১৯/৫. অধ্যায়ঃ
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ২৫২৫ - মুহাররাম আত্মীয় মালিক হলে মুক্তি
কেউ রক্ত সম্পর্কের বন্ধনযুক্ত গোলামের মালিক হলে সে স্বয়ং দাসত্বমুক্ত হয়ে যাবে।
মুহাররাম আত্মীয় দাস হলে আপনা আপনি মুক্তির বিধান
সুনানে ইবনে মাজাহ : ২৫২৫
সুনানে ইবনে মাজাহহাদিস নম্বর ২৫২৫
حَدَّثَنَا رَاشِدُ بْنُ سَعِيدٍ الرَّمْلِيُّ، وَعُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ الْجَهْمِ الأَنْمَاطِيُّ، قَالاَ حَدَّثَنَا ضَمْرَةُ بْنُ رَبِيعَةَ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ دِينَارٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ «مَنْ مَلَكَ ذَا رَحِمٍ مَحْرَمٍ فَهُوَ حُرٌّ ".
ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ কেউ নিজের সাথে রক্ত সম্পর্কযুক্ত দাসের মালিক হলে, সে আপনা আপনি আযাদ হয়ে যাবে।
[২৫২৫] হাদিসটি ইমাম ইবনু মাজাহ এককভাবে বর্ণনা করেছেন। ইরওয়া ১৭৪৬। তাহকীক আলবানীঃ সহীহ। উক্ত হাদিসের রাবী দমরাহ বিন রাবীআহ সম্পর্কে আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তিনি সালিহ। আবু সাঈদ বিন ইউনুস আল-মিসরী বলেন, তিনি তাদের যুগে একজন ফকীহ ছিলেন, আহমাদ বিন শু'আয়ব আন-নাসায়ী ও আহমাদ বিন সালিহ আল-জায়লী বলেন, তিনি সিকাহ। ইবনু হাজার আল-আসকালানী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে হাদিস বর্ণনায় কিছু সন্দেহ করেন। যাকারিয়্যা বিন ইয়াহইয়া আস-সাজী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে হাদিস বর্ণনায় সন্দেহ করেন। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ২৯৩৮, ১৩/৩১৬ নং পৃষ্ঠা)
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ২৫২৫-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আগের বর্ণনার মতোই বলা হয়েছে, কেউ নিজের রক্ত সম্পর্কযুক্ত মুহাররাম দাসের মালিক হলে সে আপনা আপনি আজাদ হয়ে যাবে। এখানে ইবনু উমর (রাঃ)-এর সূত্রে একই মূল শিক্ষা এসেছে। হাদিসটি দাসমুক্তি ও আত্মীয়তার অধিকারকে এক জায়গায় নিয়ে আসে। আত্মীয়তা শুধু সামাজিক পরিচয় নয়; ইসলামী শিক্ষায় এর মর্যাদা আছে। একজন মানুষ যদি এমন আত্মীয়ের মালিক হয়, যার সঙ্গে বিবাহ হারাম হওয়ার মতো নিকট সম্পর্ক আছে, তাহলে দাসত্বের সম্পর্ক স্থায়ী থাকে না। এই বর্ণনা আমাদের শেখায়, অধিকার ও সম্পর্কের সীমা বুঝে চলা জরুরি। তাই এই বর্ণনা পড়ার সময় হাদিসের সরাসরি শব্দগুলোকে আলাদা করে দেখা দরকার, যাতে মূল বক্তব্যের বাইরে অতিরিক্ত দাবি যুক্ত না হয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- নিকট রক্ত সম্পর্ককে দাসত্বের অধীনে রাখা যায় না—এ শিক্ষা এসেছে।
- একই বিষয় একাধিক সূত্রে আসা হাদিসের গুরুত্ব বোঝায়।
- আত্মীয়তার সম্মান ইসলামী বিধানে আলাদা স্থান পায়।
