৭/৫৪. অধ্যায়ঃ
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ১৭৬৩ - মেহমানের নফল রোজায় মেজবানের সম্মতি
কোন ব্যক্তি কোন সম্প্রদায়ের মেহমান হলে সে তাদের সম্মতি ব্যতীত (নফল) সিয়াম রাখবে না।
মেহমানের নফল রোজা: মেজবানের সম্মতির শিক্ষা
সুনানে ইবনে মাজাহ : ১৭৬৩
সুনানে ইবনে মাজাহহাদিস নম্বর ১৭৬৩
- حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى الْأَزْدِيُّ حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ دَاوُدَ وَخَالِدُ بْنُ أَبِي يَزِيدَ قَالَا حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ الْمَدَنِيُّ عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَائِشَةَ عَنْ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ إِذَا نَزَلَ الرَّجُلُ بِقَوْمٍ فَلَا يَصُومُ إِلَّا بِإِذْنِهِمْ
'আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) বলেনঃ কোন ব্যক্তি কোন সম্প্রদায়ের মেহমান হলে সে যেন তাদের সম্মতি ব্যতীত (নফল) সিয়াম না রাখে।
[১৭৬৩] তিরমিযী ৭৮৯, যঈফাহ ২৭১৪। তাহকীক আলবানীঃ অত্যন্ত দুর্বল। উক্ত হাদিসের রাবী আবু বকর আল-মাদানী সম্পর্কে ইমাম তিরমিযি ও ইমাম যাহাবী দুর্বল বলেছেন। ইবনু হাজার আল-আসকালানী বলেন, তিনি দুর্বল।
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ১৭৬৩-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে নবী (صلى الله عليه وسلم) বলেছেন, কোনো ব্যক্তি কোনো সম্প্রদায়ের মেহমান হলে সে যেন তাদের সম্মতি ব্যতীত নফল সিয়াম না রাখে। মেহমান ও মেজবানের সম্পর্ক আদবের সম্পর্ক। মেজবান হয়তো মেহমানের জন্য খাবারের ব্যবস্থা করে, তার আপ্যায়ন করতে চায়। এমন অবস্থায় মেহমান নফল রোজা রাখলে মেজবানের মন খারাপ হতে পারে বা আপ্যায়নের পরিকল্পনা ব্যাহত হতে পারে। হাদিসটি আমাদের শেখায়, নফল আমল করার সময়ও মানুষের হক, সম্মান ও সামাজিক সৌজন্য খেয়াল রাখতে হয়। এখানে ফরজ রোজার কথা বলা হয়নি; মেহমানের অবস্থায় নফল সিয়ামের ক্ষেত্রে অনুমতির কথা এসেছে। “মেহমানের রোজা”, “মেজবানের সম্মতি” ও “নফল সিয়ামের আদব” এই হাদিসের মূল কীওয়ার্ড।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- মেহমান হলে মেজবানের সম্মতি ও অনুভূতি খেয়াল রাখা দরকার।
- নফল রোজা রাখার ক্ষেত্রেও সামাজিক আদবের শিক্ষা আছে।
- ইসলাম শুধু ব্যক্তিগত ইবাদত নয়, মানুষের হকও শেখায়।
- মেজবানের আপ্যায়নকে অকারণে অস্বস্তিতে ফেলা ঠিক নয়।
