১৬/৫. অধ্যায়ঃ

সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ২৪৪৪ - মূসা (আঃ)-এর শ্রম ও হালাল উপার্জনের শিক্ষা

পেটে-ভাতে শ্রমিক নিয়োগ

মূসা (আঃ)-এর শ্রম: হালাল জীবিকা ও আত্মসংযম

সুনানে ইবনে মাজাহহাদিস নম্বর ২৪৪৪

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُصَفَّى الْحِمْصِيُّ، حَدَّثَنَا بَقِيَّةُ بْنُ الْوَلِيدِ، عَنْ مَسْلَمَةَ بْنِ عُلَىٍّ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي أَيُّوبَ، عَنِ الْحَارِثِ بْنِ يَزِيدَ، عَنْ عُلَىِّ بْنِ رَبَاحٍ، قَالَ سَمِعْتُ عُتْبَةَ بْنَ النُّدَّرِ، يَقُولُ كُنَّا عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ فَقَرَأَ طسم حَتَّى إِذَا بَلَغَ قِصَّةَ مُوسَى قَالَ " إِنَّ مُوسَى ﷺ أَجَّرَ نَفْسَهُ ثَمَانِيَ سِنِينَ أَوْ عَشْرًا عَلَى عِفَّةِ فَرْجِهِ وَطَعَامِ بَطْنِهِ» .

উতবাহ ইবনুল নুদ্দার (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) -এর নিকট উপস্থিত থাকা অবস্থায় তিনি সুরা তা-সীন-মীম পাঠ করলেন। শেষে মূসা (আঃ) -এর ঘটনা পর্যন্ত পৌঁছে তিনি বলেনঃ মূসা (আঃ) আট অথবা দশ বছর যাবত নিজেকে শ্রমিকরূপে নিয়োজিত রেখেছিলেন নিজের লজ্জাস্থান হেফাজতের (বিবাহ) ও পেটের আহারের বিনিময়ে।

[২৪৪৪] হাদিসটি ইমাম ইবনু মাজাহ এককভাবে বর্ণনা করেছেন। ইরওয়া ১৪৮৮। তাহকীক আলবানীঃ খুবই দুর্বল। উক্ত হাদিসের রাবী মুহাম্মাদ ইবনুল মুসাফফা আল-হিমসী সম্পর্কে আবু হাতিম আর-রাযী ও ইমাম নাসাঈ বলেন, তিনি সত্যবাদী। ইবনু হিব্বান তাকে সিকাহ বললেও অন্যত্র বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় ভুল করেন। ইবনু হাজার আল-আসকালানী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে হাদিস বর্ণনায় সন্দেহ ও তাদলীস করেন। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৫৬১৩, ২৬/৪৬৫ নং পৃষ্ঠা)২. মাসলামাহ বিন আলী সম্পর্কে আবু আহমাদ আল-হাকিম বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় দুর্বল। আবুল ফাতহ আল-আযদী বলেন, তিনি প্রত্যাখ্যানযোগ্য। আবুল ফারাজ ইবনুল জাওযী বলেন, তার বিরুদ্ধে জাল (বানিয়ে) হাদিস বর্ণনার অভিযোগ রয়েছে। আবু বকর আল-বুরকানী বলেন, তিনি মিথ্যার সাথে অভিযুক্ত। ইমাম যাহাবী তার হাদিস বর্জন করেছেন। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৫৯৫৮, ২৭/৫৬৭ নং পৃষ্ঠা)

সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ২৪৪৪-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) সূরা তা-সীন-মীম পাঠ করতে করতে মূসা (আঃ)-এর ঘটনার কাছে পৌঁছে একটি কথা বলেন। তিনি জানান, মূসা (আঃ) আট অথবা দশ বছর নিজেকে শ্রমিক হিসেবে নিয়োজিত রেখেছিলেন। এর বিনিময় ছিল নিজের লজ্জাস্থান হেফাজত বা বিবাহ এবং পেটের আহার। হাদিসের কথাগুলো থেকে শ্রম, হালাল উপার্জন, খাবারের প্রয়োজন এবং চরিত্র রক্ষার বিষয়টি সরাসরি বোঝা যায়। এখানে শ্রমিক হওয়াকে ছোট করে দেখা হয়নি; বরং একজন নবীর জীবনের সঙ্গে শ্রমের কথা এসেছে। তাই কাজ করে খাওয়া, চুক্তি অনুযায়ী শ্রম দেওয়া এবং পবিত্র জীবনযাপনের জন্য চেষ্টা করা—এসব শিক্ষা এই বর্ণনায় স্পষ্টভাবে দেখা যায়।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • হালাল জীবিকার জন্য শ্রম করা সম্মানের বিষয়।
  • পেটের আহার ও চরিত্র রক্ষার জন্য বৈধ পথ নেওয়া উচিত।
  • শ্রমিক হিসেবে কাজ করা কোনো হীন বিষয় নয়।
  • চুক্তি অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময় কাজ করা বৈধ জীবিকার অংশ হতে পারে।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন