৯/২৮. অধ্যায়ঃ
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ১৯২০ - লজ্জাস্থান হেফাজত ও আল্লাহর প্রতি লজ্জা
সহবাসের সময় পর্দা করা।
লজ্জাস্থান হেফাজতের হাদিস: শালীনতা ও আল্লাহভীতি
সুনানে ইবনে মাজাহ : ১৯২০
সুনানে ইবনে মাজাহহাদিস নম্বর ১৯২০
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ وَأَبُو أُسَامَةَ قَالَا حَدَّثَنَا بَهْزُ بْنُ حَكِيمٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّهِ قَالَ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللهِ عَوْرَاتُنَا مَا نَأْتِي مِنْهَا وَمَا نَذَرُ قَالَ احْفَظْ عَوْرَتَكَ إِلَّا مِنْ زَوْجَتِكَ أَوْ مَا مَلَكَتْ يَمِينُكَ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللهِ أَرَأَيْتَ إِنْ كَانَ الْقَوْمُ بَعْضُهُمْ فِي بَعْضٍ قَالَ فَإِنْ اسْتَطَعْتَ أَنْ لَا تُرِيَهَا أَحَدًا فَلَا تُرِيَنَّهَا قُلْتُ يَا رَسُولَ اللهِ فَإِنْ كَانَ أَحَدُنَا خَالِيًا قَالَ فَاللهُ أَحَقُّ أَنْ يُسْتَحْيَا مِنْهُ مِنْ النَّاسِ
মুআবিয়াহ আল-কুশায়রী (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের লজ্জাস্থানের কতখানি ঢেকে রাখবো, আর কতখানি খুলে রাখবো? তিনি বলেনঃ তোমার লজ্জাস্থান আপন স্ত্রী ও ক্রীতদাসী ছাড়া অন্যদের থেকে হেফাজত করবে। আমি বললাম, হে আল্লাহ্র রাসূল! আপনার অভিমত কী যে, লোকেরা যদি একত্রে বসবাস করে? তিনি বলেনঃ যদি তুমি কাউকে না দেখিয়ে পারো, তবে অবশ্যই তা দেখাবে না। আমি বললাম, হে আল্লাহ্র রাসূল! আমাদের কেউ যদি নির্জনে থাকে? তিনি বলেনঃ আল্লাহ্ অধিক অগ্রগণ্য যে, মানুষের চেয়ে তাঁর প্রতি বেশি লজ্জাশীল হতে হবে।
[১৯২০] তিরমিযী ২৭৬৯, ২৭৯৪, আবূ দাউদ ৪০১৭, মিশকাত ৩১১৭। আদাবুয যিফাফ ৩৬ নং পৃষ্ঠা। তাহকীক আলবানীঃ হাসান।
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ১৯২০-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে লজ্জাস্থান হেফাজত করার খুব স্পষ্ট শিক্ষা এসেছে। সাহাবি রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم-কে জিজ্ঞেস করেন, লজ্জাস্থান কতটুকু ঢেকে রাখা হবে এবং কখন খোলা যাবে। উত্তরে তিনি বলেন, স্ত্রী বা দাসী ছাড়া অন্যদের থেকে তা হেফাজত করতে হবে। এরপর একসঙ্গে থাকার অবস্থার কথা জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, সম্ভব হলে কাউকে দেখানো যাবে না। আর নির্জনে থাকার প্রশ্নে তিনি বলেন, আল্লাহ মানুষের চেয়ে বেশি হকদার যে তাঁর প্রতি লজ্জাশীল হওয়া হবে। তাই এই হাদিসের মূল বার্তা হলো, পর্দা শুধু মানুষের সামনে নয়, একাকী অবস্থাতেও বান্দার মনে আল্লাহর প্রতি লজ্জা থাকা উচিত।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- লজ্জাস্থান হেফাজত করা মুসলিম জীবনের শালীনতার অংশ।
- একসঙ্গে বসবাসের সময়ও ব্যক্তিগত পর্দা রক্ষা করার চেষ্টা করা উচিত।
- নির্জনেও আল্লাহর প্রতি লজ্জাশীল মনোভাব রাখা দরকার।
- শালীনতা শুধু সামাজিক আচরণ নয়, এটি আল্লাহভীতির সাথেও জড়িত।
