১৬/২০. অধ্যায়ঃ
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ২৪৮০ - পানি বণ্টনে ন্যায় ও নবীজির ফয়সালা
উপত্যকা থেকে পানিসেচ এবং যে পরিমাণ পানি আটকে রাখা যাবে
পানি বণ্টন হাদিস: জমির সেচে ন্যায়বিচার ও নবীজির ফয়সালা
সুনানে ইবনে মাজাহ : ২৪৮০
সুনানে ইবনে মাজাহহাদিস নম্বর ২৪৮০
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ رُمْحٍ، أَنْبَأَنَا اللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الزُّبَيْرِ، أَنَّ رَجُلاً، مِنَ الأَنْصَارِ خَاصَمَ الزُّبَيْرَ عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ فِي شِرَاجِ الْحَرَّةِ الَّتِي يَسْقُونَ بِهَا النَّخْلَ فَقَالَ الأَنْصَارِيُّ سَرِّحِ الْمَاءَ يَمُرَّ . فَأَبَى عَلَيْهِ فَاخْتَصَمَا عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ «اسْقِ يَا زُبَيْرُ ثُمَّ أَرْسِلِ الْمَاءَ إِلَى جَارِكَ». فَغَضِبَ الأَنْصَارِيُّ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَنْ كَانَ ابْنَ عَمَّتِكَ فَتَلَوَّنَ وَجْهُ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ ثُمَّ قَالَ «يَا زُبَيْرُ اسْقِ ثُمَّ احْبِسِ الْمَاءَ حَتَّى يَرْجِعَ إِلَى الْجَدْرِ». قَالَ فَقَالَ الزُّبَيْرُ وَاللَّهِ إِنِّي لأَحْسَبُ هَذِهِ الآيَةَ أُنْزِلَتْ فِي ذَلِكَ ﴾فَلاَ وَرَبِّكَ لاَ يُؤْمِنُونَ حَتَّى يُحَكِّمُوكَ فِيمَا شَجَرَ بَيْنَهُمْ ثُمَّ لاَ يَجِدُوا فِي أَنْفُسِهِمْ حَرَجًا مِمَّا قَضَيْتَ وَيُسَلِّمُوا تَسْلِيمًا﴿.
'আবদুল্লাহ ইবনুয যুবায়র (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
হাররাহ থেকে প্রবাহিত নালার পানি বণ্টনকে কেন্দ্র করে এক আনসারী ব্যক্তি যুবায়র (রাঃ)-এর বিরুদ্ধে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট অভিযোগ দায়ের করে। এ নালা তার খেজুর বাগানে সিঞ্চন করতো। আনসারী বললো, পানি প্রবাহিত হতে দাও। কিন্তু যুবায়র (রাঃ) তা অস্বীকার করেন। তারা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে এই বিবাদ পেশ করলেন।রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, হে জুবায়র, তোমার জমিতে পানি সিঞ্চন কর, অতঃপর তো তোমার প্রতিবেশীর জন্য ছেড়ে দাও। তাতে আনসারী রাগান্বিত হল, এবং বলল হে আল্লাহর রাসূল সে আপনার ফুফুর ছেলে বলে (আপনি এরকম ফয়সালা করলেন) রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর চেহারা রক্তিমাভ হয়ে গেলো। তিনি বলেনঃ হে যুবায়র! তোমার ক্ষেতে পানি দাও, তারপর তা আটকে রাখো যাতে আইল পর্যন্ত উঠতে পারে।যুবায়র (রাঃ) বলেন, আল্লাহর শপথ! আমার ধারণামতে এ সম্পর্কেই নিম্নোক্ত আয়াত নাযিল হয় (অনুবাদ) :“হে মুহাম্মদ! তোমার প্রতিপালকের শপথ! এরা কিছুতেই মুমিন হতে পারে না, যতক্ষণ পর্যন্ত তাদের পারস্পরিক মতভেদের ব্যাপারসমূহে তোমাকে বিচারকরূপে মেনে না নিবে, অতঃপর তুমি যে ফয়সালা করবে, সেই সম্পর্কে তারা নিজেদের মনে কিছুমাত্র কুণ্ঠাবোধ করবে না। বরং এর সামনে নিজেদেরকে পূর্ণরূপে সোপর্দ করে দিবে”। (সূরা নিসাঃ ৬৫)।
[২৪৮০] সহীহুল বুখারী ২৩৬০, মুসলিম ২৩৫৭, তিরমিযী ১৩৬৩, ৩০২৭, নাসায়ী ৫৪০৭, ৫৪১৬, আবূ দাউদ ৩৬৩৭, আহমাদ ১৪২২, ৬/১৫৩, ১০/১০৬, আল-হাকিম ফিল মুসতাদরাক ৩/৩৬৪, ইবনু হিব্বান ৪২, ইবনুল জারুদ ১০২১। তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ২৪৮০-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে পানি বণ্টন নিয়ে একটি বাস্তব বিবাদ দেখা যায়। এক আনসারী ব্যক্তি ও যুবাইর রা.-এর মধ্যে নালার পানি নিয়ে মতভেদ হয়। রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم প্রথমে যুবাইর রা.-কে বলেন, নিজের জমিতে পানি দাও, তারপর প্রতিবেশীর জন্য ছেড়ে দাও। এটি ছিল নরম ও সহজ সমাধান। কিন্তু আনসারী ব্যক্তি রাগ করে এমন কথা বললেন, যাতে নবীজির ফয়সালাকে পক্ষপাতের সঙ্গে যুক্ত করা হলো। তখন রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم পূর্ণ অধিকার অনুযায়ী ফয়সালা দিলেন যে যুবাইর রা. পানি আটকে রাখবেন, যতক্ষণ না তা আইল পর্যন্ত পৌঁছে। এই হাদিস আমাদের শেখায়, জমির পানি সেচ, প্রতিবেশীর অধিকার এবং বিচারকের ফয়সালার ব্যাপারে সংযত থাকা জরুরি।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- পানি বণ্টনের ক্ষেত্রে যার জমি আগে, তার প্রাপ্য অধিকার বিবেচনা করা হয়।
- বিচারকের ন্যায়সঙ্গত ফয়সালাকে রাগের কারণে সন্দেহ করা উচিত নয়।
- প্রতিবেশীর অধিকার রাখা জরুরি, তবে নিজের বৈধ অধিকারও অস্বীকার করা নয়।
- নবীজির ফয়সালা মেনে নেওয়া ঈমানের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হিসেবে এসেছে।
