ্যায়ঃ
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ১৫৯ - জারীর (রাঃ)-এর জন্য নবীজির দোয়া
জারীর বিন আবদুল্লাহ আল-বাজালী (রাঃ)-এর সম্মান
জারীর (রাঃ)-এর জন্য দোয়া: স্থিরতা, হিদায়াত ও সুন্দর ব্যবহার
সুনানে ইবনে মাজাহ : ১৫৯
সুনানে ইবনে মাজাহহাদিস নম্বর ১৫৯
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ نُمَيْرٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ إِدْرِيسَ، عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ أَبِي خَالِدٍ، عَنْ قَيْسِ بْنِ أَبِي حَازِمٍ، عَنْ جَرِيرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الْبَجَلِيِّ، قَالَ مَا حَجَبَنِي رَسُولُ اللَّهِ ـ ﷺ ـ مُنْذُ أَسْلَمْتُ وَلاَ رَآنِي إِلاَّ تَبَسَّمَ فِي وَجْهِي وَلَقَدْ شَكَوْتُ إِلَيْهِ أَنِّي لاَ أَثْبُتُ عَلَى الْخَيْلِ فَضَرَبَ بِيَدِهِ فِي صَدْرِي فَقَالَ " اللَّهُمَّ ثَبِّتْهُ وَاجْعَلْهُ هَادِيًا مَهْدِيًّا " .
জারীর বিন আবদুল্লাহ আল-বাজালী (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি ইসলাম গ্রহণের দিন থেকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর ঘরে প্রবেশে আমাকে কখনো বাধা দেননি এবং তিনি যখনই আমাকে দেখেছেন আমার সামনে হেসে দিয়েছেন। আমি তাঁর নিকট অভিযোগ করি যে, আমি ঘোড়ার পিঠে স্থির হয়ে থাকতে পারি না। তিনি তাঁর হাত দিয়ে আমার বুকে মৃদু আঘাত করে বলেন, হে আল্লাহ্! তাকে (ঘোড়ার পিঠে) স্থির রাখো এবং তাকে হিদায়াতকারী ও হিদায়াতপ্রাপ্ত বানিয়ে দাও।
[১৫৭] বুখারী ৩০২০, মুসলিম ২৪৭৫/১-২, ২৪৭৬; তিরমিযী ৩৮২০-২১, আহমাদ ১৮৬৯২, ১৯৬৯৭, ১৮৭২৬, ১৮৭৬৫। তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ।
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ১৫৯-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে জারীর বিন আবদুল্লাহ (রাঃ)-এর সঙ্গে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর সুন্দর আচরণ এসেছে। জারীর (রাঃ) বলেন, ইসলাম গ্রহণের দিন থেকে নবীজি (صلى الله عليه وسلم) তাঁকে ঘরে প্রবেশে বাধা দেননি এবং যখনই দেখেছেন, তাঁর সামনে হাসিমুখে থেকেছেন। এরপর জারীর (রাঃ) বলেন, তিনি ঘোড়ার পিঠে স্থির থাকতে পারতেন না। নবীজি (صلى الله عليه وسلم) তাঁর বুকে হাত দিয়ে দোয়া করেন—হে আল্লাহ! তাকে স্থির রাখুন এবং তাকে হিদায়াতকারী ও হিদায়াতপ্রাপ্ত বানান। এই হাদিসে নবীজি (صلى الله عليه وسلم)-এর হাসিমুখ, স্নেহ, সাহাবীর সমস্যায় মনোযোগ এবং উপকারী দোয়ার শিক্ষা রয়েছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- মানুষকে হাসিমুখে গ্রহণ করা নবীজি (صلى الله عليه وسلم)-এর সুন্দর আদব।
- সমস্যার কথা শুনে দোয়া করা ভালো আচরণ।
- হিদায়াতকারী ও হিদায়াতপ্রাপ্ত হওয়া বড় নেয়ামত।
- নেতা বা শিক্ষক হলে স্নেহ ও সহানুভূতি দেখানো উচিত।
