৯/৪. অধ্যায়ঃ

সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ১৮৫৩ - আল্লাহ ছাড়া কাউকে সিজদা নয়

স্ত্রীর উপর স্বামীর অধিকার।

আল্লাহ ছাড়া সিজদা নয়: মু‘আয (রাঃ)-এর ঘটনার শিক্ষা

সুনানে ইবনে মাজাহহাদিস নম্বর ১৮৫৩

حَدَّثَنَا أَزْهَرُ بْنُ مَرْوَانَ قَالَ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ عَنْ أَيُّوبَ عَنْ الْقَاسِمِ الشَّيْبَانِيِّ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ أَبِي أَوْفَى قَالَ لَمَّا قَدِمَ مُعَاذٌ مِنْ الشَّامِ سَجَدَ لِلنَّبِيِّ ﷺ قَالَ مَا هَذَا يَا مُعَاذُ قَالَ أَتَيْتُ الشَّامَ فَوَافَقْتُهُمْ يَسْجُدُونَ لِأَسَاقِفَتِهِمْ وَبَطَارِقَتِهِمْ فَوَدِدْتُ فِي نَفْسِي أَنْ نَفْعَلَ ذَلِكَ بِكَفَقَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ فَلَا تَفْعَلُوا فَإِنِّي لَوْ كُنْتُ آمِرًا أَحَدًا أَنْ يَسْجُدَ لِغَيْرِ اللهِ لَأَمَرْتُ الْمَرْأَةَ أَنْ تَسْجُدَ لِزَوْجِهَا وَالَّذِي نَفْسُ مُحَمَّدٍ بِيَدِهِ لَا تُؤَدِّي الْمَرْأَةُ حَقَّ رَبِّهَا حَتَّى تُؤَدِّيَ حَقَّ زَوْجِهَا وَلَوْ سَأَلَهَا نَفْسَهَا وَهِيَ عَلَى قَتَبٍ لَمْ تَمْنَعْهُ

‘আবদুল্লাহ ইবনু আবূ আওফা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

মুআয (রাঃ) সিরিয়া থেকে ফিরে এসে নবী (ﷺ)-কে সিজদা করেন। নবী (ﷺ) বলেন, হে মুআয! এ কী? তিনি বলেন, আমি সিরিয়ায় গিয়ে দেখতে পাই যে, তথাকার লোকেরা তাদের ধর্মীয় নেতা ও শাসকদেরকে সিজদা করে। তাই আমি মনে মনে আশা পোষণ করলাম যে, আমি আপনার সামনে তাই করবো।রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, তোমরা তা করো না। কেননা আমি যদি কোন ব্যক্তিকে আল্লাহ ছাড়া অপর কাউকে সিজদা করার নির্দেশ দিতাম, তাহলে স্ত্রীকে নির্দেশ দিতাম তার স্বামীকে সিজদা করতে। সেই সত্তার শপথ, যাঁর হাতে মুহাম্মাদের প্রাণ! স্ত্রী তার স্বামীর প্রাপ্য অধিকার আদায় না করা পর্যন্ত তার প্রভুর প্রাপ্য অধিকার আদায় করতে সক্ষম হবে না। স্ত্রী শিবিকার মধ্যে থাকা অবস্থায় স্বামী তার সাথে জৈবিক চাহিদা পূরণ করতে চাইলে স্ত্রীর তা প্রত্যাখ্যান করা অনুচিত।

[১৮৫৩] হাদিসটি ইমাম ইবনু মাজাহ এককভাবে বর্ণনা করেছেন। ইরওয়াহ ৭/৫৫-৫৬, আদাবুয যিফাফ ১৭৮, সহিহাহ ১২০৩। তাহকীক আলবানীঃ হাসান সহীহ। উক্ত হাদিসের রাবী কাসিম আশ-শায়বানী সম্পর্কে ইবনু হিব্বান বলেন, তিনি সিকাহ। শু'বাহ ইবনুল হাজ্জাজ তাকে দুর্বল হিসেবে উল্লেখ করেছেন। আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় ইদতিরাব করেন। ইমাম নাসাঈ বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় দুর্বল। ইবনু আদী বলেন, তার থেকে হাদিস গ্রহন করা যায়। ইমাম যাহাবী বলেন, তার অবস্থা সম্পর্কে মতানৈক্য রয়েছে। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৪৮০৫, ২৩/৩৯৯ নং পৃষ্ঠা)

সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ১৮৫৩-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে মু‘আয (রাঃ)-এর একটি ঘটনা এসেছে। তিনি সিরিয়া থেকে ফিরে এসে নবী (صلى الله عليه وسلم)-কে সিজদা করেন। নবীজি জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, সেখানে লোকেরা তাদের ধর্মীয় নেতা ও শাসকদের সিজদা করে, তাই তিনি নবীজির জন্য তা করতে চেয়েছেন। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) স্পষ্টভাবে বলেন, তোমরা তা করো না। এরপর তিনি বলেন, যদি আল্লাহ ছাড়া কাউকে সিজদা করতে নির্দেশ দিতেন, তাহলে স্ত্রীকে স্বামীকে সিজদা করতে বলতেন। এখানে দুটি শিক্ষা একসাথে এসেছে: ইবাদতের সিজদা শুধু আল্লাহর জন্য, আর দাম্পত্য জীবনে স্বামীর অধিকার গুরুতর। হাদিসের শেষ অংশে স্ত্রীর দাম্পত্য দায়িত্বের কথাও জোর দিয়ে বলা হয়েছে।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • আল্লাহ ছাড়া কাউকে সিজদা করা যাবে না।
  • বিদেশি রীতি দেখে তা দ্বীনে গ্রহণ করা ঠিক নয়।
  • স্বামীর অধিকারকে হাদিসে গুরুত্বের সঙ্গে উল্লেখ করা হয়েছে।
  • দাম্পত্য সম্পর্কে দায়িত্ব পালনের বিষয়টি অবহেলা করা উচিত নয়।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন