১৫/১৫. অধ্যায়ঃ
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ২৪২১ - পাওনা চাইতে হলেও বিনয় জরুরি
উত্তম পন্থায় পাওনা আদায়ের তাগাদা দেয়া এবং বিনীতভাবে পাওনা গ্রহণ করা।
পাওনা আদায়ের আদব ও বিনয়ী দাবি
সুনানে ইবনে মাজাহ : ২৪২১
সুনানে ইবনে মাজাহহাদিস নম্বর ২৪২১
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ خَلَفٍ الْعَسْقَلاَنِيُّ، وَمُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى، قَالاَ حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي مَرْيَمَ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ أَيُّوبَ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي جَعْفَرٍ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، وَعَائِشَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ قَالَ «مَنْ طَلَبَ حَقًّا فَلْيَطْلُبْهُ فِي عَفَافٍ وَافٍ أَوْ غَيْرِ وَافٍ».
ইবনু উমার ও আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ কোন ব্যক্তি পাওনা আদায়ের তাগাদা দিলে যেন বিনীতভাবেই তাগাদা দেয়, তাতে পাওনা আদায় হোক বা না হোক।
[২৪২১] হাদীসটি ইমাম ইবনু মাজাহ (রহঃ) এককভাবে বর্ণনা করেছেন। আত-তালীকুর রাগীব ৩/২০। তাহকীক আলবানীঃ সহীহ। উক্ত হাদীসের রাবী ইয়াহইয়া বিন আয়্যুব সম্পর্কে আবু আহমাদ আল-হাকিম বলেন, তিনি তাঁর মুখস্থ হাদীস থেকে হাদীস বর্ণনায় ভুল করেন, কিন্তু তাঁর কিতাবে লিখিত হাদীস থেকে বর্ণনায় কোন সমস্যা নেই। আবু বকর আল-ইসমাইলী বলেন, তাঁর হাদীস দ্বারা দলীল গ্রহণযোগ্য নয়। আবু মুহাম্মাদ বিন হাযম বলেন, তিনি দুর্বল। ইবনু হাজার আল-আসকালানী (রহঃ) বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে হাদীস বর্ণনায় কখনো কখনো ভুল করেন। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৬৭৯২, ৩১/২৩৩ নং পৃষ্ঠা)
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ২৪২১-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) পাওনা আদায়ের সময় ভাষা ও আচরণের দিকটি শিখিয়েছেন। কারও কাছে নিজের হক বা পাওনা থাকলে তা দাবি করা বৈধ; কিন্তু দাবি করার ভঙ্গি যেন ভদ্র ও সংযত হয়। পাওনা আদায় হোক বা না হোক, কথাবার্তায় অশালীনতা ও রূঢ়তা থেকে দূরে থাকা উচিত। এই বাণীতে ঋণ, পাওনা, হক দাবি এবং বিনয়ী আচরণের সুন্দর সমন্বয় আছে। অনেক সময় টাকা-পয়সার কারণে সম্পর্ক নষ্ট হয়; অথচ হাদিসটি মনে করিয়ে দেয়, অধিকার দাবি করলেও চরিত্র হারানো যাবে না। ন্যায্য পাওনা চাইতে হবে, তবে তা হবে মার্জিতভাবে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- নিজের হক দাবি করা যায়, তবে ভদ্রভাবে।
- পাওনা না পেলেও ভাষায় সংযম রাখা উচিত।
- ঋণ লেনদেনে অধিকার ও আদব দুটোই গুরুত্বপূর্ণ।
- বিনয়ী তাগাদা সম্পর্ক রক্ষায় সহায়ক।
