৬/৫৬. অধ্যায়ঃ
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ১৬০২ - বিপদগ্রস্তকে সান্ত্বনার সওয়াব
বিপদগ্রস্ত ব্যক্তিকে সান্ত্বনা দেয়ার সওয়াব।
বিপদগ্রস্তকে সান্ত্বনা দিলে অনুরূপ সওয়াবের আশা
সুনানে ইবনে মাজাহ : ১৬০২
সুনানে ইবনে মাজাহহাদিস নম্বর ১৬০২
حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ رَافِعٍ قَالَ حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ عَاصِمٍ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سُوقَةَ عَنْ إِبْرَاهِيمَ عَنْ الْأَسْوَدِ عَنْ عَبْدِ اللهِ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ ﷺ مَنْ عَزَّى مُصَابًا فَلَهُ مِثْلُ أَجْرِهِ
‘আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি বিপদগ্রস্ত লোককে সান্ত্বনা দেয় তার জন্য রয়েছে অনুরূপ সওয়াব।
[১৬০০] তিরমিযী ১০৭৩ ইরওয়াহ ৭৬৫, মিশকাত ১৭৩৭। তাহকীক আলবানীঃ যঈফ। উক্ত হাদিসের রাবী আলী বিন আসিম সম্পর্কে ইয়াযীদ বিন হারুন বলেন, আমরা তাকে সর্বদা মিথ্যুক হিসেবে জানি। আহমাদ বিন হাম্বল বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় ভুল ও সংমিশ্রণ করেন। ইয়াহিয়া বিন মাঈন তাকে মিথ্যুক বলেছেন। আমর বিন ফাল্লাস বলেন, তার মাঝে দুর্বলতা রয়েছে। ইমাম বুখারী বলেন, তিনি হাদিস বিশারদগনের নিকট নির্ভরযোগ্য নন।
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ১৬০২-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে বলা হয়েছে, যে ব্যক্তি বিপদগ্রস্ত মানুষকে সান্ত্বনা দেয়, তার জন্য অনুরূপ সওয়াব রয়েছে। এখানে সান্ত্বনার গুরুত্ব খুব পরিষ্কারভাবে বোঝানো হয়েছে। কারো বিপদে পাশে থাকা, তাকে ধৈর্যের কথা বলা, আল্লাহর দিকে ফিরতে মনে করিয়ে দেওয়া—এসব কাজ ছোট মনে হলেও হাদিসে এর মূল্য আছে। তবে সান্ত্বনা যেন লোক দেখানো না হয়। বিপদগ্রস্ত মানুষকে অপ্রয়োজনীয় প্রশ্ন করা, ভিড় করা বা তার কষ্ট বাড়িয়ে দেওয়া সান্ত্বনার উদ্দেশ্যের সঙ্গে যায় না। এই হাদিস আমাদের শেখায়, শোকের সময় মানুষের পাশে থাকা ইবাদতের মতোই মূল্যবান হতে পারে, যখন তা আন্তরিকতা ও ভালো আচরণ দিয়ে করা হয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- বিপদগ্রস্তকে সান্ত্বনা দেওয়া আল্লাহর কাছে সওয়াবের কাজ।
- সান্ত্বনা মানে শুধু কথা নয়; সহানুভূতি ও পাশে থাকা।
- শোকাহত মানুষের কষ্ট না বাড়িয়ে তাকে ধৈর্যের দিকে সাহায্য করা উচিত।
