৭/১. অধ্যায়ঃ
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ১৬৪০ - রাইয়্যান দরজা ও রোজাদারের মর্যাদা
সিয়াম বা রোযার ফযিলত।
রাইয়্যান দরজা: রোজাদারের জন্য জান্নাতের বিশেষ সম্মান
সুনানে ইবনে মাজাহ : ১৬৪০
সুনানে ইবনে মাজাহহাদিস নম্বর ১৬৪০
حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الدِّمَشْقِيُّ حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي فُدَيْكٍ حَدَّثَنِي هِشَامُ بْنُ سَعْدٍ عَنْ أَبِي حَازِمٍ عَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ قَالَ «إِنَّ فِي الْجَنَّةِ بَابًا يُقَالُ لَهُ الرَّيَّانُ يُدْعَى يَوْمَ الْقِيَامَةِ يُقَالُ أَيْنَ الصَّائِمُونَ فَمَنْ كَانَ مِنْ الصَّائِمِينَ دَخَلَهُ وَمَنْ دَخَلَهُ لَمْ يَظْمَأْ أَبَدًا».
সাহল ইবনু সা'দ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) বলেন, জান্নাতের একটি দরজার নাম ‘রায়্যান’। কিয়ামাতের দিন সেখান থেকে আহ্বান করা হবেঃ রোযাদারগণ কোথায়? যে ব্যক্তি রোযাদার হবে, সে উক্ত দরজা দিয়ে প্রবেশ করবে এবং যে উক্ত দরজা দিয়ে প্রবেশ করবে, সে কখনও পিপাসার্ত হবে না।
[১৬৪০] সহীহুল বুখারী ১৮৯৬, ৩২৫৭, মুসলিম ১১৫২, তিরমিযী ৭৬৫, নাসায়ী ২২৩৬, ২২৩৭, আহমাদ ২২৩১১, ২২৩৩৫ সহীহ তারগীব ৯৬৯, বুখারী, মুসলিম পিপাসার কথা ব্যতীত। তাহকীক আলবানীঃ সহীহ। উক্ত হাদিসের রাবী হিশাম বিন সা'দ সম্পর্কে আহমাদ বিন হাম্বল বলেন, তার মুখস্তশক্তি দুর্বল। আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তার হাদিস গ্রহন করা যায় কিন্তু দলীলযোগ্য নয়। ইবনু হাজার আসকালানী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে হাদিস বর্ণনায় সন্দেহ করেন। তার শিয়া মতাবলম্বী হওয়ার ব্যাপারে অভিযোগ আছে। (তাহযীবুল কামাল রাবী নং ৬৫৭৭, ৩০/২০৪ নং পৃষ্ঠা)
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ১৬৪০-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রোজাদারের মর্যাদা খুব সহজ ও শক্তভাবে বোঝানো হয়েছে। নবী صلى الله عليه وسلم বলেছেন, জান্নাতে একটি দরজা আছে, যার নাম রাইয়্যান। কেয়ামতের দিন এই দরজা থেকে ডাকা হবে, রোজাদারগণ কোথায়? অর্থাৎ যারা রোজা পালন করেছে, তাদের জন্য আলাদা সম্মানের ডাক থাকবে। হাদিসের মূল শিক্ষা হলো, রোজা শুধু না খেয়ে থাকা নয়; এটি এমন একটি ইবাদত, যার জন্য আখিরাতে বিশেষ প্রতিদানের আশা আছে। এখানে বলা হয়েছে, যে ব্যক্তি ওই দরজা দিয়ে প্রবেশ করবে, সে আর কখনও পিপাসার্ত হবে না। তাই রাইয়্যান দরজার হাদিস রোজার ফজিলত, রোজাদারের সম্মান এবং জান্নাতের আশাকে একসাথে মনে করিয়ে দেয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- রোজাদারের জন্য জান্নাতে রাইয়্যান নামে বিশেষ দরজার কথা বলা হয়েছে।
- কেয়ামতের দিন রোজাদারদের আলাদা করে আহ্বান করা হবে।
- রোজা আখিরাতের সম্মান ও আল্লাহর রহমত লাভের একটি বড় কারণ।
