১৫/৮. অধ্যায়ঃ
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ২৪০৩ - ধনীর ঋণ পরিশোধে গড়িমসি জুলুম
হাওয়ালা (ঋণের দায় হস্তান্তর)।
ঋণ পরিশোধে গড়িমসি জুলুম: সচ্ছল দেনাদারের হাদিস
সুনানে ইবনে মাজাহ : ২৪০৩
সুনানে ইবনে মাজাহহাদিস নম্বর ২৪০৩
حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ " الظُّلْمُ مَطْلُ الْغَنِيِّ وَإِذَا أُتْبِعَ أَحَدُكُمْ عَلَى مَلِيءٍ فَلْيَتْبَعْ».
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ ধনী ব্যক্তির ঋণ পরিশোধে গড়িমসি করা অন্যায়। সচ্ছল ব্যক্তির নিকট তোমাদের কারো পাওনা থাকলে সে যেন তার পেছনে লেগে থাকে। (শেষোক্ত বাক্যের আরো একটি অর্থ হতে পারেঃ তোমাদের কারো ঋণ পরিশোধ করার জন্য ঋণগ্রস্ত ব্যক্তি কোন সক্ষম ব্যক্তির উপর দায়িত্ব ন্যস্ত করলে তা অনুমোদন করা উচিত)
[২৪০৩] সহীহুল বুখারী ২২৮৭, ২২৮৮, ২৪০০, মুসলিম ১৫৬৪, তিরমিযী ১৩০৮, নাসায়ী ৪৬৮৮, ৪৬৯১, আবূ দাউদ ৩৩৪৫, আহমাদ ৭২৯১, ২৭৭৭৮, ৭৪৮৮, ২৭৩৯২, ৮৬৭৯, ২৭২৩৯, ৯৬৭৬, মুয়াত্তা মালেক ১৩৭৯, দারেমী ২৫৮৬, ইরওয়া ১৪১৮, রাওদুন নাদীর ১১৩৭। তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ২৪০৩-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) খুব সরলভাবে বলেছেন, ধনী বা সচ্ছল ব্যক্তির ঋণ পরিশোধে গড়িমসি করা অন্যায়। অর্থাৎ যার সামর্থ্য আছে, সে পাওনা আটকে রাখলে তা শুধু দেরি নয়, জুলুমের পর্যায়ে পড়ে। হাদিসে আরেকটি দিক এসেছে: কারো পাওনা যদি কোনো সচ্ছল ব্যক্তির কাছে থাকে, সে যেন তার পেছনে লেগে থাকে। অনুবাদে শেষ বাক্যের আরেক অর্থও উল্লেখ করা হয়েছে—ঋণগ্রস্ত ব্যক্তি যদি ঋণ পরিশোধের দায়িত্ব কোনো সক্ষম ব্যক্তির ওপর দেয়, তা গ্রহণ করা উচিত। তাই “ঋণ পরিশোধ”, “হাওয়ালা” ও “পাওনাদারের অধিকার” এই হাদিসের মূল বিষয়। এতে দেনাদার ও পাওনাদার—দুজনের জন্যই ভারসাম্যপূর্ণ শিক্ষা আছে। তাই ব্যক্তিগত, পারিবারিক বা সামাজিক লেনদেনে কথা পরিষ্কার রাখা, হিসাব লিখে রাখা এবং অন্যের হককে সম্মান করা এই শিক্ষার সঙ্গে সুন্দরভাবে মিলে যায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সচ্ছল হয়েও ঋণ পরিশোধে দেরি করা অন্যায়।
- পাওনাদারের অধিকারকে হালকা করে দেখা উচিত নয়।
- সক্ষম ব্যক্তির কাছে পাওনা থাকলে তা অনুসরণ করা বৈধ নির্দেশ হিসেবে এসেছে।
