১২/১. অধ্যায়ঃ
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ২১৩৮ - স্বোপার্জিত আয় ও পরিবারের খরচ
আয়-রোজগার করতে উৎসাহ প্রদান।
স্বোপার্জিত আয়: পরিবারে খরচও সদকা
সুনানে ইবনে মাজাহ : ২১৩৮
সুনানে ইবনে মাজাহহাদিস নম্বর ২১৩৮
حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ عَيَّاشٍ، عَنْ بَحِيرِ بْنِ سَعْدٍ، عَنْ خَالِدِ بْنِ مَعْدَانَ، عَنِ الْمِقْدَامِ بْنِ مَعْدِيكَرِبَ الزُّبَيْدِيِّ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ ـ ﷺ ـ قَالَ «مَا كَسَبَ الرَّجُلُ كَسْبًا أَطْيَبَ مِنْ عَمَلِ يَدِهِ وَمَا أَنْفَقَ الرَّجُلُ عَلَى نَفْسِهِ وَأَهْلِهِ وَوَلَدِهِ وَخَادِمِهِ فَهُوَ صَدَقَةٌ».
মিকদাম বিন মা’দীকারিব (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসুলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ মানুষের স্বোপার্জিত আয়-রোজগারের চেয়ে উত্তম আয়-রোজগার আর কিছুই নাই। কোন ব্যক্তি তার নিজের জন্য, পরিবারের জন্য, তার সন্তানের জন্য এবং তার কর্মচারীর জন্য যা ব্যয় করে তা দান-খয়রাত হিসেবে গণ্য হয়।
[২১৩৮] সহীহুল বুখারী ২০৭২, আহমাদ ১৬৭২৭, ১৬৭৩৯, গায়াতুল মারাম ১৬৩, আত-তালীকুর রাগীব ৩/২। তাহকীক আলবানীঃ সহীহ। উক্ত হাদিসের রাবী ইসমাঈল বিন আয়্যাশ সম্পর্কে ইয়াহইয়া বিন মাঈন বলেন, আহলে শাম থেকে হাদিস বর্ণনায় কোন সমস্যা নেই। আলী ইবনুল মাদীনী, ইবনু আবু শায়বাহ, আমর ইবনুল ফাল্লাস ও দুহায়ম বলেন, শাম শহর থেকে হাদিস বর্ণনায় তিনি সিকাহ কিন্তু অন্য শহর থেকে হাদিস বর্ণনায় দুর্বল। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৪৭২, ৩/১৬৩ নং পৃষ্ঠা)
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ২১৩৮-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বলেছেন, মানুষের নিজের হাতের কাজের উপার্জনের চেয়ে উত্তম উপার্জন নেই। এরপর তিনি বলেছেন, কোনো ব্যক্তি নিজের জন্য, পরিবারের জন্য, সন্তানের জন্য এবং কর্মচারীর জন্য যা ব্যয় করে, তা দান-খয়রাত হিসেবে গণ্য হয়। এই হাদিস হালাল উপার্জন ও দায়িত্বশীল ব্যয়ের গুরুত্ব শেখায়। শুধু আয় করাই নয়, সেই আয় সঠিক জায়গায় খরচ করাও ভালো কাজ। পরিবার, সন্তান এবং কর্মচারীর প্রয়োজন পূরণকে এখানে সদকার মর্যাদার সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। তাই সংসারের বৈধ খরচকে ছোট মনে করা উচিত নয়। নিজের শ্রমে আয় করা এবং দায়িত্ব নিয়ে খরচ করা—দুটিই মুমিনের সুন্দর জীবনের অংশ।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- নিজের হাতে উপার্জন করা উত্তম আয়ের পথ।
- পরিবার, সন্তান ও কর্মচারীর জন্য বৈধ ব্যয় সদকা হিসেবে গণ্য হয়।
- উপার্জনের সঙ্গে দায়িত্বশীল খরচের সম্পর্ক আছে।
