২০/৩২. অধ্যায়ঃ
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ২৬০২ - তা‘যীরের সীমা ও শাস্তিতে সংযম
তা‘যীর প্রসঙ্গ
তা‘যীরের সীমা: শাস্তি নির্ধারণে ভারসাম্যের হাদিস
সুনানে ইবনে মাজাহ : ২৬০২
সুনানে ইবনে মাজাহহাদিস নম্বর ২৬০২
حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ عَيَّاشٍ، حَدَّثَنَا عَبَّادُ بْنُ كَثِيرٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ «لاَ تُعَزِّرُوا فَوْقَ عَشَرَةِ أَسْوَاطٍ».
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমরা দশটি বেত্রাঘাতের অধিক তা‘যীর (শাস্তি) নির্ধারণ করো না।
[২৬০২] হাদিসটি ইমাম ইবনু মাজাহ এককভাবে বর্ণনা করেছেন। তাহকীক আলবানীঃ হাসান। উক্ত হাদিসের রাবী১. ইসমাঈল বিন আয়্যাশ সম্পর্কে ইয়াহইয়া বিন মাঈন বলেন, আহলে শাম থেকে হাদিস বর্ণনায় কোন সমস্যা নেই। আলী ইবনুল মাদীনী, ইবনু আবু শায়বাহ, আমর ইবনুল ফাল্লাস ও দুহায়ম বলেন, শাম শহর থেকে হাদিস বর্ণনায় তিনি সিকাহ কিন্তু অন্য শহর থেকে হাদিস বর্ণনায় দুর্বল। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৪৭২, ৩/১৬৩ নং পৃষ্ঠা)২. আব্বাদ বিন কাসীর সম্পর্কে আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারাক বলেন, তার থেকে হাদিস গ্রহণ করো না। ইয়াহইয়া বিন মাঈন বলেন, তার হাদিস লেখার যোগ্য নয়। আমর বিন খালিদ সম্পর্কে ওকী বিন জাররাহ বলেন, তার থেকে মিথ্যা বলা প্রকাশ পেয়েছে। আহমাদ বিন হাম্বল বলেন, তিনি মিথ্যাবাদী। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৩০৯০, ১৪/১৪৫ নং পৃষ্ঠা)
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ২৬০২-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বলেছেন, দশটি বেত্রাঘাতের বেশি তা‘যীর নির্ধারণ করো না। এখানে তা‘যীর বলতে এমন শাস্তিকে বোঝানো হয়েছে, যা নির্দিষ্ট হদ্দের মতো নয়। হাদিসের ভাষা খুব সংক্ষিপ্ত, কিন্তু শিক্ষা স্পষ্ট। শাস্তি দেওয়ার ক্ষেত্রেও সীমা আছে। অপরাধের কারণে কাউকে শাসন বা দণ্ড দেওয়া হলে তা যেন অতিরিক্ত না হয়। এই হাদিস ইসলামে শাস্তির নামে বাড়াবাড়ি থেকে সতর্ক করে। শাস্তির উদ্দেশ্য প্রতিশোধ নয়; বরং শৃঙ্খলা ও সংশোধনের দিকটি এখানে বোঝা যায়। তাই তা‘যীর শাস্তি নিয়ে আলোচনা করলে এই হাদিসটি খুব গুরুত্বপূর্ণ।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- তা‘যীর শাস্তির ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট সীমা মানতে হয়।
- শাস্তি যেন অতিরিক্ত বা রাগভিত্তিক না হয়।
- ইসলামী শাস্তি ব্যবস্থায় সংযমের শিক্ষা আছে।
- হদ্দ ও তা‘যীরের বিষয় আলাদা করে বোঝা দরকার।
