২৩/৬. অধ্যায়ঃ
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ২৭৩১ - ভিন্ন ধর্মের মধ্যে উত্তরাধিকার নেই
মুসলমান ব্যক্তি মুশরিক ব্যক্তির ওয়ারিস হলে
ভিন্ন ধর্মের উত্তরাধিকার: পরস্পরের ওয়ারিস না হওয়ার নীতি
সুনানে ইবনে মাজাহ : ২৭৩১
সুনানে ইবনে মাজাহহাদিস নম্বর ২৭৩১
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ رُمْحٍ، أَنْبَأَنَا ابْنُ لَهِيعَةَ، عَنْ خَالِدِ بْنِ يَزِيدَ، أَنَّ الْمُثَنَّى بْنَ الصَّبَّاحِ، أَخْبَرَهُ عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ قَالَ " لاَ يَتَوَارَثُ أَهْلُ مِلَّتَيْنِ " .
আবদুল্লাহ বিন আমর ইবনুল আস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসুলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ দু’ ভিন্ন ধর্মের লোক পরস্পরের ওয়ারিস হবে না।
[২৭৩১] আবূ দাউদ ২৯১১, আহমাদ ৬৬২৬, ৬৮০৫, ইরওয়া ৬/১২০-১২১, আস-সহীহ ২৫৮৬, মিশকাত ৩০৪৬-৩০৪৭। তাহকীক আলবানীঃ হাসান সহীহ। উক্ত হাদিসের রাবী১. ইবনু লাহীআহ সম্পর্কে ইয়াহইয়া বিন মাঈন বলেন, তার হাদিসের ব্যাপারে কোন সমস্যা নেই। আমর বিন ফাল্লাস বলেন, তার কিতাব সমূহ পুড়ে যাওয়ায় হাদিস বর্ণনায় সংমিশ্রণ করেন। কিতাব সমূহ পুড়ে যাওয়ায় যে হাদিস বর্ণনা করেছেন তা দুর্বল। আবু কাসিম বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় সংমিশ্রণ করেন। আবু বকর আল-বায়হাকী বলেন, তার হাদিস দলীল হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয়। আবু হাতিম আর-রাযী তাকে দুর্বল বলেছেন। ইবনু হাজার আল-আসকালানী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে তার কিতাব সমূহ পুড়ে যাওয়ার পর হাদিস বর্ণনায় সংমিশ্রণ করেন। বিশর ইবনুস সারী বলেন, যদি তার সাথে আমার সাক্ষাৎ হত তবে আমি তার থেকে কোন হাদিস গ্রহণ করতাম না। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৩৫১৩, ১৫/৪৮৭ নং পৃষ্ঠা)২. মুসান্না ইবনুস সাব্বাহ সম্পর্কে আবু আহমাদ আল-হাকিম বলেন, তিনি আহলে ইলমের নিকট নির্ভরযোগ্য নয়। আবু আহমাদ বিন আদী আল-জুরজানী বলেন, পূর্ব ইমামগণ তাকে দুর্বল হিসেবে উল্লেখ করেছেন। আবু হাতিম আর-রাযী ও ইমাম তিরমিযি বলেন, তিনি যাচাই-বাছাই ছাড়া হাদিস গ্রহণ করেন ও তা বর্ণনা করেন। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৫৭৭৩, ২৭/২০৩ নং পৃষ্ঠা)
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ২৭৩১-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বলেছেন, দু’ ভিন্ন ধর্মের লোক পরস্পরের ওয়ারিস হবে না। এটি মীরাস বা ওয়ারিসী স্বত্বের একটি সরল ও স্পষ্ট নীতি। এখানে কোনো দীর্ঘ ঘটনা বা অতিরিক্ত ব্যাখ্যা নেই; বরং একটি বাক্যে বিষয়টি পরিষ্কার করা হয়েছে। উত্তরাধিকার নিয়ে পারিবারিক আবেগ, সামাজিক দাবি বা সম্পদের পরিমাণ অনেক সময় মানুষকে প্রভাবিত করতে পারে। কিন্তু এই হাদিস মনে করিয়ে দেয়, মীরাসের ক্ষেত্রে ধর্মীয় ভিন্নতা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তাই ফারায়েজের হিসাব করতে গেলে শুধু সম্পর্কের নাম নয়, হাদিসে বর্ণিত শর্তগুলোও জানা দরকার। হাদিসের ভাষা সংক্ষিপ্ত হলেও এর শিক্ষা সম্পদ বণ্টনে সতর্ক ও ন্যায়ভিত্তিক থাকার দিকে ডাকে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- দুই ভিন্ন ধর্মের লোক পরস্পরের ওয়ারিস হবে না বলে হাদিসে এসেছে।
- মীরাস বণ্টনে ধর্মীয় অবস্থা বিবেচনার বিষয়।
- সংক্ষিপ্ত নববী বাণীও উত্তরাধিকারের বড় নীতি দেয়।
- সম্পদ বণ্টনে আবেগের চেয়ে দলিল অনুসরণ করা দরকার।
