১৬/১০. অধ্যায়ঃ
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ২৪৬০ - ভাগচাষে আনুগত্য ও জমির সঠিক ব্যবহার
ভাগচাষে যা অপছন্দনীয়
ভাগচাষের বিধান: আল্লাহ ও রাসূলের আনুগত্য বেশি কল্যাণকর
সুনানে ইবনে মাজাহ : ২৪৬০
সুনানে ইবনে মাজাহহাদিস নম্বর ২৪৬০
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى، أَنْبَأَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَنْبَأَنَا الثَّوْرِيُّ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ مُجَاهِدٍ، عَنْ أُسَيْدِ بْنِ ظُهَيْرٍ ابْنِ أَخِي، رَافِعِ بْنِ خَدِيجٍ عَنْ رَافِعِ بْنِ خَدِيجٍ،قَالَ كَانَ أَحَدُنَا إِذَا اسْتَغْنَى عَنْ أَرْضِهِ، أَعْطَاهَا بِالثُّلُثِ وَالرُّبُعِ وَالنِّصْفِ وَاشْتَرَطَ ثَلاَثَةَ جَدَاوِلَ وَالْقُصَارَةَ وَمَا سَقَى الرَّبِيعُ وَكَانَ الْعَيْشُ إِذْ ذَاكَ شَدِيدًا وَكَانَ يَعْمَلُ فِيهَا بِالْحَدِيدِ وَبِمَا شَاءَ اللَّهُ وَيُصِيبُ مِنْهَا مَنْفَعَةً فَأَتَانَا رَافِعُ بْنُ خَدِيجٍ فَقَالَ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ نَهَاكُمْ عَنْ أَمْرٍ كَانَ لَكُمْ نَافِعًا وَطَاعَةُ اللَّهِ وَطَاعَةُ رَسُولِهِ أَنْفَعُ لَكُمْ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ يَنْهَاكُمْ عَنِ الْحَقْلِ وَيَقُولُ «مَنِ اسْتَغْنَى عَنْ أَرْضِهِ فَلْيَمْنَحْهَا أَخَاهُ أَوْ لِيَدَعْ».
রাফি’ ইবনু খাদীজ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমাদের কেউ তার জমির মুখাপেক্ষী না হলে সে তা এক-তৃতীয়াংশ বা এক-চতুর্থাংশ বা অর্ধেক ফসলের শর্তে বর্গা দিতো এবং তিনটি নালার শর্ত করতো (এভাবে যে, সেখানকার ফসল আমি নেবো), আরও শর্ত লাগাতো ভূষি এবং বসন্তকালের পানি থেকে উৎপাদিত ফসল নেয়ার। তখনকার জীবনযাত্রা ছিল খুবই কষ্টকর। তখন জমিতে চাষাবাদ করা হতো লোহা এবং আল্লাহর মর্জিতে অন্যান্য জিনিস দিয়ে, অতঃপর তা থেকে লাভ আসতো।অতঃপর রাফি বিন খাদীজ (রাঃ) আমাদের নিকট এসে বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তোমাদের এমন একটি কাজ থেকে বিরত থাকতে বলেছেন যা ছিল তোমাদের জন্য উপকারী। অবশ্য আল্লাহর আনুগত্য ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য তোমাদের জন্য অধিক উপকারী। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তোমাদের জন্য ভাগচাষ নিষিদ্ধ করেছেন এবং বলেছেনঃ যে ব্যক্তি তার জমির মুখাপেক্ষী নয়, সে যেন তা তার ভাইকে চাষাবাদ করতে ধার দেয় অন্যথায় তা পতিত রাখে।
[২৪৬০] ইবনু মাজাহ ২৪৪৯, ২২৬৭, ২৪৫৮, ২৪৫৯, ২৪৬৫, সহীহুল বুখারী ২২৮৬, ২৩২৭, ২৩৩২, ২৩৩৯, ২৩৪৪, ২৩৪৫, ২৩৪৭, ২৩৮৪, ২৭২২, ৪০১৩, মুসলিম ১৫৪৭, ১৫৮৪, তিরমিযী ১৩০৩, ১৩৮৪, নাসায়ী ৩৮৬৩, ৩৮৬৪, ৩৮৬৫, ৩৮৬৬, ৩৮৬৭, ৩৮৬৮, ৩৮৬৯, ৩৮৭০, ৩৮৭১, ৩৮৮৭, ৩৮৮৮, ৩৮৯০, ৩৮৯৫, ৩৮৯৬, ৩৮৯৭, ৩৮৯৯, ৩৯০০, ৩৯০৪, ৩৯০৫, ৩৯০৬, ৩৯০৭, ৩৯০৮, ৩৯০৯, ৩৯১০, ৩৯১১, ৩৯১২, ৩৯১৩, ৩৯১৪, ৩৯১৫, ৩৯১৬, ৩৯১৭, ৩৯১৮, ৩৯১৯, ৩৯২২, ৩৯২৩, ৩৯২৪, ৩৯২৫, ৩৯২৬, আবূ দাউদ ৩৩৮৯, ৩৩৯১, ৩৩৯২,৩৩৯৩,৩৩৯৪, ৩৩৯৫, ৩৩৯৭, ৩৩৯৯, ৩৪০০, ৩৪০১, ৩৪০২, আহমাদ ৪৪৯০, ৪৫৭২, ৫২৯৭, ১৫৩৭৬, ১৫৩৮৪, ১৫৩৯৭, ১৬৮০৫, ১৬৮২৭, ১৬৮৩৬, মুয়াত্তা মালেক ১৪১৫, ইরওয়া ৫/৩০০। তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ২৪৬০-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে ভাগচাষ ও জমির ব্যবহার নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা এসেছে। সাহাবিদের সময়ে কেউ নিজের জমির দরকার না হলে এক-তৃতীয়াংশ, এক-চতুর্থাংশ বা অর্ধেক ফসলের শর্তে জমি দিতেন। কখনো নির্দিষ্ট নালা, ভূষি বা পানির কারণে ওঠা ফসল নিজের জন্য শর্ত করা হতো। তখন জীবন কঠিন ছিল, তাই এই কাজ মানুষের কাছে উপকারী মনে হতো। কিন্তু রাফি ইবন খাদিজ (রাঃ) জানালেন, রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) এমন কাজ থেকে বিরত থাকতে বলেছেন, যদিও তা লাভের মনে হয়। হাদিসের মূল কথা হলো, আল্লাহ ও রাসূলের আনুগত্য মানুষের লাভের হিসাবের চেয়েও বেশি উপকারী। নিজের জমির দরকার না হলে ভাইকে চাষের জন্য ধার দেওয়া বা পতিত রাখা—এখানে দয়া ও ন্যায়ের শিক্ষা আছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- শুধু লাভ দেখেই সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক নয়; আল্লাহ ও রাসূলের নির্দেশ বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
- জমি অতিরিক্ত হলে ভাইকে চাষের সুযোগ দেওয়া দয়ার একটি সুন্দর রূপ।
- লেনদেনে এমন শর্ত এড়ানো উচিত, যা কারও জন্য ঝামেলা বা অন্যায় হতে পারে।
- কঠিন সময়েও দ্বীনের নির্দেশকে অগ্রাধিকার দেওয়া মুমিনের আচরণ।
