২১/২৯. অধ্যায়ঃ
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ২৬৮০ - নির্যাতিত দাসের অধিকার ও মুক্তি
মালিকের দ্বারা গোলামের অঙ্গহানি হলে সে দাসত্বমুক্ত হয়ে যাবে
নির্যাতিত দাসের অধিকার: অন্যায়ের বিরুদ্ধে মুসলিমের দায়িত্ব
সুনানে ইবনে মাজাহ : ২৬৮০
সুনানে ইবনে মাজাহহাদিস নম্বর ২৬৮০
حَدَّثَنَا رَجَاءُ بْنُ الْمُرَجَّى السَّمَرْقَنْدِيُّ، حَدَّثَنَا النَّضْرُ بْنُ شُمَيْلٍ، حَدَّثَنَا أَبُو حَمْزَةَ الصَّيْرَفِيُّ، حَدَّثَنِي عَمْرُو بْنُ شُعَيْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، قَالَ جَاءَ رَجُلٌ إِلَى النَّبِيِّ ﷺ صَارِخًا فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ «مَا لَكَ» . قَالَ سَيِّدِي رَآنِي أُقَبِّلُ جَارِيَةً لَهُ فَجَبَّ مَذَاكِيرِي . فَقَالَ النَّبِيُّ ﷺ " عَلَىَّ بِالرَّجُلِ " . فَطُلِبَ فَلَمْ يُقْدَرْ عَلَيْهِ . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ " اذْهَبْ فَأَنْتَ حُرٌّ " . قَالَ عَلَى مَنْ نُصْرَتِي يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ يَقُولُ أَرَأَيْتَ إِنِ اسْتَرَقَّنِي مَوْلاَىَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ " عَلَى كُلِّ مُؤْمِنٍ أَوْ مُسْلِمٍ " .
আবদুল্লাহ বিন আমর ইবনুল আস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
এক ব্যক্তি চিৎকার করতে করতে নবী (ﷺ)-এর নিকট উপস্থিত হলো। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে জিজ্ঞেস করেনঃ তোমার কী হয়েছে? সে বললো, আমার মনিব আমাকে তার এক দাসীকে চুম্মা দিতে দেখে আমার পুরুষাঙ্গ কেটে ফেলেছে। নবী (ﷺ) বলেনঃ লোকটিকে আমার নিকট নিয়ে এসো। কিন্তু তাকে অনুসন্ধান করে পাওয়া গেল না। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ যাও, তুমি স্বাধীন। সে বললো, ইয়া রাসুলুল্লাহ! কে আমাকে সাহায্য করবে? রাবী বলেন, সে বলছিল, আপনি কী মনে করেন, আমার মনিব যদি আমাকে ছিনিয়ে নিয়ে আবার গোলাম বানায়? রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ তোমাকে সাহায্য করা প্রত্যেক মুমিন মুসলমানের কর্তব্য।
[২৬৮০] আবূ দাউদ ৪৫১৯, ইরওয়া ১৭৪৪। তাহকীক আলবানীঃ হাসান। উক্ত হাদীসের রাবী হামযাহ আস-সায়রাফী সম্পর্কে আবু হাতিম বিন হিব্বান বলেন, তিনি হাদীস বর্ণনায় ভুল করেন। ইবনু হাজার আল-আসকালানী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে হাদীস বর্ণনায় সন্দেহ করেন। ইমাম দারাকুতনী বলেন, তার হাদীসের অনুসরণ করা যাবে না। ইমাম যাহাবী বলেন, তিনি দুর্বল। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ২৬৩৬, ১২/২৩৬ নং পৃষ্ঠা)
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ২৬৮০-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে দাসের প্রতি বড় ধরনের অন্যায়ের ঘটনা এসেছে। একজন মনিব তার দাসকে নিজের দাসীকে চুমু দিতে দেখে তার পুরুষাঙ্গ কেটে ফেলে। দাসটি কাঁদতে কাঁদতে নবী صلى الله عليه وسلم-এর কাছে আসে। রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم প্রথমে অপরাধী মনিবকে হাজির করতে বলেন। কিন্তু তাকে পাওয়া যায়নি। এরপর তিনি নির্যাতিত দাসকে বলেন, “যাও, তুমি স্বাধীন।” এখানে মূল শিক্ষা হলো, ক্ষমতার জোরে কারও শরীরের ক্ষতি করা ভয়ংকর অন্যায়। দাস হলেও তার মানবিক অধিকার আছে। হাদিসের শেষ অংশে দাসটি আশ্রয় ও সাহায্য নিয়ে ভয় প্রকাশ করলে রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم বলেন, তাকে সাহায্য করা প্রত্যেক মুমিন বা মুসলমানের দায়িত্ব। তাই এই হাদিস দাস মুক্তি, মজলুমের সাহায্য এবং জুলুমের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর স্পষ্ট শিক্ষা দেয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ক্ষমতার অপব্যবহার করে দুর্বল মানুষের শরীরের ক্ষতি করা গুরুতর অন্যায়।
- নির্যাতিত ব্যক্তিকে সাহায্য করা মুসলিম সমাজের দায়িত্ব।
- দাস হলেও তার সম্মান, নিরাপত্তা ও অধিকার আছে।
- অন্যায়ের শিকার মানুষকে একা ফেলে রাখা উচিত নয়।
