১৬/৬. অধ্যায়ঃ
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ২৪৪৬ - নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর খাদ্যাভাব ও আলী (রাঃ)-এর শ্রম
এক একটি খেজুরের বিনিময়ে এক বালতি করে পানি উত্তোলন এবং উত্তম খেজুরের শর্তারোপ।
খাদ্যাভাব দূর করতে হালাল শ্রম: আলী (রাঃ)-এর দৃষ্টান্ত
সুনানে ইবনে মাজাহ : ২৪৪৬
সুনানে ইবনে মাজাহহাদিস নম্বর ২৪৪৬
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الأَعْلَى الصَّنْعَانِيُّ، حَدَّثَنَا الْمُعْتَمِرُ بْنُ سُلَيْمَانَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ حَنَشٍ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ أَصَابَ نَبِيَّ اللَّهِ ﷺ خَصَاصَةٌ فَبَلَغَ ذَلِكَ عَلِيًّا فَخَرَجَ يَلْتَمِسُ عَمَلاً يُصِيبُ فِيهِ شَيْئًا لِيُغِيثَ بِهِ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ فَأَتَى بُسْتَانًا لِرَجُلٍ مِنَ الْيَهُودِ فَاسْتَقَى لَهُ سَبْعَةَ عَشَرَ دَلْوًا كُلُّ دَلْوٍ بِتَمْرَةٍ فَخَيَّرَهُ الْيَهُودِيُّ مِنْ تَمْرِهِ سَبْعَ عَشَرَةَ عَجْوَةً فَجَاءَ بِهَا إِلَى نَبِيِّ اللَّهِ ﷺ .
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) খাদ্যাভাবে পতিত হলেন। ‘আলী (রাঃ) তা জানতে পেরে কাজের সন্ধানে বের হলেন, যাতে কিছু রোজগার করে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর খাদ্যাভাব দূর করতে পারেন। তিনি এক ইহুদীর খেজুর বাগানে পৌঁছে প্রতি বালতি পানির বিনিময়ে একটি করে খেজুরের শর্তে (কূপ থেকে) সতের বালতি পানি উঠালেন। ইহুদী তাকে সতেরটি উত্তম খেজুর বেছে নেয়ার এখতিয়ার দিলো। তিনি খেজুরসহ নবী (ﷺ)-এর নিকট উপস্থিত হলেন।
[২৪৪৬] হাদিসটি ইমাম ইবনু মাজাহ এককভাবে বর্ণনা করেছেন। ইরওয়া ৫/৩১৪। তাহকীক আলবানীঃ খুবই দুর্বল। উক্ত হাদিসের রাবী হানাশ সম্পর্কে আবু আহমাদ আল-হাকিম বলেন, তিনি আহলে ইলমের নিকট নির্ভরযোগ্য নয়। আবু বাকর আল-বাযযার বলেন, তিনি যাচাই-বাছাই ছাড়া হাদিস গ্রহণ করেন ও তা বর্ণনা করেন। আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় দুর্বল। আবু যুরআহ আর-রাযী তাকে দুর্বল বলেছেন। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ১৩৩০, ৬/৪৬৫ নং পৃষ্ঠা)
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ২৪৪৬-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর খাদ্যাভাবের কথা এসেছে। আলী (রাঃ) তা জানতে পেরে কাজের সন্ধানে বের হন, যাতে কিছু রোজগার করে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর খাদ্যাভাব দূর করতে পারেন। তিনি এক ইহুদির খেজুর বাগানে যান এবং প্রতি বালতি পানির বিনিময়ে একটি করে খেজুরের শর্তে সতেরো বালতি পানি তোলেন। পরে ইহুদি তাকে সতেরোটি উত্তম খেজুর বেছে নেওয়ার সুযোগ দেয়। আলী (রাঃ) সেই খেজুর নিয়ে নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর কাছে আসেন। এই বর্ণনায় হালাল উপার্জন, পরিশ্রম, নবীর প্রতি ভালোবাসা এবং সাহায্য করার চেষ্টা স্পষ্ট। সামান্য কাজ হলেও তা প্রয়োজনের সময় বড় উপকারের কারণ হতে পারে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- প্রয়োজন মেটাতে হালাল কাজের সন্ধান করা ভালো পথ।
- প্রিয়জনের কষ্ট দূর করতে পরিশ্রম করা প্রশংসনীয়।
- চুক্তি অনুযায়ী কাজ করে বিনিময় নেওয়া বৈধ জীবিকার অংশ।
- অভাবের সময় সামান্য উপার্জনও কাজে লাগতে পারে।
