০/৩৪. অধ্যায়ঃ
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ১৯০ - শহীদের জীবন ও আল্লাহর সম্মান
জাহমিয়াহ্ সম্প্রদায় যা অমান্য করে
শহীদের মর্যাদা: জাবির (রাঃ)-এর পিতার সুসংবাদ
সুনানে ইবনে মাজাহ : ১৯০
সুনানে ইবনে মাজাহহাদিস নম্বর ১৯০
حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ الْمُنْذِرِ الْحِزَامِيُّ، وَيَحْيَى بْنُ حَبِيبِ بْنِ عَرَبِيٍّ، قَالاَ حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ كَثِيرٍ الأَنْصَارِيُّ الْحَرَامِيُّ، قَالَ سَمِعْتُ طَلْحَةَ بْنَ خِرَاشٍ، قَالَ سَمِعْتُ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ، يَقُولُ لَمَّا قُتِلَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَمْرِو بْنِ حَرَامٍ يَوْمَ أُحُدٍ لَقِيَنِي رَسُولُ اللَّهِ ـ ﷺ ـ فَقَالَ «يَا جَابِرُ أَلاَ أُخْبِرُكَ مَا قَالَ اللَّهُ لأَبِيكَ». وَقَالَ يَحْيَى فِي حَدِيثِهِ فَقَالَ «يَا جَابِرُ مَالِي أَرَاكَ مُنْكَسِرًا». قَالَ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ اسْتُشْهِدَ أَبِي وَتَرَكَ عِيَالاً وَدَيْنًا . قَالَ «أَفَلاَ أُبَشِّرُكَ بِمَا لَقِيَ اللَّهُ بِهِ أَبَاكَ». قَالَ بَلَى يَا رَسُولَ اللَّهِ . قَالَ " مَا كَلَّمَ اللَّهُ أَحَدًا قَطُّ إِلاَّ مِنْ وَرَاءِ حِجَابٍ وَكَلَّمَ أَبَاكَ كِفَاحًا . فَقَالَ يَا عَبْدِي تَمَنَّ عَلَىَّ أُعْطِكَ . قَالَ يَا رَبِّ تُحْيِينِي فَأُقْتَلُ فِيكَ ثَانِيَةً . فَقَالَ الرَّبُّ سُبْحَانَهُ إِنَّهُ سَبَقَ مِنِّي أَنَّهُمْ إِلَيْهَا لاَ يَرْجِعُونَ . قَالَ يَا رَبِّ فَأَبْلِغْ مَنْ وَرَائِي . قَالَ فَأَنْزَلَ اللَّهُ تَعَالَى ﴾وَلاَ تَحْسَبَنَّ الَّذِينَ قُتِلُوا فِي سَبِيلِ اللَّهِ أَمْوَاتًا بَلْ أَحْيَاءٌ عِنْدَ رَبِّهِمْ يُرْزَقُونَ﴿».
জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
উহূদের যুদ্ধের দিন আবদুল্লাহ্ বিন আম্র বিন হারাম (রাঃ) শহীদ হলে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমার সাথে সাক্ষাৎ করেন এবং বলেন, হে জাবির! আল্লাহ্ তাআলা তোমার পিতা সম্পর্কে যা বলেছেন, আমি কি তোমাকে তা অবহিত করবো না? ইয়াহিয়া (রহঃ)-এর বর্ণনায় আছে : রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, হে জাবির! আমার কী হলো, আমি তোমাকে ভগ্ন হৃদয় দেখছি কেন? জাবির (রাঃ) বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহ্র রাসূল! আমার পিতা শহীদ হয়েছেন এবং তিনি অনেক সন্তান ও ঋণের বোঝা রেখে গেছেন।তিনি বলেন, আমি কি তোমাকে সুসংবাদ দিবো না যে, আল্লাহ্ তাআলা তোমার পিতার সাথে কিভাবে সাক্ষাৎ করেছেন? তিনি বলেন, অবশ্যই, হে আল্লাহ্র রাসূল! তিনি বলেন, আল্লাহ্ তাআলা কখনো অন্তরাল ছাড়া কারো সাথে কথা বলেননি, কিন্তু তোমার পিতার সাথে অন্তরাল ছাড়াই কথা বলেছেন। তিনি বলেছেন, কে আমার বান্দা! আমার কাছে কামনা করো, আমি তোমাকে দান করবো।তোমার পিতা বললো, হে প্রভু! আমাকে জীবন দান করুন, যাতে আমি আপনার রাস্তায় পুনরায় শহীদ হতে পারি। মহান ও পবিত্র প্রতিপালক আল্লাহ্ বলেন, আমি তো আগেই লিপিবদ্ধ করে দিয়েছি যে, লোকেরা (মৃত্যুর পর) (পৃথিবীতে) ফিরে যাবে না। তোমার পিতা বললো, হে প্রভু! তাহলে আমার পশ্চাতবর্তীদের কাছে (আমার সৌভাগ্যের) এ খবর পৌঁছে দিন।তিনি বলেন, তখন আল্লাহ্ তাআলা এ আয়াত নাযিল করেন (অনুবাদ): "যারা আল্লাহ্র পথে নিহত হয়েছে, তোমরা তাদের কখনো মৃত মনে করো না, বরং তারা জীবিত এবং তারা তাদের প্রভুর নিকট থেকে জীবিকাপ্রাপ্ত"-(সূরা আল ইমরান: ৩ :১৬৯)।
[১৮৮] বুখারী ৭৪৪৪, তিরমিযী ৩০১০, দারিমী ২৮২২। তাহক্বীক্ব আলবানী: হাসান। তাখরীজ আলবানী: ফিলাল ৬০২। উক্ত হাদিসের রাবী মুসা বিন ইবরাহীম সম্পর্কে ইমাম যাহাবী তাকে সমর্থন করলেও ইবনু হিব্বান বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় ভুল করেন।
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ১৯০-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল বিষয় হলো শহীদের মর্যাদা। উহুদের দিনে জাবির (রাঃ)-এর পিতা আব্দুল্লাহ বিন আমর বিন হারাম (রাঃ) শহীদ হন। জাবির (রাঃ) দুঃখিত ছিলেন; তাঁর পিতা সন্তান ও ঋণ রেখে গিয়েছিলেন। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) তাঁকে সুসংবাদ দেন যে, আল্লাহ তাঁর পিতার সঙ্গে অন্তরাল ছাড়া কথা বলেছেন। আল্লাহ তাঁকে কামনা করতে বলেন। তিনি চান, আবার জীবন পেয়ে আল্লাহর পথে শহীদ হতে। আল্লাহ জানান, মৃত্যুর পর দুনিয়ায় ফিরে যাওয়া হবে না। তখন তিনি চান, এ সংবাদ পরবর্তীদের কাছে পৌঁছাক। এরপর শহীদদের জীবিত থাকার আয়াত নাজিল হয়। এই হাদিসে শহীদের সম্মান, আখিরাতের আশা এবং পরিবারকে সান্ত্বনার শিক্ষা আছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- আল্লাহর পথে শহীদ হওয়া বড় মর্যাদার বিষয় হিসেবে এসেছে।
- দুঃখের সময় রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) সাহাবীদের সান্ত্বনা দিতেন।
- শহীদদের ব্যাপারে কুরআনের সুসংবাদ মুমিনকে আখিরাতের আশা দেয়।
