২১/১০. অধ্যায়ঃ
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ২৬৩৮ - মাথার আঘাতে কিসাসের বদলে সমঝোতা
জখমকারী কিসাসের পরিবর্তে ফিদ্য়া দিলে
মাথার আঘাত ও কিসাস দাবি: ক্ষতিপূরণে সমঝোতা
সুনানে ইবনে মাজাহ : ২৬৩৮
সুনানে ইবনে মাজাহহাদিস নম্বর ২৬৩৮
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَنْبَأَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ بَعَثَ أَبَا جَهْمِ بْنَ حُذَيْفَةَ مُصَدِّقًا فَلاَجَّهُ رَجُلٌ فِي صَدَقَتِهِ فَضَرَبَهُ أَبُو جَهْمٍ فَشَجَّهُ فَأَتَوُا النَّبِيَّ ﷺ فَقَالُوا الْقَوَدَ يَا رَسُولَ اللَّهِ . فَقَالَ النَّبِيُّ ﷺ «لَكُمْ كَذَا وَكَذَا» . فَلَمْ يَرْضَوْا فَقَالَ «لَكُمْ كَذَا وَكَذَا» . فَرَضُوا فَقَالَ النَّبِيُّ ﷺ " إِنِّي خَاطِبٌ عَلَى النَّاسِ وَمُخْبِرُهُمْ بِرِضَاكُمْ " . قَالُوا نَعَمْ . فَخَطَبَ النَّبِيُّ ﷺ فَقَالَ " إِنَّ هَؤُلاَءِ اللَّيْثِيِّينِ أَتَوْنِي يُرِيدُونَ الْقَوَدَ فَعَرَضْتُ عَلَيْهِمْ كَذَا وَكَذَا أَرَضِيتُمْ " . قَالُوا لاَ . فَهَمَّ بِهِمُ الْمُهَاجِرُونَ فَأَمَرَ النَّبِيُّ ﷺ أَنْ يَكُفُّوا فَكَفُّوا ثُمَّ دَعَاهُمْ فَزَادَهُمْ فَقَالَ «أَرَضِيتُمْ» . قَالُوا نَعَمْ . قَالَ " إِنِّي خَاطِبٌ عَلَى النَّاسِ وَمُخْبِرُهُمْ بِرِضَاكُمْ " . قَالُوا نَعَمْ . فَخَطَبَ النَّبِيُّ ﷺ ثُمَّ قَالَ " أَرَضِيتُمْ " . قَالُوا نَعَمْ .قَالَ ابْنُ مَاجَهْ سَمِعْتُ مُحَمَّدَ بْنَ يَحْيَى يَقُولُ تَفَرَّدَ بِهَذَا مَعْمَرٌ لاَ أَعْلَمُ رَوَاهُ غَيْرُهُ .
'আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আবূ জাহম বিন হুযায়ফা (রাঃ) কে যাকাত আদায়কারী নিয়োগ করে পাঠান। এক ব্যক্তি তার যাকাতের ব্যাপারে তার সাথে বিবাদে লিপ্ত হয়। আবূ জাহম (রাঃ) তাকে আঘাত করলে তার মাথা ফেটে যায়। সেই গোত্রের লোকজন নবী (ﷺ) এর নিকট এসে বললো, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমরা কিসাস দাবী করছি। নবী (ﷺ) বলেনঃ তোমরা এতো এতো পরিমাণ মাল পাবে। কিন্তু তারা তাতে রাজী হলো না। তিনি বলেনঃ তোমরা এতো এতো পরিমাণ মাল পাবে। এবার তারা রাজী হয়ে গেল। নবী (ﷺ) বলেনঃ আমি কি লোকদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দিয়ে তোমাদের রাজী হওয়ার বিষয়টি জানিয়ে দিবো? তারা বললো, হাঁ।নবী (ﷺ) ভাষণ দেন এবং বলেনঃ এই লাইস গোত্রের লোকজন আমার নিকট কিসাসের দাবী নিয়ে এসেছে। আমি তাদেরকে এতো এতো পরিমাণ মাল প্রদানের প্রস্তাব করে জিজ্ঞেস করলামঃ তোমরা কি সম্মত হলে? তারা বললো, না। এতে মুহাজিরগণ ক্ষিপ্ত হয়ে তাদেরকে শাস্তি দিতে উদ্যত হলেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাদেরকে বিরত হতে নির্দেশ দিলে তারা বিরত হন। তিনি মালের পরিমাণ আরো বাড়িয়ে তাদেরকে পুনরায় প্রস্তাব দিয়ে বলেনঃ তোমরা কি সম্মত হলে? তারা বললো, হাঁ। তিনি বলেন, আমি কি লোকদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দিয়ে তাদেরকে তোমাদের সম্মত হওয়ার বিষয়টি জানিয়ে দিবো? তারা বললো, হাঁ। অতএব নবী (ﷺ) ভাষণ দিলেন, অতঃপর জিজ্ঞেস করলেনঃ তোমরা কি সম্মত হয়েছ? তারা বললো, হাঁ।ইমাম ইবনু মাজা (রহঃ) বলেন, আমি মুহাম্মাদ বিন ইয়াহিয়া (রহঃ)-কে বলতে শুনেছি, এ হাদীসটি বর্ণনার ক্ষেত্রে মা‘মার নিঃসঙ্গ। তিনি ছাড়া অপর কেউ এটি রিওয়ায়াত করেছেন কিনা তা আমার জানা নেই।
নাসায়ী ৪৭৭৮, আবূ দাউদ ৪৫৩৪। তাহকীক আলবানী (রহঃ)ঃ সহীহ।
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ২৬৩৮-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আবু জাহম বিন হুযাইফা (রাঃ)-কে যাকাত আদায়কারী হিসেবে পাঠানোর ঘটনা এসেছে। এক ব্যক্তি তার যাকাতের বিষয়ে তার সঙ্গে বিবাদে জড়ায়। আবু জাহম (রাঃ) তাকে আঘাত করলে তার মাথা ফেটে যায়। সেই গোত্রের লোকেরা নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর কাছে এসে কিসাস দাবি করে। নবী (صلى الله عليه وسلم) তাদের নির্দিষ্ট পরিমাণ মাল দেওয়ার প্রস্তাব করেন। প্রথমে তারা রাজি হয়নি, পরে পরিমাণ বাড়ানো হলে রাজি হয়। এরপর নবী (صلى الله عليه وسلم) মানুষের সামনে তাদের সম্মতির কথা জানাতে চান এবং তাদের কাছ থেকে সম্মতি নেন। এই হাদিসে কিসাস দাবি, ক্ষতিপূরণ, সম্মতি এবং বিরোধ মেটানোর শান্ত পথ দেখা যায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- আঘাতের ঘটনায় কিসাস দাবি উঠলেও ক্ষতিপূরণের মাধ্যমে সমঝোতা হতে পারে।
- সমঝোতার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট পক্ষের সম্মতি গুরুত্বপূর্ণ।
- বিরোধ মেটাতে ধৈর্য ও পুনরায় আলোচনা করা দরকার।
- জনসমক্ষে সম্মতির বিষয় পরিষ্কার করা ঝগড়া কমাতে সাহায্য করে।
