২০/৮. অধ্যায়ঃ
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ২৫৫১ - ক্রীতদাসীর ঘটনায় যেনার বিচার
কেউ নিজ স্ত্রীর ক্রীতদাসীর সাথে যেনা করলে
স্ত্রীর ক্রীতদাসীর সঙ্গে অপরাধে বিচারিক পার্থক্য
সুনানে ইবনে মাজাহ : ২৫৫১
সুনানে ইবনে মাজাহহাদিস নম্বর ২৫৫১
حَدَّثَنَا حُمَيْدُ بْنُ مَسْعَدَةَ، حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ الْحَارِثِ، أَنْبَأَنَا سَعِيدٌ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ حَبِيبِ بْنِ سَالِمٍ، قَالَ أُتِيَ النُّعْمَانُ بْنُ بَشِيرٍ بِرَجُلٍ غَشَى جَارِيَةَ امْرَأَتِهِ فَقَالَ لاَ أَقْضِي فِيهَا إِلاَّ بِقَضَاءِ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ . قَالَ إِنْ كَانَتْ أَحَلَّتْهَا لَهُ جَلَدْتُهُ مِائَةً وَإِنْ لَمْ تَكُنْ أَذِنَتْ لَهُ رَجَمْتُهُ .
নু‘মান ইবনু বাশীর (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
(হাবীব বিন সালিম) বলেন, নু‘মান বিন বাশীর (রাঃ) এর নিকট এক ব্যক্তিকে হাজির করা হলো, যে তার স্ত্রীর ক্রীতদাসীর সাথে যেনা করেছিল। তিনি বলেন, আমি এ ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর ফয়সালার অনুরূপ ফয়সালাই করবো। তিনি বলেন, যদি তার স্ত্রীর ক্রীতদাসীকে তার জন্য হালাল করে দিয়ে থাকে, তবে এ যেনাকারীকে একশত বেত্রাঘাত করবো। আর যদি তার স্ত্রী তাকে অনুমতি না দিয়ে থাকে, তবে তাকে আমি রজম করবো।
[২৫৫১] তিরমিযী ১৪৫১, নাসায়ী ৩৩৬০, ৩৩৬১, ৩৩৬২, আবূ দাউদ ৪৪৫৮, ৪৪৫৯, আহমাদ ১৭৯৩০, দারেমী ২৩২৯। তাহকীক আলবানীঃ যইফ। উক্ত হাদিসের রাবী হাবীব বিন সালিম সম্পর্কে আবু আহমাদ বিন আদী আল-জুরজানী (রহঃ) বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় ইদতিরাব করেন। ইবনু হাজার আল-আসকালানী (রহঃ) বলেন, তার মাঝে কোন সমস্যা নেই। ইমাম বুখারী (রহঃ) বলেন, তার ব্যাপারে সমালোচনা রয়েছে। ইমাম তিরমিযী (রহঃ) ও ইমাম নাসায়ী (রহঃ) বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় ইদতিরাব করেছেন। উক্ত সনদের সকল রাবীই সিকাহ তবে তার হাদিস ইদতিরাব করার কারণে হাদিসটি দুর্বল। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৫/৩৭৪ নং পৃষ্ঠা)
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ২৫৫১-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে হাবীব বিন সালিম (রহঃ) একটি ঘটনার কথা বলেন। নু‘মান বিন বাশীর (রাঃ)-এর কাছে এমন এক ব্যক্তিকে আনা হয়, যে তার স্ত্রীর ক্রীতদাসীর সঙ্গে যেনা করেছিল। তিনি বলেন, এ বিষয়ে তিনি রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর ফয়সালার মতোই ফয়সালা করবেন। যদি স্ত্রী ক্রীতদাসীকে তার জন্য হালাল করে দিয়ে থাকে, তবে তাকে একশত বেত্রাঘাত করা হবে; আর যদি স্ত্রী অনুমতি না দিয়ে থাকে, তবে তাকে রজম করা হবে। হাদিসটির মূল বিষয় হলো বিচারিক অবস্থার পার্থক্য। এখানে অপরাধের ধরন, অনুমতির দাবি এবং তার প্রভাবের কথা এসেছে। তাই হাদিসটি বোঝার সময় শব্দগুলো সতর্কভাবে দেখা দরকার।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- বিচারে ঘটনার অবস্থা ও অনুমতির বিষয় বিবেচিত হয়েছে।
- নু‘মান বিন বাশীর (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর ফয়সালার অনুসরণ করতে চেয়েছেন।
- একই ধরনের ঘটনায় অবস্থা ভেদে শাস্তির পার্থক্য হতে পারে।
- বিচারিক বিষয় বুঝতে হাদিসের ভাষা সতর্কভাবে দেখা দরকার।
